শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম:
ভোলায় রাসূল সা.-কে অবমাননাকারী গৌরাঙ্গকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে: হেফাজত বঙ্গবন্ধু ছিলেন সব দিকেই দক্ষ একজন রাষ্ট্রনায়ক: আ ক ম মোজাম্মেল ইভ্যালিতে প্রতারিতরা কি টাকা ফেরত পাবেন? ভারতে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ৭৭টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে ‘তালেবান ক্ষমতায় আসার পর এখন আর ঘুষ দিতে হয় না’ ভোলায় মহানবীকে অবমাননার প্রতিবাদে বিক্ষোভ-সমাবেশ আমি প্রেসিডেন্ট হলে ফ্রান্সে মুহাম্মদ নাম নিষিদ্ধ করা হবে এহসান গ্রুপে ৩০ লাখ টাকা খুইয়ে স্ট্রোক করে বৃদ্ধের মৃত্যু দেশকে রক্ষা করতে একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী গঠন করব: আফগান সেনাপ্রধান ৯৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১০ লাখ মানুষকে ঘর তৈরি করে দিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী

ভারতের কাছ থেকে যা পাব, প্রতিদানে তাই দেব: তালেবান

যুবকণ্ঠ ডেস্ক:

আফগানিস্তানে ক্ষমতায় পর সম্প্রতি কাতারে তালেবানের মুখপাত্র সুহাইল শাহীন বার্তা সংস্থা সিএনএনকে একটি সাক্ষাতকার দিয়েছেন। বুধবার এটি প্রকাশ করা হয়। সেখানে আফগানিস্তান-ভারত সম্পর্ক, সরকার গঠনসহ বিভিন্ন বিষয়ে তালেবানের দৃষ্টিভঙ্গি ও পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন তিনি। সেই সাক্ষাতকারের সম্পাদিত উদ্ধৃতি:

প্রশ্ন: আফগানিস্তানে জয়ের এক সপ্তাহ কেটে গিয়েছে, এখনও তালেবান সরকার গঠনের জন্য সংগ্রাম করছে। এমনকী আপনার প্রতিনিধিরা আমরুল্লাহ সালেহের কাছেও গিয়েছে। এই গোটা বিষয়টিকে কী ভাবে দেখেছেন? এর সমাধান করতে কত সময় লাগবে?

উত্তর: হ্যাঁ, আমি মেনে নিচ্ছি তালেবান সরকার গঠনের জন্য একটু সময় লাগছে। আসলে পরামর্শ এবং আলোচনার জন্য একটু সময় লাগছে, আমরা সমস্ত আফগান ব্যক্তিত্ব ও রাজনীতিবিদদের নতুন সরকারে রাখতে চাই। তাই আমরা ভবিষ্যতের সরকার তৈরির আলোচনায় সমস্ত আগের সরকারের কর্মীদের উপস্থিত রাখার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। তবে একটা বিষয় বলে রাখা ভালো, কাবুল দখলের প্রথম দিনেই আমরা নতুন সরকার গঠন করে ফেলতে পারতাম। কিন্তু আমরা তা করিনি, আমরা সকলের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ বৈঠকের চেষ্টা করছি। আশা করছি খুব শীঘ্রই আমরা নতুন সরকার তৈরি করে তা ঘোষণা করে ফেলব।

প্রশ্ন: ভারত গত দুই দশক ধরে আফগানিস্তানে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছে। নতুন রাস্তাঘাট বানানো হয়েছে, বাঁধ বানানো হয়েছে, এমনকী সংসদ ভবন নির্মাণ করে দিয়েছে। ভারতের এই অবদানকে আপনি কী ভাবে দেখছেন? জানা গিয়েছে, তালেবান ভারতের সঙ্গে সব ধরনের ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছে। এই খবর কি সত্যি? এটা কি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে?

