শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন

ডিপ্রেসন বা মানসিক যন্ত্রণা দূরে রাখতে কিছু পরিক্ষিত কার্যকরী পদক্ষেপ

রবিউল আউয়াল;
ডিপ্রেসন বা মানসিক যন্ত্রণা অথবা জীবন সম্পর্কে সব চিন্তা-ভাবণা একে অপরের অবিশ্ছেদ্য অংশ ।সকল ডিপ্রেসন থেকে দূরে থাকার কিছু টিপস্ লিখলাম । আমাদের জীবনে চলার পথে আমরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হই। সমস্যা কাটিয়ে আবার চলতে হয় বহুপথ। এই দীর্ঘ চলার পথে দেখা দেয় সম্পর্কের টানাপোড়া। ফাটল ধরে বন্ধুত্বে। ফলে বেলা শেষে নিজেকে একা মনে হয়।
প্রতিটি মানুষের একাকীত্বের কারণ আলাদা। কেউ হয়তো শারীরিকভাবে নিজেকে বিচ্ছিন্ন মনে করেন, আবার কেউ হয়তো শিকার হয়েছেন বৈষম্যের, কারও পক্ষে অন্যকে বিশ্বাস করা কঠিন, আবার অনেকেই জানেন না নিজের মন মানসিকতার সঙ্গে মিল আছে এমন মানুষ কোথায় পাবেন। ইসলামি মাইন্ড ফিরে আনুন নিজের ভিতর – কোরআন তেলাওয়াত করুন, ও শুনুন, ইসলামি হামদ-নাত নাশিদ শুনুন । ইসলামে দাওয়াতে সময় দিন। প্রভুর সৃষ্টি নিয়ে ভাবুন। আর , সময় হলে কবরস্থান থেকে ঘুরে আসুন। ভ্রমন করুন– ভ্রমণ হ‌চ্ছে একা‌কিত্ব দূর করার এক‌টি কার্যকরী উপায়। বন্ধু বা আত্বীয় কা‌ছে, কাছে বা দূরে কোথাও বেড়াতে যেতে পারেন, কাউ‌কে সা‌থে না পে‌লে বেরিয়ে পড়ুন একাই। দে‌শে কিংবা বি‌দে‌শ থে‌কে বেড়িয়ে আসুন। কোথায় যাবেন? জায়গাটা বাছুন আপনার ব্যাক্তিত্ব অনুযায়ী। বি‌ভিন্ন সামা‌জিক আচার-অনুষ্ঠানে যোগ দিন। জাতীয় আয়োজন থেকে শুরু ক‌রে ছোট মেলাতেও যে‌তে পারেন। যেকোনো কোর্স কর‌তে সেখা‌নে ভ‌র্তি হয়ে যান। সেটা হ‌তে পা‌রে ভাষা শিক্ষা, রান্না, ব্যায়ামের কোর্স। কাজ শেষে শপিং-এ যান । বই পড়ার অভ্যেস করুন– বই আমাদের সবচেয়ে ভালো বন্ধু।
বইয়ের মত আপন এবং নিঃস্বার্থ বন্ধু আপনি এই দুনিয়ায় খুজে পাবেন না। বই হচ্ছে জ্ঞানের ভান্ডার আর জ্ঞান অর্জন করলে সেই জ্ঞান কখনো বিফলে যায় । যখন মানুষ একাকীত্বতায় ভোগে তখন তারা কষ্টের সাগরে ডুবে সুখ হাতরে বেরায়। একাকীত্ব আমাদের স্বাভাবিক মানসিকতা ধ্বংস করে ফেলে। চিন্তাশক্তির পতন ঘটায়। একাকীত্ব যখন গ্রাস করে তখন বিষণ একা লাগে নিজেকে আর সেই সময়টাকে যদি বইকে বন্ধু ভেবে বই পড়ার অভ্যাস করা যায় তাহলে সময় কেটে যায় পলকেই আর একা লাগে না। বই পড়ার অভ্যাস জ্ঞানের প্রদানের সাথে সাথে আপনার একাকীত্বকেও দূর করবে। এটি একাকীত্ব দূর করার উপায় হিসেবে স্বীকৃত। আপনার শখগুলোকে জাগ্রত করুন– ছোট ছোট করে নিজের ইচ্ছাগুলোকে পূরণ করুন। নিজেকে নিজে উপহার দিন । যেমন-নিজের জন্য নতুন কিছু কিনুন সেটা হোক – বই, কলম, ডাইরি,বা শপিং করা আপনার জন্য । নিজের চেহারা আয়নায় বার বার দেখুন আর ছোট বেলার কথা ভাবুন- ছোট বেলায় নিজে কেমন ছিলেন । এক্ষেত্রে আপনি আপমার শখগুলোকে কাজে লাগাতে পারেন। কেননা, নিজের শখের কাজ করতে সবারই ভালো তথা আনন্দ লাগে। তখন আমাদের মুখে হাসি ফুটে উঠে। তখন একাকীত্ব বোধটা পালিয়ে যায়। তাই আপনি যদি পশু পাখি পালন করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনি আপমার শখগুলোকে কাজে লাগাতে পারেন। একাকীত্বকে প্রশ্রয় দিলে এটি আপনাকে ক্রমেই তার চাদরে মুড়িয়ে নেবে। তাই একাকীত্বে ভুগলে নতুন কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকুন। ছোটবেলার কথা স্মরণ করুন– ছোটবেলার স্মৃতিগুলো খুব মধুর হয়ে