শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:১১ অপরাহ্ন

শিরোনাম:
বিশ্ব মানবতার কণ্ঠস্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা: আইসিটি প্রতিমন্ত্রী মুসলিম শিক্ষক নেই, ভোলার স্কুলে ইসলাম শিক্ষার ক্লাস হয়নি ৩২ বছর! জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যা বলেছেন ইমরান খান এক বছরের মধ্যে ইসরাইলকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ছাড়তে হবে: মাহমুদ আব্বাসের আলটিমেটাম আত্মহত্যা নয় নিহত শাহাদাত হত্যাকাণ্ডের স্বীকার মহামারি বড় আকার ধারণ করলে আবারও বন্ধ হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নামের আগে আলহাজ না লেখায় ৫ জনকে কুপিয়ে জখম ডিসেম্বরে চালু হবে ৫জি সেবা: মোস্তাফা জব্বার ছেলে-মেয়ের বিয়ের আগেই পাত্রের মাকে নিয়ে পালিয়ে গেলেন পাত্রীর বাবা! ইরান-রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করতে চায় তালেবান

সৈনিকদের কাবুল জয়: আফগানিস্তান, দক্ষিণ এশিয়া এবং আগামীর বিশ্ব রাজনীতি

যুবকণ্ঠ ডেস্ক:

সৈনিকদের কাবুল জয় এতটা সহজ হবে এট হয়তো অনেকেই ভাবেনী। বিনা রক্তপাতে গত ২০ বছর ধরে চলা আমেরিকা ও পশ্চিমাদের আগ্রাসনের আনুষ্ঠানিক পতন হল। যেমনটা মনে করা হচ্ছিল, সৈনিকদের কাবুলে আগমন এক ধ্বংশযজ্ঞের সূচনা করবে কিংবা বড় ধরনের যুদ্ধ হবে তা অনেকটা কৌশলী ভূমিকায় নিজেদের নতুনভাবে উপস্থাপন করলো তারা। আফগান সরকারের পরাজয় বরণ করা ছাড়া সম্ভবত কোন বিকল্পও ছিলনা, অন্তত আশরাফ গণির বিবৃতি এটাই প্রমান করে। মূলত আমেরিকার লেজ গুটিয়ে চলে যাওয়ার পর সামরিক ও নৈতিকভাবে তারা দুর্বল হয়ে গিয়েছিল। একতাবদ্ধ সৈনিকদের সামনে দাড়াবার মতো নৈতিক মনোবল ও সামর্থের কোনটাই তাদের অবশিষ্ট ছিলনা। সৈনিকদের জয়টা আফগানিস্তানের জন্য কি ফল বয়ে আনতে পারে? এখানে একটা বিষয় মনে রাখা দরকার যে, আফগানিস্তান এই অঞ্চলের একটি ব্যতিক্রম দেশ যেখানে এখনো ক্ল্যাসিকাল পদ্ধতিতেই ক্ষমতার রদবদল হয় বিশেষত গত চল্লিশ-পঞ্চাশ বছরে এটাই হয়ে আসছে। গোত্র কিংবা জাতি-উপজাতি ফ্যাক্টর আর সামরিক ক্ষমতাই এখানে ক্ষমতার পালা বদলের নেয়ামক শক্তি। ইবনে খালদুনের আসাবিয়্যাহ তত্ত্ব এখানে খুবই প্রাসঙ্গিক। ফলে যারা একতাবদ্ধ হয়ে শক্তিশালী হতে পারবে তারাই এখানে ক্ষমতায় আরোহন করবে। আফগানিস্তানে সৈনিকদের শাসনামল নিয়ে সারা দুনিয়াতেই নেগেটিভ পর্যালোচনা রয়েছে। বিশেষত নারী অধিকার এবং শরিয়াহ আইন প্রয়োগে মাত্রাতিরিক্ত কঠোরতার ব্যাপারে, হয়তো এমনসব বিষয়ে অত্যাধিক কঠোরতা অবলম্বন করা হয়েছে যার সাথে শরিয়াহর সম্পর্ক খুবই কম। বিরোধীদের দমনের ব্যাপারেও এমনসব কাজ করা হয়েছে যা ইসলাম আদৌ সমর্থন করে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। তবে যাই হোক না কেন বিষয়গুলো ছিল আফগানিস্তানের জনগনের বিষয়। ৯/১১ ঘটনার পরবর্তীতে আমেরিকার সামরিক হস্তক্ষেপ এখানে কোন মতেই সমর্থনযোগ্য একটি বিষয় নয়। হাজার হাজার মানুষের রক্ত, লাখো উদ্ভাস্তুর মূল দায় নিঃসন্দেহে তাদের। তবে বিশ বছরে তারা এখানে লাভের লাভ কিছুই পায়নি বরং ক্ষতির দিকই বেশী। গতকালের সৈনিকদের এই জয়ের পর তারা এখন কিভাবে দেশ পরিচালনার চিন্তা করবে এটার উপর ভিত্তি করেই আগামীর আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। সরকার পরিচালনা, বিরোধীদের সাথে আচরন, জাতিগত বিরোধগুলোতে ভূমিকা এবং সবমিলে সাধারণ জনগনের কতটা কাছে যেতে পারে সেটাই দেখার বিষয়। আফগানিস্তানে সৈনিকদের জয় দক্ষিণ এশিয়া ও বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন বয়ে আনবে। দক্ষিণ এশিয়ার মোড়লদের মধ্যে ভারত স্বভাবতই সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। কাস্মিরকে শান্ত রাখার জন্য এবং জনগন যা চাইবে তারচেয়ে বেশী দিয়ে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করবে ভারত। অন্তত কোন নেতিবাচক কাজ করতে সাহস পাবেনা। লেখকঃ ড.হাফিজুর রহমান সাবেক শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, তোকাত গাজী উসমানপাশা ইউনিভার্সিটি, তুরষ্ক। বি দ্রঃ ( ফেইসবুকের ঝামেলা এড়াতে ত ল ব ন এর স্থলে সৈনিক ব্যবহার করা হয়েছে)

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Website maintained by Masum Billah