শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৩৭ অপরাহ্ন

সাহসই শক্তি : দুনিয়া শক্তিশালীকেই স্যালুট করে

পৃথিবীতে ভীতুদের কোন স্থান নেই। বিশেষকরে রাজনীতিতে যারা কাজ করতে চায়, টিকে থাকতে চায়, বিজয়ী হতে চায়, তাদেরকে হতে হবে প্রচন্ডরকম সাহসী। আত্মবিশ্বাসী। যারা সবসময় সংশয়ের দোলাচলে ডুবতে থাকে তারা রাজনীতিতে সফল হতে পারে না। আদর্শে যারা অবিচল থাকতে পারে না, আঘাতে যারা ভেঙ্গে যায়, আকাশে কালো মেঘ দেখলেই যারা সমঝোতার পথে চলে যায় তারা কখনো নেতৃত্ব দিতে পারে না। বিশেষ করে যারা ইসলামী রাজনীতি করে, তাদের সামনেতো সবকিছুই পরিস্কার থাকে। তাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সবই তো কুরআন-সুন্নাহ দ্বারা সুনিয়ন্ত্রিত। তাদেরতো ছুটোছুটি করার কিছু নেই। ঐশী বিধানে কোন পরিবর্তন নেই। সংশয়বাদিতার কোন সুযোগ নেই। কিন্তু তারপরও বর্তমান বিশ্বে ইসলামপন্থীরাই সবচেয়ে বেশি দূদোল্যমান থাকতে দেখা যায়।
আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেখে রাজনীতির অনেক কিছু শেখার আছে। তিনি দুর্দন্ডপ্রতাপে পরপর তিনটি টার্ম ধরে ক্ষমতায়। একচ্ছত্র ক্ষমতা প্রয়োগে তিনি কোনরকম কার্পণ্য করছেন না। একে একে সব প্রতিপক্ষকে তিনি শক্তহাতে দমন করেছেন। কোন প্রতিপক্ষকেই দমনে সামান্যতম দুর্বলতা দেখাননি। মানবিকতার ভুয়া শ্লোগানে তিনি নিবৃত্ত হননি। কোন বুদ্ধিজীবির বুদ্ধির ধার ধারেননি। কোন সমালোচনার তোয়াক্কা করেননি। যা করেছেন ঝুঁকি নিয়েই করেছেন। হয় মৃত্যু নতুবা জয়। দুয়ের মাঝে তৃতীয় কোন পথের ধার ধারেননি। আর এ কারণেই তাকে রাজনীতিতে অসামান্য অর্জন ও সফলতা এনে দিয়েছে। এতে কে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, কারা ক্ষিপ্ত হয়েছে এগুলো দেখার বিষয় নয়। আমি মনে করি রাজনীতিটা এমনই। সব বৃহৎ শক্তিগুলোর কাছে তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গ্রহনযোগ্যতা বিদ্যমান। কারণ বর্তমান দুনিয়াটা শক্তির পুঁজারী।
রাজনীতিতে যত নরম হবেন ততই বিপদ। আজকের তিউনিশিয়ার দিকে তাকান। আন নাহদা যত নরম হচ্ছে বিপদ তাদের ঘাড়ে ততই ঝেঁকে বসছে। উদারতা, সমঝোতা, বোঝাপড়া এগুলো রাজনীতিতে শুধুই সুশীলগিরি। আসলে বাস্তবে এগুলোর কোন মূল্য নেই। রাশীদ আল ঘানুসি যত তত্ত্ব কথা হাজির করছেন, যত যোগ্যতা, মেধার কথা বলছেন, ততই তাদের ওপর একের পর এক বিপদ নেমে আসছে। বারবার ক্ষমতাচ্যুত হচ্ছেন। সামান্য অজুহাতে পদচ্যুত হচ্ছেন। বিশাল জনসমর্থন কোন কাজে আসছে না। এসব জনমত দিয়ে আসলে বর্তমান বিশ্বে তেমন কিছুই যায় আসে না।