উত্তর: যা আফগানিস্তানের মানুষের জন্য ভালো সেগুলিকে সব সময় আমরা সমর্থন করি। আফগানিস্তানের মানুষের কল্যাণে আসবে এমন কোনও কাজ অসম্পূর্ণ থাকলে ভারত তা সম্পূর্ণ করতে পারে। আমরা বিরোধিতা করেছিলাম, তালেবান বিরোধী সরকার ও আফগানিস্তানের জনগণের পাশে ভারতের থাকার বিষয়টিকে। আসলে আমরা গত ২০ বছর ধরে যেটা চেয়েছি, তা হল আফগানিস্তানের মানুষের সঙ্গে ভারতের ভালো সম্পর্ক এবং দেশের স্বাধীনতার জন্য জনগণ কী চাইছে সেগুলিকে মেনে নেওয়া। এটাই ছিল আমাদের বক্তব্য এবং আমাদের অবস্থান। আমরা বলেছিলাম, যে আমাদের এই পুতুল সরকারের পাশে থাকা উচিত নয় ও আফগানিস্তানের মানুষের চাহিদাকে সমর্থন করা উচিত।

প্রশ্ন: আপনি বলছেন আফগানিস্তানে পশ্চিমা ধাঁচের কোনও গণতন্ত্র থাকবে না। তাহলে সংসদ ভবন নিয়ে আপনার কী মতামত, যা নির্বাচনী গণতন্ত্রকে মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছিল?

উত্তর: হুম, সেক্ষেত্রে আমরা নতুন সংবিধানের একটি খসড়া তৈরি করব এবং সরকার গঠন করব। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরে, সংবিধানের খসড়া তৈরির জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে। আর অবশ্যই ওই ভবনটিকে সুবিধা, অসুবিধায় ব্যবহার করা হবে। মানুষ ও ইসলামের বিভিন্ন কাজে ওই বিল্ডিংটিকে ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্রশ্ন: তালেবান দখল নেওয়ার পর সাধারণ মানবাধিকারের ওপর কিছু ইতিবাচক উন্নয়ন দেখা গিয়েছে। তবে এখনও মহিলাদের কাজ করার অধিকার দেওয়া হয়নি। গজনির মহিলাদের জিনস পরার জন্য মারধর করা হয়েছে। শুক্রবার মানবাধিকার লঙ্ঘনের ১৭টি অভিযোগ জমা পড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এটা একটা বড় সমস্যা আপনার কি সেটা মনে হচ্ছে না?

উত্তর: এটা কোনও স্থায়ী বিষয় নয়, এটা অস্থায়ী। কারণ, মহিলাদের শিক্ষার অধিকার রয়েছে। তাদের কাজ করার অধিকার রয়েছে। কিন্তু, সেটা হিজাব পরে। আর জিনস পরার ইস্যু খুব ছোট্ট একটা ঘটনা। এই সমস্যার সমাধান খুব তাড়াতাড়ি করা হবে। তবে কিছু শর্ত থাকবে। মেয়েরা শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে প্রবেশাধিকার পাবে। এই নিয়ে কারও চিন্তিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।

প্রশ্ন: ইতিবাচক মানবাধিকার থাকার পরও সরকারি কর্মচারীরা উদ্বিগ্ন। তাদের তালেকা তৈরি করে তালেবান ক্যাডাররা তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খুঁজছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে কিছু হত্যা করার ভিডিও সামনে এসেছে। আপনি এটাকে কী ভাবে দেখছেন, এর মানে কি তালেবান ক্যাডাররা আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই?

উত্তর: বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজা বিষয়টা সত্যি নয়। গতকালও আমি এর বিরোধিতা করেছিলাম… কারণ এরকম কিছু এখানে হচ্ছে না তাই তাদের চিন্তার কোনও কারণ নেই। আমাদের সেনাবাহিনী এই পুরো বিষয়টি তদারকি করছে এবং অপরাধীদের সনাক্ত করছে। তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে। আমাদের নীতির কোনও পরিবর্তন হয়নি এবং আমরা সকলকে সেই নীতি মেনে চলার বার্তা দিচ্ছি। আর যদি কেউ এই নীতি লঙ্ঘন করার চেষ্টা করে তাহলে তাকে জবাবদিহি করতে হবে।

প্রশ্ন: সকল কর্মচারীরা হত্যার ভয়ে কাজে যোগ দিতে চাইছেন না। এখন তালেবানদেরও উচিত সবটা নিয়ন্ত্রণে রাখা। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে নাগরিকদের সুবিধা সব কিছুই এখন চ্যালেঞ্জিং। কত তাড়াতাড়ি আপনি এগুলি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন?