থাকে। সাধারণত একাকীত্বে থাকলে মানুষের মন ভারাক্রান্ত থাকে। মনে প্রশান্তির হাওয়া বয় না। মন খারাপের রাজ্যটাই তখন সঙ্গি হয়ে যায়। ডিপ্রেশনের চাদরে নিজেকে মুড়িয়ে অন্ধকার ঘরে তখন পুড়নো স্মৃতির জাল বুনে চলে। এসময় আমাদের দরকার এক চিলতে হাসি, একটু আনন্দ। হাসিই এসব রোগের ওস্তাদি টোটকা। তাই হাসার জন্য ছোট বেলার স্মৃতি মনে করা যেতে পারে। তাহলে অচিরেই মুখের কোনে এক চিলতে হাসি ফুটতে বাধ্য। কেননা অনেকেরই ছোটবেলার সুখস্মৃতি দিয়ে টইটম্বুর। নানান মজার স্মৃতি দিয়েই সাজানো ছিল ছোট বেলা। তাই এসব সুখের স্মৃতি চিন্তা করলে মন ভালো হয়ে যায়। তখন আর নিজেকে একা লাগে না। ছোট বাচ্ছাদের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তুলুন– ছোট বাচ্ছাদের মন কোমল হয়ে থাকে । আপনি যখন তাদের সাথে কথা বলবেন তখন তাদের মত আচরণ করুন। এতে আপনার মনের বিষন্নতা দূর হবে সাথে মনটাও ফ্রেশ থাকবে । মনে চির সুখ অনুভূতি হবে । সৃজনশীল কাজ করুন– সামাজিক কর্মকাণ্ডে যোগ দেওয়া ।
কিছু তৈরি করা শিখুন। এতে করে, ইচ্ছার বিরুদ্ধে কারো সঙ্গে কথা বলার চাপে থাকতে হবে না। সেইসঙ্গে নিজের পছন্দের কোন কাজ বেছে নেয়ায় আপনি হয়তো সেখানে এমন কাউকে পেয়ে যাবেন, যার সঙ্গে আপনার চিন্তা ভাবনা মিলে যাবে। আবেগকে বয়ে যেতে দিন সৃজনশীল কাজের ভেতর দিয়ে। ছবি আঁকুন, ইসলামি গান করুন, যে কাজটি আপনাকে নতুন করে সৃষ্টি করবে বা সৃষ্টির আনন্দ পাবেন সে কাজটি করুন। প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটান ও ব্যায়াম করুন– শরীর ঠিক রাখুন। ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর খাওয়া–দাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। সঙ্গে একটু আধটু রূপচর্চায় সময় বেশ ভালো কাটবে। খেলা বা দেশবিদেশের খবরাখবর রাখতে পারলে ভালো। রসিকতার ভাঁড়ার পূর্ণ হলে তো কথাই নেই। মোট কথা, নিজস্বতা বলে কিছু একটা যেন থাকে।
মনের আরোগ্য পেতে প্রকৃতির মতো বড় ওষুধ আর নেই। আর তাই প্রকৃতির কাছে যান। সমুদ্র, পাহাড় বা ধারের কাছের কোনো পার্ক যেকোনো জায়গায় ঘুরে আসতে পারেন। এটি আপনাকে একাকিত্ব দূর করতে কাজ করবে। এমন কিছু করুন যাতে খারাপ মনোযোগ সরে যায়:– একাকীত্ব একটি অস্থায়ী অনুভূতি। জীবনের বিভিন্ন পট পরিবর্তনে আমরা একাকী বোধ করি। সেটা হতে পারে নতুন কলেজ জীবন শুরু করা বা সম্পূর্ণ নতুন কোন স্থানে বসবাস শুরু করা। পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন– সেসব বন্ধুদের কাছে যান, যারা আসলেই আপনার জন্য সহযোগী, আপনার প্রাণের বন্ধু। প্রয়োজনে তাদের সাহায্য চান আপনাকে এই যন্ত্রণা থেকে বের করে আনতে। বিভিন্ন সৃজনশীল কাজ একাকীত্বের কষ্ট থেকে আমাদের দূরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। অনুভূতি বন্ধুবান্ধব বা পরিবারের সঙ্গে শেয়ার এই সমাধানটির কথা সাধারণত তারাই বলেন যারা একাকীত্ব বোধ করেননা। এতে বোঝা যায় যে, এ ধরণের সমাধান দেওয়া যতোটা সহজ, বাস্তবে করা ততোটা সহজ না। আপনি কেন একাকীত্ব বোধ করেন সে ব্যাপারে জানুন– তাই, একাকী জীবনটাকে বদলাতে আপনার ভিত‌রে ইচ্ছাশ‌ক্তি অর্থাৎ আত্ম‌বিশ্বাসকে জাগ্রত করতে হ‌বে। একা‌কিত্বকে সমস্যা না ভে‌বে সাম‌নে এ‌গি‌য়ে যাওয়ার চেষ্টায় স‌চেষ্ট থাক‌তে হ‌বে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Website maintained by Masum Billah