গোটা আরব বিশ্বে ব্রাদারহুডের চরম দুর্দিন। অথচ তারা কত জনপ্রিয়। মিশরে তারা ক্ষমতায় যাওয়ার সাথে সাথে যদি সকল প্রকার ভদ্রতার মুখোশ ঝেড়ে ফেলে দিয়ে প্রতিপক্ষের ঘাড় মটকে দিতেন, তাহলে আজকে ড. মুরসির এই পরিণতি বরণ করতে হতো না। ব্রাদারহুড যতই নরম হযেছে, যতই তারা সমঝোতা, বোঝাপড়া, আলোচানা ইত্যাদি করতে গিযেছে, তাদের ওপর ততই বিপদ নেমে এসেছে। আজ তারা কোন দেশেই নিরাপদে কাজ করতে পারছে না। মিশরে সুযোগ পাওয়ার সাথে সাথে তাদের কঠোর হওয়ার দরকার ছিল। অতীতের সব দেনা একেবারে শোধ করার দরকার ছিল। ভালো মানুষী দেখাতে গিয়ে তারা ক্ষমতাচ্যুতই শুধু নয়, নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
আজকের আফগান ছাত্রদের এত তোষামোদ কেন? কেন চীন-রাশিয়া তাদের মেহমানখানায় দাওয়াত দিয়ে ভোজনশালায় ঝড় তুলছে? এর একমাত্র কারণ অতীতে তারা কাউরে পাত্তা দেয়নি। তারা আদর্শের ব্যাপারে কোনরূপ ছাড় দেয়নি। শত্রুকে ঘাড় মটকে দিতে কালবিলম্ব করেনি। এজন্য চীন তাদের তোষামোদ করে। আর বলে, তোমরা ক্ষমতায় আসো, অসুবিধা নাইক্কা, তবে, উইঘুর নিয়ে কিছু কইয়ো না। আজ ভারত তাদের তোষামোদ করে। আর বলে, তোমরা ক্ষমতায় আসো, তবে কাশ্মীর নিয়ে কিছু কইয়ো না। ইরান তাদের ডেকে নিয়ে দাওয়াত খাওয়ায়। আর আমেরিকার কথা তো বলার দরকারই নেই। আফগান ছাত্ররা নারী বিদ্বেষী, তারা জ ঙ গী, আরো কত কিছু? এখন এসব গেলো কই? সবই তাদের ভালো হওয়ার সনদ দিচ্ছে। মোট কথা, শক্তি। শত্রুকে রক্তচক্ষু দেখাতে হবে। শক্তি অর্জন করতে হবে। প্রয়োগ করতে হবে। আজকে তাদের এত তোষামোদের কারণ কি? এর কারণ হলো, ক্ষমতায় তারা কাউকে ভাগ দেয়নি। কারো সাথে মিনমিনিয়ে কথা বলেনি। অস্ত্রের ভাষায় কথা বলেছে। এই জন্য তাদের এত কদর। সারাজীবন তাদের যারা গালি দিয়েছে তারাও এখন তাদের নম: নম: করছে। এটাই রাজনীতির ভাষা। মানুষ শক্তের ভক্ত নরমের যম।
বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে নিয়ে আমরা নানা কথা বলি। সমালোচনা করি। সবই ঠিক আছে। কিন্তু ক্ষমতা চালাতে হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মতোই চালাতে হবে। আপোষ করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। বেগম খালেদা জিয়ার বয়স কত হলো, তিনি কতবার ক্ষমতায় ছিলেন, জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বয়স কত হয়েছিল. এ বয়সে ফাঁসি দেওয়া উচিত কী না এসব বিষয় হলো মিষ্টি কথার ফুলঝুড়ি। হ্যাঁ, যারা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন তাদের কান্না, তাদের অশ্রু যদি এতটা শক্তিশালী হয় যে, শাসকের চেয়ার উল্টে দিতে পারে, তাহলে তারাও একইভাবে প্রতিপক্ষের অশ্রু ঝরাবেন। রাজনীতিতে এটাই নিয়তি। অতীত থেকে আমরা রাজনীতির এমন ধারাই দেখে এসেছি। সুতরাং রাজনীতিতে আপোষ-সমঝোতার চোরাবালিতে তখনই শুধু পা দিতে হয়, যখন নিজে বেকায়দায়। ক্ষমতা পাওয়ার সাথে সাথে যারা সাথে আপোষ, তাকেই আগে খেয়ে ফেলতে হবে। বাংলাদেশে এটাই হয়েছে। এখন সব মাঠ ফাঁকা।
