শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:০২ অপরাহ্ন

শিরোনাম:
বিশ্ব মানবতার কণ্ঠস্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা: আইসিটি প্রতিমন্ত্রী মুসলিম শিক্ষক নেই, ভোলার স্কুলে ইসলাম শিক্ষার ক্লাস হয়নি ৩২ বছর! জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যা বলেছেন ইমরান খান এক বছরের মধ্যে ইসরাইলকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ছাড়তে হবে: মাহমুদ আব্বাসের আলটিমেটাম আত্মহত্যা নয় নিহত শাহাদাত হত্যাকাণ্ডের স্বীকার মহামারি বড় আকার ধারণ করলে আবারও বন্ধ হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নামের আগে আলহাজ না লেখায় ৫ জনকে কুপিয়ে জখম ডিসেম্বরে চালু হবে ৫জি সেবা: মোস্তাফা জব্বার ছেলে-মেয়ের বিয়ের আগেই পাত্রের মাকে নিয়ে পালিয়ে গেলেন পাত্রীর বাবা! ইরান-রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করতে চায় তালেবান

সময় চলে যায়; রয়ে যায় আফসোস।

যুবকণ্ঠ ডেস্ক;

আমাদের ক্লাসে উসূলুল ফিকহ- ফিকহের মূলনীতিশাস্ত্র পড়াতেন শাইখ আব্দুল হাসিব হাফিযাহুল্লাহ। (আমাদের কওমি মাদরাসার উপরের ক্লাসগুলোতে উসূলুল ফিকহ- ফিকহের মূলনীতি জানার জন্য কিছু কিতাব পড়ানো হয়। কুরআন-হাদিসের ফিকহ বুঝতে হলে অবশ্যই উসূলুল ফিকহ পড়তে হয়, বুঝতে হয়। উসূলুল ফিকহ বিষয়ক অনেক গ্রন্থ এ যাবত রচিত হয়েছে। সর্বপ্রথম এ বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করে উম্মতের আরেক উজ্জ্বল নমুনা ইমাম মুহাম্মাদ বিন ইদ্রীস আশ-শাফেয়ি রাহিমাহুল্লাহ। পরবর্তীকালে অনেকেই এ বিষয় নিয়ে লিখেছেন।)

 

ইতোপূর্বে তাঁর কাছে নাহু ও আরবি সাহিত্যের ক্লাস করেছি। তিনি খুব ভাল একজন শিক্ষক। আমার প্রিয় শিক্ষকদের একজন। তিনি ক্লাসে এসে মাঝে মধ্যে ছাত্রদেরকে আমলি নসীহত করতেন। ভাল পরামর্শ দিতেন। এখনও দেন। ক্লাসে প্রবেশ করেই তিনি নিজে দরুদ পাঠ করতেন। ছাত্রদেরকেও পড়তে বলতেন। এখনও করেন। যাক, এবার আসল কথায় আসি।

কোনো একদিন ক্লাসে ঢুকেই তিনি বললেন, আজ তোমাদেরকে কিছু বলবো। তবে, আগে একটু পড়িয়ে নিই।তারপর একটি ঘটনা বলবো। কথামত অল্প কিছু পড়িয়ে কিতাব বন্ধ করে রাখলেন। সকলকে বললেন, সকলে কিতাব বন্ধ করো। সকলে তাই করলাম। তারপর তিনি বলতে লাগলেন….

 

গতকাল আমি পুরাতন ঢাকার চাঁনখার পুল জামে মাসজিদে আসর/ মাগরিবের নামাজ আদায় করলাম। নামাজ শেষে দেখলাম, আমার পাশে ১৫-১৬ বছর বয়সী এক ছেলে বসে আছে।তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তোমার নাম কি? সে তার নাম বলল। তারপর তাকে আবার জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কি করো? সে জবাব দিল, আমি ঐ যে পাশের এক কারখানায় কাজ করি। (সম্ভবত জুতার কারখানায়।) তাকে আবার জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করো? সে বলল, হ্যাঁ। চেষ্টা করি। জামাতের সাথেই আদায় করার চেষ্টা করি। তবে, সবসময় আদায় করতে পারি না। আমার খুব ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও পাড়ি না। আমি বললাম, কেন?