উত্তর: যারা অন্য দেশে যেতে চাইছেন তাদের কাছে যদি বৈধ নথি ও ভিসা থাকে তাহলে বিমানবন্দরে পৌঁছতে কোনও অসুবিধা হবে না। আমাদের কাছে খবর রয়েছে আইএসএর সদস্যরা অন্য দেশে বিশেষ করে পশ্চিমের দেশগুলিতে যেতে চাইছেন। তাই এক্ষেত্রে আমাদের তরফ থেকে এয়ারপোর্টে কড়া নিরাপত্তা রাখা হয়েছে সকলের ওপর নজরদারি চালানোর জন্য। যাদের কাছে বৈধ নথি থাকছে না তাদেরকে আমরা এক্ষেত্রে অনুমতি দিচ্ছি না।

প্রশ্ন: প্রথমবার এরকম বিক্ষোভ চলছে, মহিলারা রাস্তায় নেমে তাদের সব ক্ষেত্রে সমান অধিকার চাইছেন। তালেবানরা তাদের অনুমতি দিচ্ছে কেবলমাত্র আন্তর্জাতিক মিডিয়া হাউজগুলি এখানে রয়েছে বলে, না কি সত্যি সত্যি বাস্তবেও এটাই হবে?

উত্তর: কর্মক্ষেত্রে নারীদের প্রবেশাধিকার নীতিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তারা তা অবশ্যই করতে পারবে। কিন্তু, মুসলিম হওয়ার কারণে তাদের হিজাবের নিয়ম মেনে চলতেই হবে, তবেই তারা নিজেদের মতো কাজ করতে পারেন। তাদের যাবতীয় অভিযোগের জন্য আমরা একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের কথা বলেছি যেখানে তাদের অভিযোগগুলি জানাতে পারেন নারীরা। তারা নিজেদের অধিকার নিয়ে সেখানে জানাতে পারেন আর সেখানে যদি কোনও অভিযোগ আমাদের চোখে পড়ে সেটার দ্রুত সমাধান করা হবে।

প্রশ্ন: গতকাল খবর পাওয়া গিয়েছে যে তালেবানরা কিছু ভারতীয়দের অপহরণ করেছে, পরে খবর আসে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এর পর তারা নিরাপদে ভারতেও পৌঁছেছে। কিন্তু কেন এমন রিপোর্ট এসেছে? আপনি কি মনে করেন না যে, যারা স্ব-ইচ্ছায় দেশ ছেড়ে যেতে চাইছে তাদের সবাইকে অনুমতি দেওয়ার বার্তাটা স্পষ্ট করা উচিত?

উত্তর: প্রথমেই অপহরণ শব্দের বিরোধিতা করব। আমার মতে উন্নত বিশ্বে অপহরণ শব্দটা মানায় না। আমরা ইতিমধ্যেই বিবৃতি জারি করেছি যে আমরা দূতাবাস এবং কূটনীতিকদের কাজকর্মের যথাযথ ব্যবস্থা প্রদান করব। আমি এই খবর আগে পেয়েছিলাম। জানতে পেরেছি তাদের ডকুমেন্টে কিছু অসুবিধা ছিল। তাই কয়েক ঘন্টার জন্য তাদের আটকে দেওয়া হয়েছিল। দেওয়া কথা অনুযায়ী আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তা আমরা প্রমাণ করে দেখিয়েছি। দেশ এবং দেশের বাইরে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ মানতে না চাওয়া মানুষের অভাব নেই একথা স্বীকার করতেই হবে। তারা আমাদের অপপ্রচারের জন্য যা নয় তাই করছে, এগুলোর তদন্ত যখন করা হবে তখন গোটা সত্যিটা সামনে আসবে।