আজ বিএনপির এত দুর্দিন কেন? কেন হেফাজত এত সুর নরম করেছে? কারণ তারা সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে পারেনি। সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। মিনমিন করে রাজনীতি করেছে। সংশয়ের দোলাচলে তারা ভোগেছে। পথে নামবে কী নামবে না? আন্দোলন করবে কি করবে না এসব বিষয় ভাবতে ভাবতেই শেষ। এদিকে বেলাও শেষ। সুতরাং দিনশেষে বিজয়ের পতাকা একজনের হাতে। তিনি অনন্য। তিনি তুলনাহীন। তিনি শত্রুকে কোন প্রকার সুযোগ দেননি। বিন্দুমাত্র আপোষ করেননি। তাই বারবার দুনিয়াবি সফলতা তাঁর পদচুম্বন করছে।
২০১৬সালে তুরস্কে সেনা অভুত্থানের পরে এরদোয়ান প্রতিপক্ষকে কোনরকম ছাড় দেননি। গণহারে গ্রেফতার করে জেলে ঢুকিয়েছেন। সেনা, পুলিশ, বিচারপতি, সাংবাদিক, প্রফেসর যাকেই সন্দেহ হযেছে তাকেই চাকুরীচ্যুত করেছেন। বিচারের মুখোমুখি করেছেন। এটাই রাজনীতি। তাকসীম স্কয়ারের ঠুনকো আন্দোলনকেও সহজে ছাড় দেননি। ভূমধ্য সাগরে তেল উত্তোলন নিয়ে কোন এক সাবেক জেনারেলের মন্তব্যকে সহজভাবে নেয়নি। প্রতিপক্ষকে এরদোয়ান কঠিনভাবে নিয়েছেন। তাদের শক্তহাতে ঘায়েল করেছেন। ফলে তিনি আজ বিশ্বনেতা।
মুহাম্মদ বিন সালমান সুদূর ইস্তাম্বুলে গিয়ে শত্রুুকে টুকরো টুকরো করে হাওয়া বানিয়ে দিয়েছেন। রাজনীতিতে আদর্শ, নীতি সবসময় বিজয়ের গ্যারান্টি দেয় না। নিষ্ঠুরতাই যেন রাজনীতির অমোঘ নিয়তি। কিছু ব্যতিক্রমী মানুষ ন্যায়, ইনসাফ ইত্যাদি দিয়ে রাষ্ট্র চালায়। কিন্তু ইতিহাস এদেরকে দুর্বল শাসক হিসেবে আখ্যায়িত করে। আমাদের গ্রামের বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান কারো সাথে কারো দ্বন্ধ লাগায় না। কোন মামলা-হামলার ধার ধারে না। আগা-গোড়া সব খায় না। সকল প্রকার ভেজাল থেকে দূরে থাকতে চায়। মানুষ তাকে দেখতে পারে না। বলে, দূর, এই লোক চেয়ারম্যান হওয়ার যোগ্যই না। এজন্যই বলি, ধর, মার কাট না থাকলে রাজনীতিতে কেউ কাউরে ডরায় না। আর রাজনীতিটা হলো ডরানোর জিনিস। প্রতিপক্ষ সবসময় আতঙ্কে থাকবে। ভীত থাকবে। এটাই সফল রাজনীতিকদের মাপকাঠি। এজন্যই বলি, রাজনীতি সাহসী মানুষের জন্য। ভীত মানুষের জন্য না। সরল মানুষের জন্যও না।
কথাগুলো নীতির আলোকে হয়তো অনেকের কাছেই ভালো লাগবে না। কিন্তু বাস্তবতা এমনই। কিতাবী কথা সব কাগজেই থাকে। বাস্তবে এগুলোর প্রয়োগ খুব কমই দেখা যায়। সংবিধান শুধুমাত্র শাসকদের বাঁচার হাতিয়ার মাত্র। ঢাল মাত্র। আর কিছুই না। কোন শাসকই সংবিধান মানে না। জাতিসংঘও না। বিশ্বের কোন পরাশক্তিই না। প্রতিবেশি দেশের খুব উন্নত মানের সেক্যুলার সংবিধানও সেদেশের সব মানুষের নিরাপত্তা দেয় না। শাসকের ইচ্ছায় সব। এটাই আসল সংবিধান। সাহসী হোন।
সফল রাজনীতিবিদ হোন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Website maintained by Masum Billah