বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:২০ অপরাহ্ন

বেশিরভাগ কওমি মাদ্রাসা চামড়া সংগ্রহে মাঠে নামেনি

যুবকণ্ঠ ডেস্ক:

কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ ও বিক্রি কওমি মাদ্রাসাগুলোর অন্যতম আয়ের উৎস। মূলত এতিম, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন খরচ জোগাতে অন্যান্য সাহায্যের পাশাপাশি চামড়া সংগ্রহ করে মাদ্রাসাগুলো। তবে চামড়ার উপযুক্ত দাম না পাওয়া, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের সরকারি ঘোষণার কারণে অনেক মাদ্রাসাই এবার চামড়া সংগ্রহে মাঠে নামেনি। বিগত বছরের তুলনায় এবারের ঈদে চামড়া সংগ্রহে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম।

জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরেই কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করে উপযুক্ত দাম না পাওয়ায় চামড়া রাস্তায়, ডাস্টবিন, নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কওমি মাদ্রাসাগুলোর চামড়া থেকে আয়ের বদলে চামড়া সংগ্রহে খরচ হয়েছে বেশি। ফলে সংকটের মুখে পড়ে কওমি মাদ্রাসাগুলো। এবার অনেক মাদ্রাসাই চামড়া সংগ্রহ করতে মাঠে নামেনি। অন্যদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষার লক্ষ্যে ৩১ জুলাই পর্যন্ত কওমি মাদ্রাসাসহ সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছে সরকার। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বাড়িতে চলে যাওয়ায় অনেক মাদ্রাসা চামড়া সংগ্রহে তাদের মাঠে নামাতে পারেনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, ছাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কিছু কিছু মাদ্রাসা অল্প মানুষ দিয়ে চামড়া সংগ্রহের চেষ্টা করেছে। চামড়ার দাম কমে যাওয়ায় বিগত বছরে অনেক মাদ্রাসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে এবার অনেকে  চামড়া সংগ্রহ করছে না।

মিরপুর, আজিমপুর, কলাবাগান, চৌধুরীবাজার, নিউ পল্টন লাইন এলাকা ঘুরে অল্প সংখ্যক মাদ্রাসা ছাত্রকে চামড়া সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। মাদ্রাসা ছাত্রদের চেয়ে শিক্ষক ও কর্মচারীদের উপস্থিতি ছিল বেশি। একটি কওমি মাদ্রাসার মেশকাত জামাতের ছাত্র আবরার বলেন, ‘এবার কোরবানির ঈদে মাদ্রাসা বন্ধ। তবে  সিনিয়র ক্লাসের কিছু ছাত্র মাদ্রাসায় ছিলেন, তবে  আগের তুলনায় অনেক কম। তাদের কেউ কেউ চামড়া সংগ্রহে গিয়েছেন।

গত বছর ৮ মার্চ দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হলে ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার।  দফায় দফায় ছুটি বাড়িয়ে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত করা হয়। তবে মাঝে  কওমি মাদ্রাসাগুলো খোলার অনুমতি দিয়েছিল সরকার। যদিও পরবর্তীকালে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আবার বন্ধের নির্দেশ দেয় সরকার। বেশিরভাগ মাদ্রাসা বন্ধ থাকায় চামড়া সংগ্রহের জনবল না থাকায় অনেকে এবার বিরতি দিয়েছে চামড়া সংগ্রহে।

কওমি মাদ্রাসাগুলোর সূত্র জানায়, কওমি মাদ্রাসা পরিচালিত হয় দান-অনুদানে। জাকাত, চামড়ার টাকা ব্যবহার করা হয়  এতিম ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ব্যয় বহন করতে। আর এই শিক্ষার্থীদের থাকা, খাওয়া ও পড়ানোর খরচ নেয় না মাদ্রাসাগুলো। চামড়ার আয় থেকে কোনও কোনও মাদ্রাসা ৬ মাস পর্যন্ত এতিম ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ব্যয় বহন করতে পারে।

আল হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বলেন, এবার তো মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী নেই। এখন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সক্ষমতা অনুযায়ী চেষ্টা করছে। অনেক মাদ্রাসায় এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে চামড়া দিয়ে যায়।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Website maintained by Masum Billah