শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:০৬ পূর্বাহ্ন

পথ হারাবে না কওমী মাদরাসা- মুফতি মনোয়ার হোসেন

একটি প্রতিকূল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দারুল উলূমের যাত্রা শুরু হয়েছিল। এ যাত্রাটি খুব সুখকর ও আরম্বড় ছিল না। গাছের নিচে একজন ছাত্র নিয়ে একজন শিক্ষকের পাঠদান শুরু করা হয়েছিল। ১৫৫ বছর আগে ১৮৬৬ সালের এ সময়টি ছিল বৃটিশ বেনিয়াদের দৌরাত্মপূর্ণ সময়। মুসলিমদের নিকট থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে আড়াই লক্ষ মাদরাসা বন্ধ করে, সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে তারা ‘কেরানী’ তৈরী করার স্কুল বানায়, উদ্দেশ্য, এখানে পড়ুয়ারা তাদের ক্ষমতার মোসাহেবি করবে এবং তাদের লূন্ঠিত সম্পদের পাহারাদারী ও হিসাব-কিতাব করে প্রভুদের সুইস ব্যাংকে গচ্ছিত রাখবে।ওদের সে উদ্দেশ্য সফল হয়েছে, প্রমাণ- এই গরীব বাংলাদেশ থেকে তার অবৈধ সন্তানরা গরীব মানুষের অর্জিত কয়েক লক্ষকোটি টাকা পাচার করে তাদের ব্যাংকে রাখছে। তার ফল ওরা এখনো ভোগ করছে। চারপাশে শিক্ষিত গোলামগুলো ওদের ঐ চাপরাশি যারা নিয়ত তাদের অর্থ যোগান দেয়।আপনারা যাদেরকে শিক্ষিত ও বুদ্ধিজীবি মনে করেন।
.
এর বিপরীতে পরাধীন ভারতে ধ্বসে পড়া ইসলামি শিক্ষাকে পুনরুজ্জীবিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত করার মহান লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে তৎকালীন দেওবন্দ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠা। মূলনীতি ছিল ইসলামের সঠিক বিষয়গুলোর চর্চা, নবীওয়ালা কাজের আঞ্জাম দেয়া। এর অন্যতম ছিল, বৃটিশ খেদাও আন্দোলন।আর বৃটিশ খেদানোর জন্য কী আন্দোলন ছিল? দাওয়াত? জি, না। সে আন্দোলন ছিল-/কি/তা*ল ফি সাবিলিল্লাহ। উসূলে হাশতেগানা বা আটটি মূলনীতির অন্যতম ২য়টি হলো-ব্যাপকহারে ছাত্র ভর্তি করে তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে আধিপত্যবাদী ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ পরিচালনার জন্য সুশিক্ষিত এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাহিনী গঠন।(দেখুন, দারুল উলূমের উসূলে হাশতেগানা)
.
সেটা কিভাবে করতে হয় তা দারুল উলূমের পূর্বসূরীরা দেখিয়েছেন। শামেলীর প্রান্তরে আবুল কাসেম নানুতবীর সেনাপতিত্বে যে লড়াই হয়েছিল সেখানে সামরিকভাবে পরাজয় বরণ করা পরই নতুন সৈনিক রিক্রট করে লড়াইয়ের স্ট্রাটেজিক রুট পরিবর্তনই ছিল দারুল উলূমের অন্যতম কাজ যেটাকে নবীওয়ালা কাজ বলা হয়।
.
আবায়ে দারুল উলূম দেওবন্দ যে উদ্দেশ্যে এই ত্যাগ করেছিলেন তা ব্যর্থ হয় নি। আলহামদুলিল্লাহ, ডালিম গাছের নিচের সে দারস ১৫৫ বছরে মরোক্ক খেকে তিউনিস, মাগরিব থেকে মাশরিক পর্যন্ত তার আলো ছড়িয়েছে। পৃথিবীর যত দ্বীনি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, আধুনিক উত্তর আধুনিক সকলেই এর কাছে ঋণি।
.
পৃথিবীতে যাত হারাকাত হয়েছে সকল সফল হারাকাতের পেছনে এই উলুমে দীনের অবদান আছে। পৃথিবীর প্রতিষ্ঠিত বিদ্যাপীঠগুলো যারা দ্বীনের নাহজে সহীহ ও পূর্ণাঙ্গ তারা এই দারুল উলুমের সান্নিধ্যে তা অর্জন করেছে। এশিয়া, আফ্রিকাসহ সকল মহাদেশে দ্বীনের এই মহান খেদমত বিস্তৃত।
.
আমি কোড আনকোড বলতে চাই, যারা এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা-দীক্ষার সান্নিধ্যে আসতে পারে নি তারা অসম্পূর্ণ রয়েছে। বিশেষ করে, পৃথিবীতে নবী মুহাম্মাদ স.এর রেখে যাওয়া মাজলূম আমল যারা করেছে তারা যদি এখান থেকে সান্নিধ্য না পেয়ে থাকে তারা অপূর্ণাঙ্গ, উদারহরণ আছে, দেশে ও দেশের বাইরে। বুঝে নিন। আর যারা সফল হয়েছে, সঠিক মা/ন/হা>জে আছে তারা এর সান্নিধ্যে ঋদ্ধ হয়েছে।
.
১৫৫ বছর পথ চলতে এই প্রতিষ্ঠান অনেক চড়াই উৎরাই পার করেছে। অনেক অবাঞ্চিত মানুষজন, ধান্দাবাজ এখানে তৈরী হয়েছে।এরা দারুল উলূম দেওবন্দ সিলসিলায় পড়লেও আদর্শিক দিক থেকে তারা এর সন্তান হতে পারে নি। এদের কেউ খানকা খুলে নিজের সিন্ডিকেট বানিয়েছে, কেউ বাতিলদের সাথে আপোষ করে,চাতুর্যতা করে ক্ষমতার স্বাদ নিয়েছে। কেউ রাসুলের রেখে যাওয়া আমলগুলো ছেটে ফেলেছে। এরা কেউ না। যারা উসূলে হাশতেগানা থেকে বের হয়েছে ওনারা শাইখুল হাদীস হলেও, মুফতি হলেও ওরা দারুল উলূমের সন্তান নয়। আবার যারা পড়েনি কিন্তু এই চিন্তার সাথে একমত হয়েছে ওনারও এর আদর্শিক সন্তান।
.
আমাদের পিতারা ভুল করেন নি। আমাদের পিতারা তাকওয়ার উপর এর ভিত্তি রেখেছেন। যুগ যুগ ধরে এর অবদান থাকবে। এর স্বপ্ন বাস্তবায়নে এর সন্তানরা সদা জাগ্রত থাকবে। একুশ শতক, হক বাতিল পৃথক হওয়ার শতক।তাই চোখ কান খুলে রাখুন, ভয় করার কারণ নেই। আমরা যতক্ষণ ঈমানের পথে থাকবো আমরাই বিজয়ী হবো। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছে, -তোমরা চিন্তিত হয়োনা, হীনবল হয়োনা তোমরাই বিজয়ী হবে যদি তোমরা ঈমানদার হও। অতএব, মেঘ দেখে তুই করিসনে ভয় আড়ালে তার সূর্য্য হাসে– নাসরুম মিনাল্লাহি ওয়া ফাতহুন করিব, ওবাশশিরীল মু’মিনীন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Website maintained by Masum Billah