শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:৩৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম:
বিশ্ব মানবতার কণ্ঠস্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা: আইসিটি প্রতিমন্ত্রী মুসলিম শিক্ষক নেই, ভোলার স্কুলে ইসলাম শিক্ষার ক্লাস হয়নি ৩২ বছর! জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যা বলেছেন ইমরান খান এক বছরের মধ্যে ইসরাইলকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ছাড়তে হবে: মাহমুদ আব্বাসের আলটিমেটাম আত্মহত্যা নয় নিহত শাহাদাত হত্যাকাণ্ডের স্বীকার মহামারি বড় আকার ধারণ করলে আবারও বন্ধ হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নামের আগে আলহাজ না লেখায় ৫ জনকে কুপিয়ে জখম ডিসেম্বরে চালু হবে ৫জি সেবা: মোস্তাফা জব্বার ছেলে-মেয়ের বিয়ের আগেই পাত্রের মাকে নিয়ে পালিয়ে গেলেন পাত্রীর বাবা! ইরান-রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করতে চায় তালেবান

সম্ভাবনাময় আ ফ গা ন ভূমি : সুযোগ নিতে হবে বাংলাদেশকে

  • সৈয়দ শামসুল হুদা

আর নয় যুদ্ধ। আর নয় কোন প্রকার সংঘাত ও অস্ত্রের ঝনঝনানি। এবার আফগানকে গড়ার পালা। ইসলামের সুমহান আদর্শের চমৎকার অনুশীলন ঘটিয়ে একবিংশ শতাব্দীতেও মানুষকে সুখে-শান্তিতে রাখা যায় সে পথ আবিস্কার করতে হবে আ ফ গা ন নেতৃত্বকে। যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই সংঘাত ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের অবসান ঘটিয়ে এমন একটি সমাজ উপহার দিতে হবে, যেখান থেকে মানুষ পালিয়ে যাওয়া নয়, বরং সেখানে ফিরে যাওয়ার জন্য বর্তমান শাসকদের কাছে আকুতি করবে। মানুষ শান্তি চায়, স্বস্তি চায়। আ ফ গা নকে বিশ্বের সকল শান্তিকামী মানুষ একটি সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে দেখতে চায়।যাদের ভেতরে ইসলাম নিয়ে রয়েছে চরম এলার্জি, বিদ্বেষ, একমাত্র তারা ছাড়া আর কেউ আ ফ গা নে ফিরে আসা ইসলামী সরকারকে খারাপ চোখে দেখতে পারে না। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশকে গড়তে হলে বড় রাষ্ট্রগুলোকে স্বউদ্যোগে এগিয়ে যেতে হবে। আর তারই লক্ষণ এবার দেখা যাচ্ছে। চীন, রাশিয়া, কাতার, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান, ইরান, তুরস্ক সকলেই তাদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। যদিও সকলেরই নিজ নিজ স্বার্থ আছে। স্বার্থ থাকবেই। এটা কোন বিষয় নয়। একজন সাহায্য করলে সেটা যদি অনৈতিক না হয়, রাষ্ট্র বিরোধী না হয়, তাহলে তার স্বার্থ দেখলে অসুবিধা কি? পরস্পরের মধ্যে ছাড় দেওয়ার মাধ্যমেই নতুন আফগান গড়ে তোলা সম্ভব। আর সেই কাজটাই করে যাচ্ছে নতুন সরকার। ঠিক এই মুহুর্তে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের একজন প্রতিথযশা ডাক্তার, বীর মুক্তিযোদ্ধা, দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবি জনাব ড. জাফরুল্লাহ সরকারের কাছে একটি আহবান জানিয়েছে। আর সেই আহবানটা আমি মনে করি যথার্থ ও সময়ের সঠিক সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশ সরকারকে এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। আফগান সরকার তারা এখন আর ব্যাক ডেটেড ভাবনা নিয়ে ময়দানে আসে নাই। তারা এখন অনেক বেশি প্রাজ্ঞ ও বাস্তববাদি। তারা অভিজ্ঞতার আলোকে এখন অনেক বেশি সমৃদ্ধ। সে আলোকেই তারা মধ্য এশিয়ার সম্ভাবনাময় এই দেশটিকে নতুন করে সাজাতে চায়। সেইহেতু বাংলাদেশের সামনে এখন বড় একটি সুযোগ সময়ের বাস্তবতাকে কাজে লাগানোর। আফ গা নে এখন অনেক কিছুই রফতানি