শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:১৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম:
বিশ্ব মানবতার কণ্ঠস্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা: আইসিটি প্রতিমন্ত্রী মুসলিম শিক্ষক নেই, ভোলার স্কুলে ইসলাম শিক্ষার ক্লাস হয়নি ৩২ বছর! জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যা বলেছেন ইমরান খান এক বছরের মধ্যে ইসরাইলকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ছাড়তে হবে: মাহমুদ আব্বাসের আলটিমেটাম আত্মহত্যা নয় নিহত শাহাদাত হত্যাকাণ্ডের স্বীকার মহামারি বড় আকার ধারণ করলে আবারও বন্ধ হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নামের আগে আলহাজ না লেখায় ৫ জনকে কুপিয়ে জখম ডিসেম্বরে চালু হবে ৫জি সেবা: মোস্তাফা জব্বার ছেলে-মেয়ের বিয়ের আগেই পাত্রের মাকে নিয়ে পালিয়ে গেলেন পাত্রীর বাবা! ইরান-রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করতে চায় তালেবান

মুকুটহীন সম্রাটের রাজকীয় জানাযা

যুবকণ্ঠ ডেস্ক:

দেশবরেণ্য আলিমে দ্বীন,শাইখুল হাদিস, ওলামাদের শিরোমণি,ইসলামী প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব ও আধ্যাত্মিক জগতের একজন সুপরিচিত শায়েখ, চির অমর কিংবদন্তি, বাংলার সিংহ পুরুষ ,হাজার হাজার আলিমের পরম শ্রদ্ধেয় উস্তাদ আল্লামা হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরী রহ.।যিনি ৯ মুহাররম ১৪৪৩ হিজরী/১৯ ই আগষ্ট ২০২১ ইং রোজ বৃহস্পতিবার, দুপুর ১২ টা ৩০ মিনিটের সময় মহান প্রভুর ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন।

সময় বৃহস্পতিবার সূচনা দুপুর। সকলের আশা-ভরসার চক্ষু ফাঁকি দিয়ে হঠাৎ করেই যেন ঝরে গেল ফুটন্ত গোলাপ।চারিদিকে নেমে এলো শোকের ঘন ছায়া।শোকের ছায়ায় ছেয়ে গেল প্রতিটি উলামা প্রেমিক হৃদয়। বেদনার মৃদু হাওয়া বয়ে চলল টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া। নত হলো বাংলার জননেতা ওলামায়ে হক্বের উঁচু শির । চারিদিকে শোনা যায়-কে বা কারা যেন বলছে, ‘আজ আমরা হকের ঝান্ডাবাহী রাহাবার কে হারালাম’ ‘আমরা মুকুটহীন সম্রাট কে হারালাম’ ‘আমরা বাতিলের বিপক্ষে আপোষহীন নেতাকে হারালাম’।সত্যি! তিনি ছিলেন একজন বাতিলের বিরুদ্ধে নির্ভীক সাহসী সৈনিক, অকুতোভয় মহামানব।এ জন্যই তাঁর শানে বলা হয়েছে “উলামার শিরোমণি বাবুনগরী/আপোষহীন নেতা জামানার,হুংকারে যার বাতিলের মসনদ/জ্বলে পুড়ে হয় ছারখার।”তাঁর কণ্ঠ ছিল ‘ইলায়ে কালিমাতুল্লা’র জন্য উচ্চস্বর। তার জীবন ছিল এক আল্লাহর জন্য নিবেদিত। এজন্যই তার বিদায়ে দেশের অসংখ্য শীর্ষস্থানীয় আলিমগণ ও বাবুনগরী প্রেমিক জনতা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছে। এদিকে আবার বাবুনগরীর রুহানি সন্তান ‘ছাত্ররা’ কেঁদে কেঁদে বুক ভাসাচ্ছে। মানুষের বেদনাকাতর আহাজারিতে তৈরি হচ্ছে এক করুণ আবহ । রচনা হচ্ছে বাঁধভাঙ্গা আহাজারীর ইতিহাস…

রাহবার হারানো রদ্দুভরা দুপুর, পড়ন্ত বিকেল পেরিয়ে গেল। সূর্য হেলে পড়ছে আপন ঠিকানায়। জানাযার সময় ঘনিয়ে এলো।ঘোষণা হয়েছে , রাত১১ টায় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে ।

