শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম:
ভোলায় রাসূল সা.-কে অবমাননাকারী গৌরাঙ্গকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে: হেফাজত বঙ্গবন্ধু ছিলেন সব দিকেই দক্ষ একজন রাষ্ট্রনায়ক: আ ক ম মোজাম্মেল ইভ্যালিতে প্রতারিতরা কি টাকা ফেরত পাবেন? ভারতে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ৭৭টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে ‘তালেবান ক্ষমতায় আসার পর এখন আর ঘুষ দিতে হয় না’ ভোলায় মহানবীকে অবমাননার প্রতিবাদে বিক্ষোভ-সমাবেশ আমি প্রেসিডেন্ট হলে ফ্রান্সে মুহাম্মদ নাম নিষিদ্ধ করা হবে এহসান গ্রুপে ৩০ লাখ টাকা খুইয়ে স্ট্রোক করে বৃদ্ধের মৃত্যু দেশকে রক্ষা করতে একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী গঠন করব: আফগান সেনাপ্রধান ৯৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১০ লাখ মানুষকে ঘর তৈরি করে দিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী

কেমন স্ত্রী নির্বাচন করবেন

  •  তরিকুল ইসলাম মুক্তার

ছেলে মেয়ে উবয়ে যখন প্রাপ্তবয়সে উপনীত হয় তখন পিতা মাতা সন্তানদের বিবাহ করানোর জন্য ফিকির করেন। এ ক্ষেত্রে বর্তমানে পাত্র পাত্রীর যোগ্যতা নির্ণয় করা হয় পুরুষের ইনকামের উপর আর নারীর সৌন্দর্য চেহারার উপর। শুধু এইটুকুর উপর ভিত্তি করা সমীচীন নয় চারটি ক্ষেত্রে স্বামী উপরে থাকতে হবে । ন‌ইলে ব‌উয়ের অবজ্ঞার পাত্র হওয়ার সম্ভভাবনা রয়েছে। বয়স, উচ্চতা সম্পদ। বংশমর্যাদা। আর চার ক্ষেত্রে স্ত্রী উপরে থাকতে হবে। সৌন্দর্য। শিষ্টাচার, বিনয়ী। তাক‌ওয়া-পরহেযগারি।স্বভাব-চরিত্র। সাধারণত কয়েকটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য করে নারীদেরকে বিয়ে করা হয়।প্রথমত সম্পদের কারণে। কোন নারী সম্পদশালী হলে তার কাছে সবাই বিয়ের মেসেজ পাঠায়,যাতে তার সম্পদ দিয়ে নিজেও ধনী হতে পারে। দ্বিতীয়তো নারীর বংশমর্যাদার কারণে বিয়ে করা হয়। তৃতীয়তো নারীর রুপ সৌন্দর্য। চতুর্থতো তার ধর্মপরায়ণতা ও খোদাভীতি দেখে বিয়ে করা হয়। জীবনের চাওয়া যদি সৌন্দর্য উপর নির্ভর করা হয় তাহলে এর থেকে ভালো কিছু আশা করা যায়না। যদি মূলভিত্তিই দুর্বল হয় তবে জীবন কী করে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। যিনি শুধু রুপই দেখেন। আর বাইরের সেই সৌন্দর্য কদিন থাকে? এটা মাত্র কয়েক বছরের জন্য। যৌবন রুপ সব সময় থাকে না।যার ভিত্তিই দুর্বল এর উপর স্থাপিত ঘরও দুর্বল৷ হবে।ভালোচরিত্র এবং ভদ্রতা এমন এক জিনিস যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে। তাই এ ভিত্তির ওপর যে ঘর প্রতিষ্ঠিত হবে সে ঘর দীর্ঘস্হায়ী ও মজবুত হবে। এজন্য ধর্মপরায়ণতা ও সতচরিত্রের দিকে লক্ষ্য রেখে স্ত্রী নির্বাচন করুন। কারণ রুপবর্তী স্ত্রী স্বামী যখন তাকে দেখে তখন তার চোখ শীতল ও আকর্শন হয়, আর গুণবতী স্ত্রীর স্বামী যখন তাকে দেখে তখন তার মন শীতল ও আকর্শন হয়। তাই চোখকে শীতল করার বদলে নিজের মনকে শান্ত ও শীতল করাই সবচেয়ে উত্তম হবে মনে করি। এক হাদিসে আছে,দুনিয়ার সবকিছুই ভোগ করার জন্য আর এ দুনিয়ার অন্যতম ভালো উপভোগ্য বস্তু হচ্ছে স্বতীস্রী।