করার আছে বাংলাদেশের। আবার আফগান থেকেও অনেক কিছু আনার সুযোগ আছে। বিশেষ করে আ ফ গা নে নতুন করে বাংলাদেশীদের ভালো একটি কর্মসংস্থান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আ ফ গা নে বাংলাদেশের বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোও এগিয়ে যেতে পারে। তারা সেখানে গিয়ে নিজেরাই কল-কারখানা, বড় বড় ফ্যাক্টরী গড়ে তুলতে পারে। আর এসব কাজে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিকদের সেখানে নিয়ে গিয়ে ভালো একটি কাজের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। যে সুযোগটা নেওয়ার জন্য চীন, রাশিয়া, তুরস্ক, ইরান একপায়ে খাড়া। মুসলিম ভ্রাতৃপ্রতীম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য রয়েছে অপরিসীম সুযোগ ও সম্ভাবনা। আর সে জন্যই জাফরুল্লাহ খান বলেছেন, কোন প্রকার গড়িমসি না করে, কী করে নতুন সরকারের সাথে কাজ করা যায় তা নিয়ে এখনই সরকারকে ভাবতে হবে। নতুন আ ফ গা নে দ্রুত বাংলাদেশের একটি দূতাবাস খোলা উচিত। বিশাল একটি মুসলিম দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস না থাকা দুর্ভাগ্যজনক। একটি কথা খুব পরিস্কার করে বলি, আ ফ গা নের সাথে রাষ্ট্রের স্বাভাবিক সম্পর্ক তৈরির দ্বারা রাষ্ট্রের লাভ। নতুন আ ফ গা নী দের সাথে অস্বাভাবিক লোকদের কোন সম্পর্ক গড়া রাষ্ট্রের জন্য নিরাপদ নাও হতে পারে। তৃতীয় কোন শক্তি বাংলাদেশে থাকা আবেগপ্রবণদের নানা উস্কানী দিয়ে মাঠে নামাতে পারে। তখন সেটা সরকারের জন্য, দেশের জন্য নানা অঘটনের জন্ম দিবে। একটি ভ্রাতৃপ্রতীম মুসলিম দেশের সাথে স্বাভাবিক যাওয়া-আসার পথ করে দিন। মনে রাখবেন, বর্তমানে যারা ক্ষমতায় আসছে, আল্লাহ সাহায্য তাদের প্রতি আছে বলেই বিশ্বাস করি। এবং তারা কোন প্রকার শর্টটাইম ক্ষমতায় থাকার জন্য আসেনি। আল্লাহ চাইলে তারা দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকবে ইনশাআল্লাহ। আর সে জন্যই এটা খুব জরুরী যে, নতুন সরকারের সাথে কী প্রক্রিয়ায, কী কৌশলে বাংলাদেশ সরকার কাজ করবে সেটা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হওয়া উচিত। এ নিয়ে পাকিস্তানের সাথে, তুরস্কের সাথে, চীনের সাথে, কাতারের সাথে নানাভাবে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করা উচিত মনে করি। আ ফ গা নী নাগরিকদের এখন অনেক কিছুরই প্রয়োজন হবে। সে দেশে উৎপাদনের কোন পরিবেশ এতদিন ছিল না। কিন্তু বর্তমান সরকার সেটা করবে। তারা পরনির্ভরশীল অর্থনীতি থেকে স্বনির্ভর অর্থনীতির নিয়ম-নীতি অনুসরণ করবে। আর সে জন্যই বিশাল সেই দেশটিতে নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি হবে। এ সুযোগটা নিকট প্রতিবেশি হিসেবে, উম্মাহর একটি সদস্য দেশ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। সকল প্রকার জড়তা কাটিয়ে উঠতে হবে। আশ-পাশের কোন রাষ্ট্রের ফিসফিসানি শুনে বাংলাদেশের কোন লাভ নাই। বাংলাদেশকে স্বতন্ত্র জায়গা থেকে নিজস্ব কৌশল ও পদ্ধতিতে আগাতে হবে। আমরা আশা করবো সরকার সঠিক পথেই এগিয়ে যাবে। আর আ ফ গা নে র নতুন সরকারও বাস্তবতা বুঝে বাংলাদেশকে মুল্যায়ন করবে। একটি ভ্রাতৃপ্রতীম দেশ হিসেবে তারা বাংলাদেশের প্রতি বিশেষ নজর রাখবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে সঠিক বুঝ দান করুন। গোটা মুসলিম বিশ্বকে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার তৌফিক দান করুন। জেনারেল সেক্রেটারী বাংলাদেশ ইন্টেলেকচুয়াল মুভমেন্ট বিআইএম

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Website maintained by Masum Billah