শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম:
ভোলায় রাসূল সা.-কে অবমাননাকারী গৌরাঙ্গকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে: হেফাজত বঙ্গবন্ধু ছিলেন সব দিকেই দক্ষ একজন রাষ্ট্রনায়ক: আ ক ম মোজাম্মেল ইভ্যালিতে প্রতারিতরা কি টাকা ফেরত পাবেন? ভারতে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ৭৭টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে ‘তালেবান ক্ষমতায় আসার পর এখন আর ঘুষ দিতে হয় না’ ভোলায় মহানবীকে অবমাননার প্রতিবাদে বিক্ষোভ-সমাবেশ আমি প্রেসিডেন্ট হলে ফ্রান্সে মুহাম্মদ নাম নিষিদ্ধ করা হবে এহসান গ্রুপে ৩০ লাখ টাকা খুইয়ে স্ট্রোক করে বৃদ্ধের মৃত্যু দেশকে রক্ষা করতে একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী গঠন করব: আফগান সেনাপ্রধান ৯৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১০ লাখ মানুষকে ঘর তৈরি করে দিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী

পরীমনি কোন সাধারণ মেয়ে নয়

  • সৈয়দ শামছুল হুদা
প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ এক চৌকস অফিসারের সাথে পরীমনির একটি ভিডিও স্যোসাল মিডিয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে। সেটি দেখে মনে হয়েছে, পরীমনি কোন সাধারণ মেয়ে নয়। বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কোন গোয়েন্দা প্রজেক্টের অংশ হয়ে উঠেছে পরীমনি। দেশের সনামধন্য ব্যক্তিদেরকে নানা ছুঁতায়, অতীতের হাজারো নারী অঘটনের ধারাবাহিকতায় পরীমনিদের তৈরি করা হয়েছে। পরীমনির মাদার অব শেল্টার চয়নিকা চৌধুরী, তার পক্ষের ওকিল নীলাঞ্জনার ডাহা সাফাইগিরি এবং একটি পত্রিকার নিউজ মোতাবেক পরীমনির গ্রেফতারে কলকাতার কোন পাড়ায় নাকি আতঙ্ক ছড়িয়েছে এসব দেখে এটা বুঝতে বাকী নেই যে, সে একটি বড় প্রজেক্টের অংশ হয়ে উঠেছিল।
সরকারকে আমি ধন্যবাদ দিতে চাই। দেশের প্রশাসনের মধ্যে যারা মেধাবী, যারা চৌকস, যারা দেশপ্রেমিক তাদের মধ্যে আরো বেশি অফিসার বিপথগামি হওয়ার আগেই তাদের লাগাম টেনে ধরেছেন। এটা একটি বড় ধরণের সাহসী সিদ্ধান্ত। গত ১৩/১৪বছর ধরে যে নীতি সরকারের অভ্যন্তরে অনুসৃত হয়ে আসছে এটা তার সম্পুর্ণ বিপরীত। হেলেনা জাহাঙ্গীর, মৌ, একা, পিয়াসা এসব নারীদের থেকেও পরীমনি ইস্যুটি ছিল অনেক বেশি স্পর্শকাতর ও বিপদজনক। পরীমনির কাছে কাদের যাওয়া-আসা ছিল তার সংক্ষিপ্ত যে তালিকা বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে সেটা দেখে আমরা শঙ্কিত। স্তম্ভিত। লজ্জিত।
অতীতে নারীটোপ ফেলে দেশ ধ্বংসের বহু ঘটনা গল্প-উপন্যাসে পাওয়া যায়। পরীমনি সাক্ষাত সেই চিত্রের অংশমাত্র। তার বিশেষ কোন উল্লেখযোগ্য সফল সিনেমা বা অভিনীত কোন নাটক না থাকলেও তার ফলোয়ার প্রায় ১কোটি ৩৫লাখ এর উপরে । চিন্তাই করা যায় না! এটা কি এদেশের মানুষের রুচির পরিবর্তনের প্রমাণ বহন করে নাকি অন্য কিছু, তা রীতিমতো গবেষণার বিষয়। আগামী দিনে তরুন প্রজন্ম কোন দিকে ধাবমান তা এই ইস্যু থেকেও বুঝা যাচ্ছে। পরীমনির ইস্যুতে অনেক শিল্পীদেরকে বিভিন্ন লাইভে এসে লজ্জিত হতে দেখেছি। সৃষ্টিশীল কোন শিল্প তৈরি না করেই পরীমনিরা যেভাবে কোটি মানুষকে মাতিয়ে রেখেছে তা দেশের জন্য লজ্জাকর। গোটা শিল্পী সমাজের জন্য লজ্জাকর। সাংস্কৃতিক জগতের মানুষগুলোরও জন্য লজ্জাস্কর।
