শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম:
ভোলায় রাসূল সা.-কে অবমাননাকারী গৌরাঙ্গকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে: হেফাজত বঙ্গবন্ধু ছিলেন সব দিকেই দক্ষ একজন রাষ্ট্রনায়ক: আ ক ম মোজাম্মেল ইভ্যালিতে প্রতারিতরা কি টাকা ফেরত পাবেন? ভারতে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ৭৭টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে ‘তালেবান ক্ষমতায় আসার পর এখন আর ঘুষ দিতে হয় না’ ভোলায় মহানবীকে অবমাননার প্রতিবাদে বিক্ষোভ-সমাবেশ আমি প্রেসিডেন্ট হলে ফ্রান্সে মুহাম্মদ নাম নিষিদ্ধ করা হবে এহসান গ্রুপে ৩০ লাখ টাকা খুইয়ে স্ট্রোক করে বৃদ্ধের মৃত্যু দেশকে রক্ষা করতে একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী গঠন করব: আফগান সেনাপ্রধান ৯৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১০ লাখ মানুষকে ঘর তৈরি করে দিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী

দাওয়াত; মুমিন-জীবনের এক অন্যতম মিশন।

  • আনওয়ার হুসাইন রিয়াদ
দাওয়াতে দীন,ইসলামের এক মৌলিক বিধান। যুগে যুগে নবী-রাসুল প্রেরণের অন্যতম লক্ষ্যও এটি।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা তাঁর প্রিয় হাবীব মুহাম্মাদ সা:এর প্রতি অহি প্রেরণ করলেন।রেসালাতের দায়িত্ব দিয়ে ডেকে বললেন—
‘হে কাপড়আবৃত ব্যক্তি! ওঠো!! অতঃপর মানুষকে সতর্ক করো,আর তোমার রবের বড়ত্ব ঘোষণা করো।(সুরা মুদ্দাসিসর:১-৩)
এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে নবিজি সা: কে রেসালাতের এক গুরুগম্ভীর দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হলো। জীবনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য ভুলে, নিজেদের মনমতো, মত-পথে চলে যারা অন্ধকারের পথে পা বাড়িয়ে ছিল,যারা নিজেদের প্রবৃত্তি আর কাম-বাসনার পুজা করে করে জাহান্নামের দ্বারপ্রান্তে এসে উপনিত হয়েছিল,আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে সত্য-সুন্দর,আদর্শের পথে,হেদায়েতের পথে ডাকার নির্দেশ জানিয়ে দিলেন।
শুরু হলো নবী-জীবনের নতুন পথচলা। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লার নির্দেশমতে দাওয়াতের কাজের মিশন নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন নবিজি সা:।
মানুষের দ্বারে দ্বারে,পথে ঘাটে,মেলা-বাজারে সর্বত্রই ছুটে চললেন দাওয়াতের মহান উদ্দেশ্য নিয়ে।একজন না শুনলে অন্যজন শুনবে,সে না শুনলে আরেকজন শুনবে।এক জায়গার মানুষ কবুল না করলে হয়তো অন্য জায়গার মানুষ কবুল করবে!
মক্কার মানুষ যখন তাঁর ডাকে সাড়া দিলো না, প্রিয় নবী তখন তায়েফ গমনের ইচ্ছে করলেন।
কোন বাহন নাই। বিকল্প কোন ব্যবস্থাও নাই।৮০ মাইল দূরের পথ। তবুও যে যেতে হবে! নবিজি সা: যায়েদ বিন হারেসাকে সাথে নিয়ে ৮০ মাইলের পথে পায়ে হেঁটে রওনা দিলেন..।মানুষকে তো দীনের পথে ডাকতে হবে!
এভাবে তিনি ডাকলেন,তাঁর জাতি-গোষ্ঠীকে, পাড়াপ্রতিবেশিদেরকে।দেশবাসীকে। গোটা বিশ্ববাসীকে।
“হে মানব জাতি!যদি মুক্তি চাও,যদি কল্যাণ চাও,যদি সাফল্য চাও তবে তাওহিদের পথে আসো।শিরক-কুফুরের পথ ছাড়ো।এক আল্লাহর গোলামী করো, জাহিলিয়্যাতের অন্ধকার পথ ছেড়ে ইসলামের আলোকিত পথে আসো”।
“হে কুরাইশ জাতি! নিজেদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানোর ব্যবস্থা করো।
হে বনু কা’ব!…
হে বনু হাশেম!…
হে বনু আব্দিল মুত্তালিব!…
হে মুহাম্মাদ তনয় ফাতিমা!
