শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৪২ অপরাহ্ন

আমাদের কান্না হোক রবের জন্য

 

আর খাবো না৷ কথাটি বলে উঠে গেলো সামহা৷

আমি কিছু বললাম না, চুপচাপ ওর রাখা ভাতগুলো খেতে লাগলাম, এমনিতে একটু আগে খেয়েছি, তবে অপচয় করতে ইচ্ছে হলোনা লোকমা দুয়েক৷

কিছু সময় পর এসে বললো, খালামণি, ঝাল৷

সঙে করে নিয়ে গেলাম মিষ্টি কিছু খাওয়াতে৷

মনে পড়লো মাদ্রাসার ভেতর চিনি, ভেতরে গেলাম৷

চিনির প্যাকেট থেকে এক চামচ চিনি ওর হাতে ভরে দিলাম৷ ফিরে আসবো, তখনই কান্নার আওয়াজ৷

মোশকাত রুম থেকে আওয়াজটি এলো৷ ভয় করলো খানিকটা, ধিরে ধিরে ঘাড় ঘুরোলাম, আওয়াজটি কমলো না৷ বরং বেড়ে গেলো৷ আরও করুন কান্নার সুর৷

সামহা চলে গেলো, আমি ধীর গতীতে মেশকাত রুমে পৌছালাম৷ চেয়ারে একটি মেয়ে, তার চোখদুটো ফোলা৷

সে কাদঁছে, তার অশ্রু বেয়ে পড়ছে চোখের থেটে নাকে, নাকের থেকে ঠোটে, সেখান থেকেও বিদায় নিয়ে পড়ে চেয়ারের উপর৷ এমনি করে অশ্রুগুলো শুকিয়ে যাবার নয়৷ আমি ঘারে হাত রাখলাম, অপরিচিত নন তিনি৷

মাদ্রাসা বন্ধ থাকা অবস্থাই ও আমাদের বাসায় অবস্থান করছেন তিনি৷ প্রেম করে বিয়ে করেছেন, স্বামী বড্ড বখাটে৷ জানাজানি হতেই অস্বিকার ক;রে বিয়ের ব্যাপারটি৷ মেয়েটিও কম করেনি, স্বামীকে জেলে পুরে রেখে দিলো৷ কিন্তু তবু মেয়েটিকে নিতে রাজী নন তিনি৷

জিবনের শেষ অধ্যায় হেরে যাওয়ার দুঃখে দুঃখিত আপুটি৷ সে আমার কাছে হিফজ পড়ে৷ প্রথম পড়াতে রাজি হয়নি, বড় হয়ে যাওয়াই৷ কিন্তু গল্পগুচ্ছ জানার পর না বলার হিম্মত হয়নি৷ তার ঘারে হাত রেখেই বললাম৷

এরকম কান্না কইরেন না৷ কোনো লাভ নেই এই কান্নায়৷

আগে কতো কান্না করছি নানা বিষয়ে, কোনো ফায়দা হয়নি৷ চোখের অশ্রুর দাম আল্লাহর কাছে অনেক৷

বলেই হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলাম৷ জায়নামাজের পাশে ছেড়ে দিয়ে বললাম৷ মোনাজাতে কান্না করেন৷ আল্লাহ উত্তম ফায়সালা করবে৷ সত্যি বলছি, আপুটা জায়নামাজ ধরতেই আমার পরানটা মুচরে উঠলো৷

 

ইশ কতো কান্না সে মিছে মিছে ব্যায় করেছে৷

একবার খোদার তরে কেদেঁ যদি মজা পেয়ে যায়।

আজীবন বোনটা স্বরন রাখবে৷

আল্লাহ তার উত্তম প্রতিদান দান করুন৷

কতো আপুরা তাদের অশ্রু বিষর্জন করছে, তার হল নেই৷ এ কান্নাটুকু আল্লাহর দরবারে কাদঁলে, কেওর নেরাশ হওয়া লাগে না ইনশাআল্লাহ৷

 

লেখিকা-উম্মে মাবাদ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Website maintained by Masum Billah