 

তারপর সে বলতে লাগলো, আমি যে কারখানায় কাজ করি সেখানে বেশি একটা ছুটি পাই না। দুপুরে খাওয়া ও হালকা বিশ্রামের জন্য কিছু সময় পাই। এরই ফাঁকে নামাজটা আদায় করে নিই। কাজের ফাঁকে ফাঁকে কিছু সময় বের করে অন্যান্য নামাজ আদায় করে নেয়ার চেষ্টা করি। মালিক যে কখন কি বলে বসে; জানি না। এই মাসজিদে আসরের পর কুরআন শিক্ষা দেয়া হয়। দিনে কাজের চাপ কম থাকে। তাই আসরের পর কুরআন শিখার কাজে কিছু সময় লাগাই। রাতে কাজের চাপ বেশি থাকে। গভীর রাতে ঘুমাতে যাই। ঘুমের খুব চাপ থাকে। তাই ফজরের নামাজ সময়মত আদায় করা হয়ে উঠে না। যখন সজাগ পাই তখনই উঠে আদায় করে নিই। এভাবেই আমার দিন যায়। …….

 

ছেলেটির সাথে আরো কিছু কথা হয়। তাকে কিছু পরামর্শ দিই। তারপর চলে আসি। এই ছিল ঘটনা।

শাইখ এবার আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ছেলেটির ঘটনা থেকে কি বুঝলে তোমরা? একবার লক্ষ্য করে দেখো, ছেলেটি তার নফসের সাথে কতটা যুদ্ধ করে? অথচ, সে কোনো পড়ালেখা করেনি! কোনোদিন মাদরাসায় গিয়েছে কিনা সন্দেহ আছে। ভাল তালিম তারবিয়্যাত পেয়েছে বলেও মনে হয় না। অথচ তার ঈমান কতটা পাকা। তার এই হৃদয় ছোঁয়া ঈমানি ঘটনা শুনে আমার আফসোস আর আফসোস হচ্ছে। সে আল্লাহকে কতটা ভয় করে। সময় নেই। নিজের বিশ্রামের সময়টুকুও সে বিশ্রামে কাটায় না। কাটায় মহান রবের সান্নিধ্যে। একটু সময় সুযোগ পেলে হয়ত সে আরও কিছু করতো। আহ! তার ঈমান কতটা পাকা-পোক্ত।

 

আমরা ২৪ ঘন্টা কাটাচ্ছি মাদরাসা আর মাসজিদে। তবুও কি আমাদের ঈমান এতটা শক্ত, মজবুত করতে পেরেছি? নিজেকে নিজে একটু ভেবে দেখো। একটুখানি পর্যালোচনা করে দেখো।

 

ক্লাসের সময় শেষ হয়ে এল। দফতরি ঘন্টা বাজালো। শাইখ চলে গেলেন। রয়ে গেল কথাগুলো। সকলে চলে গেল ভাবনার আরেক নতুন জগতে। [ঘটনাটি সম্পূর্ণ বাস্তব।]

 

জীবনের কতটা সময় চলে গেল। আমরা ঈমানি পোশাকে নিজেকে সাজাতে পেরেছি? যদি পেরে থাকি তাহলে ভাল। আর যদি রবের সান্নিধ্যে না আসতে পেরেছি, নিজেকে ঈমানের পরশে গড়ে না তুলতে পেরেছি- তাহলে আমিই হতভাগা। সময় চলে গেছে। বিগত জীবনের ইতিহাসে রয়ে গেল শুধু আফসোস আর আফসোস।

 

আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাদেরকে প্রকৃত ঈমান দান করুন। প্রকৃত ঈমানের পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “আল্লাহ যাকে চান তাকে হিদায়াত দান করেন। আর শুধুমাত্র তিনিই হিদায়াতপ্রাপ্ত বান্দাদের সম্পর্কে অধিক জানেন।” [ সূরা কাসাস: ৫৬]

 

লেখক- ওমর ফারুক বিন মুসলিমুদ্দীন

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Website maintained by Masum Billah