তুমি নিজে নিজের মুক্তির ব্যবস্থা করো আমি তোমাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করতে পারব না।
স্বগোত্র,ভিন্নগোত্র সকল জাতি-গোষ্ঠী,মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে তিনি দ্বীনের দাওয়াত দিতেন।আল্লাহর দিকে ডাকতেন।
মানুষকে মানুষের গোলামী থেকে মুক্ত করে এক আল্লাহর সাথে সম্পর্কযু্ক্ত করে দেওয়ার এক মিশন নিয়ে ছুটে চলতেন,যে চলা ছিল ক্লান্তিহীন,বিরতিহীন, আর তৃঞ্চার্থ পথিকের পানির খোঁজে হন্যে হয়ে ছুটে চলার মতো।যেখানেই মানুষ সেখানেই দ্বীনের দায়ি মুহাম্মাদ সা:।রাত নেই,দিন নেই,ঘুম নেই, বিশ্রাম নেই।ছুটছেন তো ছুটছেন। কোথায় “ওকাজ” মেলা বসবে, মানুষেরা সেখানে যাবে, কেউ খেজুর বিক্রি করবে কেউ কিনবে,অনেকে উট-দুম্বা বেচাকেনা করবে, পোশাক পরিচ্ছদ ক্রয়-বিক্রয় হবে।কেউ কেউ মজা করে নানা রকমের খেল তামাশা দেখবে,আরবের ঐতিহ্যবাহী গান-কবিতার আসরে অংশগ্রহণ করবে,সেই কবিতা প্রতিযোগিতার শ্রোতা-দর্শক হতেও ঔৎসুকের অভাব নেই।সবাই যাচ্ছে জিনিসপত্রের ক্রয়বিক্রয় আর আনন্দ-বিনোদন,ফূর্তির জন্য, আর প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সা: চলছেন,হাজারো মানুষের মেলা থেকে অন্তত দু-চারজনকে আল্লাহর পথে আনতে,দীনের দিকে ডাকতে…
এই দাওয়াতে দীনের কাজেই আল্লাহর রাসুল সা: কে সবচেয়ে বেশি কষ্টের শিকার হতে হয়েছে। সবচেয়ে বেশি দুঃখ যাতনা আর ত্যাগ শিকার করতে হয়েছে।
নবুওয়তের এই দায়িত্ব পালন করতে যেয়ে প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সা: কে যে পরিমান বিপদ-মুসিবত, আর দুঃখ দুর্দশার সম্মুখীন হতে হয়েছে পৃথিবীর ইতিহাসে তা বিরল।
উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়েশা রা: একবার আল্লাহর রাসুল সা: কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন,
“ইয়া রাসুলাল্লাহ! উহুদের ন্যায় কষ্ট কি আর কোনদিন আপনাকে ভোগ করতে হয়েছে.?
নবিজি সা: প্রতিত্তোরে বলেছিলেন,আয়েশা!তায়েফে আমার সাথে যে আচরণ করা হয়েছে তা আমার জীবনে সবচেয়ে বেদনাদায়ক এবং কষ্টদায়ক ঘটনা”।
এতো এতো কষ্ট-বেদনা আর ত্যাগ-তিতিক্ষার চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করে প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সা: দাওয়াতে দীনের কাজ করে গেছেন।মানুষকে আল্লাহর পথে, দীনের পথে ডেকেছেন।
প্রবৃত্তির পুজারিরা তাদের মিথ্যা অহংকারের দাপটে আল্লাহর নবী’র এই মিশন বন্ধ করে দেওয়ার জন্যও চতুর্মূখী ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছে।
কখনো সম্পদের প্রলোভন দেখিয়ে কাজ বন্ধ করতে চেয়েছে,কখনো সুন্দর নারীর ফাদে ফেলে আটকে দিতে চেয়েছে,আবার কখনো বা বাড়ি-গাড়ির অফার করে কাবু করতে চেষ্টা করেছে।কখনো বা সমোঝোতা আর লিয়াজোর ভিত্তিতে সমাজের নেতৃত্বও তুলে দিতে চেয়েছে।
প্রিয় নবিজি সা: কখনোই তাদের সাথে আপোষ করেননি,তাদের বিছানো রঙিন ফাদে পা দেননি। নিজের নীতি-আদর্শ আর পলিসিতে অটল অবিচল থেকে সেই মিশন বাস্তবায়নে কাজ করে গেছেন।
শয়তানের পুজারি বাতিল অপশক্তি যখন হাজরো লোভ-প্রলোভন দেখিয়ে দমিয়ে রাখতে পারে নাই,তখন প্রকাশ্যে তারা খুন-গুম, হত্যার হুমকিও দিয়েছে।
প্রানাধিক প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সা: শয়তানি শক্তির সেই হুমকি-ধমকি’র পরোয়া করেননি।কোন অপশক্তির সামনে মাথা নত করেননি। তাদের কথায় সামান্যতম বিচলিত হননি। বুকে আকাশসম হিম্মত নিয়ে, আল্লাহর প্রতি শতভাগ বিশ্বাস আর আস্থা-ভালোবাসা নিয়ে মানুষকে সত্যের পথে ডেকেছেন। মানুষকে মানুষের গোলামী থেকে মুক্ত করে এক আল্লাহর গোলামী করার আহবান জানিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Website maintained by Masum Billah