শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন

ফের বেশি করে আলু খাওয়াতে চায় সরকার, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে চিঠি

যুবকণ্ঠ ডেস্ক:

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে দিশেহারা দেশ। স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে ক’দিন পর পর লকডাউন দিতে বাধ্য হচ্ছে সরকার। এতে দিনে দিনে ক্ষতি বেড়েছে দেশের অর্থনীতির। লকডাউনের কবলে পণ্য পরিবহন জটিলতা আরও প্রকট করেছে কৃষকসহ তৃণমূল মানুষের অর্থনৈতিক সংকটকে। এর মধ্যে একের পর এসেছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের হানা, যা বারবারই ক্ষতি করেছে কৃষকের।

এতো এতো দুর্যোগের মাঝেও দেশের খাদ্য সংকট মোকাবিলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন কৃষকরা। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও উৎপাদন করে যাচ্ছেন নানান ফসল। লকডাউনের কারণে সেই ফসলও গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াচ্ছে কৃষকের।

আলু বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় ফসলগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি। সাধারণত প্রতিবছর সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরে রোপন করা হয় আলুর বীজ। সেই হিসাবে আলুর নতুন বীজ বপনের সময় চলে এসেছে। অথচ এখনো বিভিন্ন জেলার হিমাগারে জমে আছে লাখ লাখ টন আলু।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, দেশের শীর্ষ আলু উৎপাদনকারী জেলা মুন্সিগঞ্জে এবার ৩৭ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে আলু উৎপাদন হয়েছি প্রায় ১৩ লাখ টন। এর মধ্যে কৃষকরা জেলার ৭৪টি হিমাগারে সংরক্ষণ করেছেন প্রায় ৫ লাখ ৮০ হাজার টন। যার অধিকাংশই এখনও পড়ে আছে হিমাগারেই।

জেলার কৃষকরা বলছেন, ১৩ টাকা দরে তাঁরা হিমাগারে আলু রেখেছেন। এবার আশানুরূপ চাহিদা না থাকায় বছর পেরিয়ে গেলেও আলু বিক্রি হয়নি। হিমাগার খরচসহ মিলিয়ে এখন প্রতিকেজি আলুর দাম ১৮ থেকে ২২ টাকায় দাঁড়ালেও পাইকারি আলু বিক্রি হচ্ছে ১১ থেকে ১২ টাকা দরে। এতে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে যাচ্ছেন তাঁরা। ফলে আগামী বছর কমতে পারে আলু চাষের পরিমাণও।

কৃষি বিপণন অধিদফতরের তথ্য বলছে, দেশে এবছর আলু উৎপাদন হয়েছে ১০৬ লাখ টন। এবার বিদেশে আলু রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ১০০ লাখ টন ধরা হলেও রফতানি করা গেছে ৫৫ লাখ টন। এখনো দেশের বিভিন্ন স্থানে হিমাগারে রয়েছে ২৪ লাখ টন আলু।

এমন পরিস্থিতিতে কৃষককে আলু উৎপাদনে উৎসাহ দিতে এবার আলুর ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে সরকার। আলুর বহুমূখী ব্যবহার বাড়াতে সম্প্রতি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে চিঠিও দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট ত্রাণ বিতরণসহ সরকারি সহযোগিতা কর্মসূচিতে আলু ব্যবহার বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, এনজিওবিষয়ক ব্যুরো এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নাছিমা খানম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশে আলু উৎপাদন উত্তরোত্তর বাড়ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে আলু উৎপাদনের পরিমাণ ছিলো ১১৩.৭১ লাখ টন। বর্তমানে আলুর পর্যাপ্ত মজুদ আছে। উৎপাদিত আলুর যথাযথ ও বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত প্রয়োজন। এজন্য বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এমনকি হতদরিদ্রের মাঝে চাল, গম, আটা এবং অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি আলুও বিতরণ করা যেতে পারে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, এতে একদিকে যেমন আলুর বহুমুখী ব্যবহার বাড়বে অন্যদিকে ভোক্তাপর্যায়ে আলুর চাহিদা পূরণ হবে এবং কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাত নিশ্চিত হবে। দেশে আলুর পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় ত্রাণ কার্যক্রমে চাল, গম, আটা ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী বিতরণের তালিকায় আলুকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয় ওই চিঠিতে।

কৃষি বিপণন অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, বছরজুড়ে টানা লকডাউন থাকায় বন্ধ ছিলো হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। এই কারণে আলুর আশানুরূপ ব্যবহার হয়নি। বিদেশে আলু রফতানির পরিমাণ বেড়েছে ঠিক, কিন্তু হলোহাট রোগের কারণে সেটাও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে লক্ষ্যমাত্রার পুরোটা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। ফলে নতুন করে বীজ বপনের সময় চলে এলেও আলুর অনেক বেশি মজুদ রয়ে গেছে। যা আলু চাষীদের আগামীতে আলু উৎপাদনে নিরুৎসাহিত করবে।

তিনি জানান, আলু চাষীদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে খাদ্য সহায়তা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানকে খাদ্য সহযোগিতায় আলুর ব্যবহার বাড়ানোর অনুরোধ করা হয়েছে। দু’একটি প্রতিষ্ঠান সাড়াও দিয়েছে।

মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, আমরা চাই না চাষীরা নিরুৎসাহিত হয়ে আলু আবাদ কমিয়ে দিক। আমরা আশাবাদী এবার যেসব কারণে রফতানি লক্ষ্যমাত্রায় ব্যাঘাত ঘটেছে সেটা আগামীতে হবে না। এখন যে পরিমাণ আলু হিমাগারে আছে সরকারি ত্রাণ ও সহযোগিতা কর্মসূচিতে ব্যবহার শুরু হলে তা শেষ করা ও পর্যাপ্ত দামে নিয়ে যাওয়া খুব একটা কঠিন কিছু না। তাই আমরা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, এনজিওবিষয়ক ব্যুরো এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারকে অনুরোধ জানিয়েছি। তাঁরাও আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Website maintained by Masum Billah