এদেশের চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক জগত নিয়ে আগে থেকেই নানা প্রশ্ন ছিল। এখন রীতিমতো চরম পর্যায়ের ধ্বংসের স্তরে চলে গেছে। আর এগুলো হয়ে উঠেছে দেশের সম্ভাবনাময় ব্যক্তি ও অফিসারদের বিপথগামী করার হাতিয়ারে। নারী অস্ত্র খুব ভয়ঙ্কর। ইহুদী মেয়েরা নিজেদের স্বার্থের জন্য হেন কোন কাজ নেই যা তারা করে না। সেই ফাঁদেই ফেলে দেওয়া হয়েছে পরীমনিদের। আজকে যারা তার পক্ষে জোরালো কণ্ঠে কথা বলছে, তাদের কর্মতৎপরতা লক্ষ্য করলেও এমন কিছুরই ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কারা পরীমনিকে রক্ষা করতে চাইছে? কারা তাকে নানাভাবে সাপোর্ট করছে? এসব বিষয় সুবিধাজনক মনে হচ্ছে না। পরীমনি শুধু শারীরিক বিনোদনেই নয়, যে কোন শক্তিশালী পুরুষকে কুপোকাত করতে, তার মায়াজালে আটকে ফেলতে সে যে রূপের আক্রমন শানিয়েছে সেটা দেশের জন্য ক্ষতিকর। হুমকি।
একজন সরকারী কর্মকর্তা সাকলায়েন এর বিপদে পড়া দেখে হয়তো আমরা অনেকেই খুশি হয়েছি। একজন পুলিশ অফিসার ফেঁসে গেছে মনে করে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছি। পুলিশের প্রতি আমাদের ক্ষোভ আছে এটা শতভাগ সত্য। তারচেয়েও ভয়ঙ্কর সত্য হলো, পরীমনির মতো একজন সাধারণ মেয়ে এতটা প্রশিক্ষণ কোথা থেকে গ্রহন করলো, যে কারণে তার কাছে এতবড় একজন মেধাবী পুলিশ অফিসারও তার দায়িত্বের কথা ভুলে যায়। তার পদবীর মর্যাদার কথা ভুলে যায়। তার সম্মানিতা স্ত্রীর সম্মানের কথা ভুলে যায়। এটাকে ছোট করে দেখার কোন সুযোগ নেই। খুঁজে দেখতে হবে, কারা পরীমনিকে ট্রেইন্ড করেছে। কারা বোট রিসোর্টের মালিক, সভাপতিকে ফাঁদে ফেলানোর জন্য পরীমনিকে দিয়ে নিখুঁত অভিনয় করিয়েছে।
পরীমনি কত টাকার ফ্ল্যাটে থাকে, সে কত টাকা দামের গাড়িতে চড়ে, সে কোথায় কত দামি স্যুটে রাত কাটায় এটা কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। কিন্তু এটা গুরুত্বপুর্ণ বিষয় যে, তারমতো একটি সাধারণ মেয়ের কাছে অবুঝ হয়ে যায় একজন সরকারী কর্মকর্তা, সেটা সাধারণ কোন বিষয় নয়। সরকারকে আবারো ধন্যাবাদ দিতে চাই, সরকার এটাকে নিয়ন্ত্রনের উদ্যোগ নিয়েছেন। এ পথে আরো যারা আছে, হয়তো তারা এখন কিছুটা হলেও সতর্ক হবে। দুর্বল হবে। এসব নারী আস্তানার মাধ্যমে দেশকে মেধাশুন্য করা হয়। নারীর মায়াজালে ফেলে পুলিশ অফিসার, সেনা অফিসার, প্রশাসনিক শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিপথগামী করা হয়। দায়িত্বহীন করা হয়। দেশপ্রেমহীন করা হয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদের চরিত্রহীন করা হয়। বসুন্ধরার মুনিয়াকান্ড সকলেরই মনে থাকার কথা।
সাকলাইনের ঘটনাটি শুধুই একটি অঘটন সেটা আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। এর পেছনে হয়তো আরো অনেক রহস্য লুকিয়ে আছে। এমন আরো অনেকের সম্পৃক্ততা আছে যাদের পরিচয় প্রকাশ করাও হয়তো রাষ্ট্রের জন্য ঝুকিপূর্ণ। পুলিশ কমিশনারের বক্তব্যে মনে হয়েছে এ তালিকা হয়তো আর প্রকাশ পাবে না। এ ইস্যুটাকে এখানেই মাটিচাপা দেওয়া হবে। কারণ কেঁচু খুড়তে গেলে সাপ বেড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সুতরাং মাটি চাপা দেওয়াই নিরাপদ। সরকার যেটা ভালো মনে করে করবে, কিন্তু আমাদের দাবী, এগুলো যেন এখনই নিয়ন্ত্রন করা হয়। দেশের প্রয়োজনে, দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও সামরিক মর্যাদা নিশ্চিত করার জন্য এসব আস্তানা যেন আর না বাড়তে পারে আশাকরি সরকার সে দিকে বেশি গুরুত্ব দিবে। আমাদের দেশপ্রেমিক প্রশাসনের কর্মকর্তারাও বিষয়টিকে সেভাবেই দেখবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Website maintained by Masum Billah