ধীরে ধীরে সময় অতিবাহিত হচ্ছে। রাতের অন্ধকারাচ্ছন্ন আভা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ার সাথে-সাথে, হাজার-হাজার মানুষের ঢল নেমেছে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ হাটহাজারী মাদ্রাসার বুকে। সেই দুপুর থেকেই হাটহাজারীর অলি-গলিতে মানুষের ভিড়। সবাই আপন অবস্থান ছেড়ে ছুটে চলছে মুকুটহীন সম্রাটের রাজকীয় জানাযায়। বাংলার দিক-দিগন্ত থেকে দলে দলে ছুটে আসছে ওলামা-তালাবার ঝাঁক। কারোর মুখেও নেই বিন্দুমাত্র হাসি-খুশির ছাপ। সবাই অশ্রুসজল চোখে বেদনার চাদর মুড়িয়ে নতশিরে এগিয়ে চলছে চট্টগ্রামে অবস্থিত হাটহাজারী মাদ্রাসার সম্মুখ পানে।কিছুক্ষণের মধ্যেই হাটহাজারী মাদ্রাসা চত্বর লোকে লোকারণ্য। কি এক অপরূপ চিত্র ভেসে আসছে।দেখলেই যেন চোখ জুড়িয়ে যায়।এমন সুবিশাল জানাযা বাংলার বুকে নজিরহীন।আজ হাটহাজারী মানুষে পরিপূর্ণ। তবে নেই কোন কর্কশ শব্দ।কোলাহলের শহর আজ নীরব! নিঃশব্দে চোখের পাতা যেন ভিজে যাচ্ছে। কি যে এক অবিস্মরণীয় দৃশ্য !এ যেন এক রাজকীয় জানাজা।

অপরদিকে অবুঝ শয়তান,ইসলাম বিদ্বেষী ও ওলামা বিদ্বেষীরা বিস্ময়কর চোখে অবলোকন করছে ওলামাদের ঐতিহাসিক কারবার। হয়তো তারা সঠিক বুঝলে এটাই ভাবতো ওলামায়ে -কেরাম দুনিয়ার বাদশা না হয়েও বাদশার মত লক্ষ লক্ষ জনতার সমাবেশে তাদের জানাযা হয়। কোটি জনতার চোখ ভিজিয়ে যায়। সম্মানের সাথে বিদায় দেওয়া হয়। আর এটাই তো পরকালের বাদশা হবার সুস্পষ্ট নমুনা। অবশেষে তারাও বাদ যায়নি এই ঐতিহাসিক রাজকীয় জানাজায় শরিক হতে। এটাই হলো ওলামা-কেরামের শান। তাঁরা মৃত্যুর পরেও যেনো এক নতুন ইতিহাস প্রতিষ্ঠা করে যায়। তাঁর জানাযাপূর্ব আলোচনার মঞ্চে ঠাঁই পায় দেশ বরেণ্য ওলামাদের একদল। শীর্ষ আলেমদের বক্তব্য ছিল খুবই স্মৃতিবহ ও বেদনাময়। যাতে ফুটে উঠেছে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী রহমাতুল্লাহ আলাইহির রেখে যাওয়া সোনালী হরফে আঁকা জীবন ও কর্ম। সবার বক্তব্যেই যেন একটা কথা বারবার শোনা যাচ্ছে- ‘আজ আমরা এক মহান ব্যক্তিত্ব ও মনীষী কে হারিয়েছি’। তাঁর শূন্যস্থান পূরণ হবার নয়।কেননা তিনি ছিলেন একজন হক্কানী বুজুর্গ। শুধু কি তাই! তাকওয়া, হকের উপর অবিচলতা, ইখলাস, সত্যের পথে আপোষহীনতা, হক ও হক্কানিয়াতের প্রতিষ্ঠা এবং আদর্শ মানব গঠন ইত্যাদি গুণে তিনি ছিলেন অন্যতম।খুবই সত্য কথা! এমন মহান আলেমের মৃত্যু দেশ ও জাতির জন্য অনেক বড় শূন্যতা ও বেদনাদায়ক ব্যাপার। তার বিচিত্র, হৃদয়ের ছোয়া,জীবন-কর্ম,আলোকোজ্জ্বল অবদান ও গুণাবলী তাকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই তবে আছে তাঁর স্মৃতি। তিনি আজ বিদায়, আছে তাঁর কথামালা গর্জন। বাবুনগরী রহ. এর এই ঐতিহাসিক জানাযার দৃশ্য স্মৃতির পাতায় আঁকা থাকবে আজীবন।ঘুরেফিরে সবাই উপলদ্ধি করবে রাজকীয় জানাযা।অধ্যায়ন করবে জীবন ও কর্ম।

 

পরিশেষে বলবো, আল্লামা হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন বিশ্বের প্রশংসনীয় সন্তান। তার হৃদয় ছিল উদার, চিন্তা-চেতনা ছিল বিশুদ্ধ ও পরিচ্ছন্ন।যাঁর ধমনিতে প্রবাহিত হতো হকের চেতনা। মানবতা,সততা-নিষ্ঠা, দেশপ্রেম ও নীতি পরায়নতা ছিল তার চরিত্রের অলংকার। যার ফলে তিনি দেশের আলেম সমাজের পাশাপাশি সাধারণ আমজনতার কাছেও ছিলেন ভালোবাসার পাত্র।আমরা আশাবাদী,বাংলার সিংহ পুরুষ আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী রহ. এর জীবন ও কর্মে রেখে যাওয়া নসিহত ও শিক্ষা আমাদের জীবনে কল্যাণ বয়ে আনবে। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন, আমিন।

লেখক, এনায়েতুল্লাহ ফাহাদ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Website maintained by Masum Billah