শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:২৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম:
ভোলায় রাসূল সা.-কে অবমাননাকারী গৌরাঙ্গকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে: হেফাজত বঙ্গবন্ধু ছিলেন সব দিকেই দক্ষ একজন রাষ্ট্রনায়ক: আ ক ম মোজাম্মেল ইভ্যালিতে প্রতারিতরা কি টাকা ফেরত পাবেন? ভারতে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ৭৭টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে ‘তালেবান ক্ষমতায় আসার পর এখন আর ঘুষ দিতে হয় না’ ভোলায় মহানবীকে অবমাননার প্রতিবাদে বিক্ষোভ-সমাবেশ আমি প্রেসিডেন্ট হলে ফ্রান্সে মুহাম্মদ নাম নিষিদ্ধ করা হবে এহসান গ্রুপে ৩০ লাখ টাকা খুইয়ে স্ট্রোক করে বৃদ্ধের মৃত্যু দেশকে রক্ষা করতে একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী গঠন করব: আফগান সেনাপ্রধান ৯৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১০ লাখ মানুষকে ঘর তৈরি করে দিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী

আমের রসে বাংলাদেশ-পাকিস্তান : কওমিয়ানদের জন্য একটি ইলমি প্রস্তাবনা

  • আহমাদুল্লাহ আশরাফ
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জেনে-বুঝেই পাকিস্তানে হাড়ভাঙা আম পাঠিয়েছেন। যদিও তা ভূতের রাখাল জাফর ইকবালের ভ্রষ্ট মাথায় ঢোকেনি। আবার পাকিস্তানও বন্ধুত্বের শাড়ি লেপ্টে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতিকে আম গিফট করেছেন। বিরোধী দলীয় নেত্রীও পেয়েছেন সে উপহারের আম।
সহজ কথায় বলা চলো ইদানীং বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের রাজনীতি আমের রসে টইটম্বুর। চাপ দিলে যে রস বের হবে তাতে বাংলাদেশের লাভই বেশি। রাজনৈতিক প্যাচাল না-কি ছোটদের করতে নেই। তাই এদিকে আর না যাই।
আমের দিনে ঝড়ের সময় আম না কুড়ালে অন্য সময় গাছের নিচে বসে থাকলেও আম পাওয়া যায় না। এখন কওমিয়ান আলেমদের আম কুড়ানোর মাহেন্দ্রক্ষণ চলছে।
দারুল উলুম দেওবন্দের সাথে আমাদের ইলমি নিসবত বেশ ভালো। এখনও দেওবন্দে বাঙালি অনেক স্টুডেন্ট আছে। প্রত্যেক বছর অনেক বাঙালি দেওবন্দ থেকে পড়ালেখা শেষ করে বাংলাদেশে আসে। কিন্তু দেওবন্দের তুলনায় দারুল উলুম করাচি পাকিস্তানের সাথে আমাদের ইলমি নিসবত নেই বললেই চলে। অথচ পাকিস্তানে বিশ্ব-সমাদৃত বাহরুল উলুম শাইখুল ইসলাম আল্লামা মুফতি তাকি উসমানি হাফি. এর অবস্থান।
পুরো মুসমুসলিম বিশ্ব একদিকে যেমন দেওবন্দকে রাখে, তেমনি অন্যদিকে আল্লামা তাকি উসমানিকে রাখে। এই জন্য দেখবেন বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্বে আধুনিক অনেক মাসআলায় দু’রকম মত পাওয়া যায়। যেমন ধরুন, ‘ছবির বিধান’_ দেওবন্দের অবস্থান আর করাচির অবস্থান কিন্তু এক নয়।
সঙ্গত কারণেই বাঙালি ছাত্ররা যেমন দেওবন্দে পড়তে যায়, তেমনি শাইখুল ইসলাম আল্লামা মুফতি তাকি উসমানি হাফি. এর ইলমের ফুয়ুয ও বরকত অর্জন করতে পাকিস্তানেও পড়তে যাওয়া উচিত। কিন্তু এক্ষেত্রে সমস্যা হলো পাসপোর্ট ও ভিসা। ইন্ডিয়ার জন্য যতো সহজে ভিসা পাওয়া যায়, ততো সহজে পাকিস্তানের ভিসা হাতে পাওয়া অসম্ভব। যদিও দেওবন্দ পড়ুয়া অধিকাংশ ছাত্র ট্যুর ভিসায় পড়তে যায়। কিন্তু দাড়ি-টুপিওয়ালাদের পাকিস্তান ট্যুরের ভিসাও দেয় না অতো সহজে।
এর আগে দেওবন্দ পড়ালেখা করার জন্য স্টুডেন্ট ভিসার আলোচনা উঠে ছিলো। কয়েকদিন মিডিয়াতে এবিষয়ে অনেক আলোচনা সমালোচনাও হয়েছে। আখের কী হয়েছে আমার জানা নেই। পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের এমন সুমধুর সময়ে ওলামায়ে কেরাম পাকিস্তানের স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করতে পারেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির বরাবর। পাকিস্তান থেকেও স্টুডেন্ট ভিসার পুরো সাপোর্ট পাওয়া যাবে মনে হয়। আল্লামা মুফতি তাকি উসমানিও বাংলাদেশের সাথে তার ইলমি নিসবত অবশ্যই কায়েম করবেন। শুধু আমাদের প্রস্তাবনা রাখা দরকার।
দেওবন্দ থেকে কয়েকজন আকাবির আলেমকে প্রত্যেক বছর বাংলাদেশে আনা গেলেও পাকিস্তান থেকে আল্লামা মুফতি তাকি উসমানিকে আনা সম্ভব হয় না। কারণ, ‘বাংলাদেশ-পাকিস্তান বৈষম্যের নির্মম ইতিহাস ও ‘৭১ এর চেতনা।’ কিন্তু এখন তো একাত্তরের চেতনা মাঠে মারা গেছে। জাফর ইকবাল আর আম খাবে না।
ওলামায়ে কেরাম বাংলাদেশ-পাকিস্তান বন্ধুত্বের সুবর্ণসুযোগটি কাজে লাগাতে পারেন তরুণ প্রজন্মের জন্য ইলমি নিসবত বৃদ্ধি করতে। আশা করি এবিষয় নিয়ে আলোচনা উঠলে স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়া না গেলেও দেওবন্দের আকাবিরদের মতো পাকিস্তানের আকাবিরদের বাংলাদেশে আসার পথ কিছুটা হলেও মসৃণ হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Website maintained by Masum Billah