আল্লাহ তাআলা যাকে স্বতীস্ত্রী দিয়েছেন বুঝতে হবে আল্লাহ তায়ালা তাকে সবচেয়ে বড় সম্পদ দান করেছেন। হাদিসে রয়েছে, সমস্ত কাজের বদলা নিয়তের উপর নির্ভরশীল। নিয়তে যখন শুধু সম্পদ আশা হবে তখন দেখবেন ঝগরা ফাসাদ লেগেই আছে। নিয়তে যদি শুধুই রুপ সৌন্দর্য হয়,তখন আপনি দেখবেন ঝগড়া ফাসাদ মনোমালিন্য লেগেই আছে। আর যখন গুণ ও বংশমর্যাদা দেখে বিয়ে করা হয় তখন উদ্দেশ্য থাকে আমি পবিত্রতার সাথে জীবন কাটাতে চাই। যখন উদ্দেশ্য এই থাকে তখন সঠিক নিয়তের কারণে ঘর আবাদ হয়ে যায়।হাদিসে বর্ণিত আছে, আল্লাহভীতির পর মানুষ যে জিনিস থেকে সবচেয়ে বেশি লাভমান হয় তা হচ্ছে পুণ্যবান স্ত্রী। তাকে যদি কোন কাজের নির্দেশ দেয়া হয় তবে সে তা পালন করে। যখন তার দিকে চোখ তুলে তাকানো হয় তখন মন শান্ত ও খুশি হয়ে যায়। যদি স্বামী কখনো এমন কসম খায় যা তার স্ত্রীর পূরণ করার মতো তবে স্ত্রী তা পূরণ করে। আর যদি কখনো সে তার স্ত্রী থেকে দুরে কোথাও যায় তবে স্ত্রী তার মাল সামানা জিনিস পত্র ও নিজের ইজ্জত হেফাজত করে।( ইবনেমাজাহ) এ হাদিসে পূণ্যবান স্ত্রী গুণ বলা হয়েছে। একবার রাসুলে করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মজলিসে আলোচনা হচ্ছিলো দুনিয়ার নারীদের মধ্যে সেরা নারী কে? অনেকজন অনেক রকম করে সেরানারীদের গুণ বলতেছিলো। এভাবে আলোচনা চলতে থাকলো।হযরত আলি( রাযি.) কোন কাজে ঘরে গেলেন।তিনি হযরত ফাতেমা (রাযি.) কে বললেন রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মজলিসে এ বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে, দুনিয়ার সেরা নারী কে? এ নিয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।হযরত ফাতেমা (রাযি.) বললেন আমি কি বলবো দুনিয়ার সেরা নারী কে? হযরত আলি (রাযি) বললেন অবশ্যই বলো। ফাতেমা( রাযি.) বললেন সেরা নারীর গুণ হলো, সে নিজেও বেগানা কোন পুরুষের দিকে তাকায় না আর কোন বেগানা পুরুষ ও তার দিকে চোখ তুলে তাকায় না।হযরত আলি (রাযি.) মজলিসে ফিরে এলেন এবং রাসুল (সাঃ) কে বললেন, আল্লাহর রাসুল আমার স্ত্রী ফাতেমা সেরা নারীর গুণ এই বলেছেন, যে কোনো বেগানা পুরুষের দিকে তাকিয়ে দেখে না আর কোনো বেগানা পুরুষও তার দিকে ফিরে তাকায় না। হযরত নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন হ্যাঁ ফাতেমা ঠিকই বলেছে এটাই সেরা নারীর গুণ। আর নারীদের মধ্যে লজ্জার আভাস থাকা, এটা মৌলিক বিষয় যে নারীর চেহারায় লজ্জার ঝলক থাকে তার মনও লজ্জাশীলতায় ভরপুর থাকে, নারীদের মধ্যে লজ্জা থাকা এটা অন্য রকম একটা গুণ বলে বিবেচিত হয়। নারীদের মাঝে তিনটি গুণ অবশ্যই থাকা প্রয়োজন, প্রথম গুণ হচ্ছে, নারীদের মধ্যে ভাষার মিষ্টতা থাকা। তথা যা কিছু বলেন তা কানে মিষ্টি মধুর মতো মনে হয়। এমন নয় যে সবসময় স্বামীকে বকাঝকা করতে থাকে, বাচ্চাদের নিয়ে চিল্লাচিল্লি গালিগালাজ করতে থাকে। দ্বিতীয় গুণ হচ্ছে, তার মনে কল্যানকামনা থাকা। তথা তার মন মানসিকতা ভালো হয়। তৃতীয় গুণ হচ্ছে, তার হাত সবসময় কাজে লেগে থাকা। এসব গুণ যে নারীর মাঝে পাওয়া যাবে সে নিশ্চিত আদর্শ ও গুণবতী স্ত্রী হিসাবে জীবন কাটাতে পারবে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সঠিক জীবন সঙ্গীনি নির্ণয় করার তৌফিক দান করুন। আমিন লেখকঃ শিক্ষার্থী জামিয়াতুন নূর আল কাসেমীয়া উত্তরা ঢাকা।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Website maintained by Masum Billah