প্রশ্ন: যখনই ভারত ও আফগানিস্তানের বন্ধুত্বের কথা মনে করা হয়, তখন বলিউড ছবি কাবুলিওয়ালা, অমিতাভ বচ্চনের শাহেনশাহের কথা মনে করা হয়। সম্প্রতি ভারতে একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে, যে ১৯৯৬ সালে শাহেনশাহ ছবি তৈরি করার জন্য আপনি নিজের সমস্ত নিরাপত্তা ছবির ক্রুদের দিয়েছিলেন, সেই একই সময় আবার ফিরে পেতে চান আপনি?

উত্তর: আমি মনে করি এটা আফগানিস্তানের প্রতি তাদের নীতি এবং পদক্ষেপের উপরে নির্ভর করছে, সেই নীতি আগ্রাসী হতে পারে অথবা আফগানিস্তানের জনতার উন্নয়নের পক্ষপাতী হতে পারে। তবে যদি কখনও কোনও ইতিবাচক বিষয় আসে, সে ক্ষেত্রে দেশবাসী তেমনই প্রতিদান দেবে যা আফগানিস্তানের মানুষের জন্য ভালো। আফগানিস্তানে ভারতের তৈরি বাঁধ একটা বড় ও ভালো প্রকল্প, যা দেশের কল্যাণের জন্য তৈরি করা হয়েছে। দেশবাসী তা মনে রাখবে।

প্রশ্ন: আফগানিস্তানের উন্নয়নের বিষয়ে গোটা বিশ্বের দরবারে আপনার বার্তাটা ঠিক কী?

উত্তর: বিশ্বের দরবারে আমার বার্তা- কিছু দিন হয়েছে আমরা যুদ্ধ শেষ করেছি। এবার আমরা সব কিছু পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে চাইছি। এবার আমরা এক নতুন সূচনা করতে চলেছি। এই অধ্যায়ে আফগানিস্তানের জনগণের সাহায্যের প্রয়োজন পড়বে। দেশের উন্নতির জন্য বিশ্বের সব দেশ আর্থিকভাবে আমাদের দেশের জনগণের সঙ্গে থাকুক, যা ভবিষ্যতে উন্নত আফগানিস্তান গড়ে তুলতে সাহায্য করবে এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সূদৃঢ় করবে। আফগানিস্তানের ৭০ শতাংশ মানুষ অসহায়, তারা দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছেন। আমাদের দেশ ২০ বছর ধরে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করেছে। তাই আমরা আশা রাখছি বিশ্বের বড় দেশগুলি আমাদের মানুষের পাশে থাকবে।

প্রশ্ন: তালেবান শীর্ষ নেতা মোল্লা আখুন্দজাদা কোথায়?

উত্তর: তিনি খুব শীঘ্রই সকলের সামনে আসবেন। ২০ বছর ধরে আমরা বড় সংগ্রাম করেছি, এমন পরিস্থিতিতে তাকে জনসাধারণের চোখের আড়ালে থাকতে হয়েছে। ইনশাআল্লাহ আবার তিনি সবার সামনে আসবেন। সংবাদমাধ্যমের কাছে আমার অনুরোধ আপনারা প্রোপাগান্ডা ছড়াবেন না। এগুলি সঠিক বিষয় নয়। এগুলি আফগানিস্তানের মানুষ ও সংবাদমাধ্যমের মধ্যে দূরত্ব বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাই সংবাদমাধ্যম ভালো বিষয়ের ওপর বেশি করে জোর দিক যেগুলি আমাদের দাবিকে সমর্থন করে।

প্রশ্ন: আরও একবার বলিউড ছবির প্রসঙ্গে আসছি। ভারত-আফগান সম্পর্ক ঠিক থাকলে আমরা কি আবার এই দেশের মাটিতে ভারতীয় সিনেমার শ্যুটিং হচ্ছে তা দেখতে পাব?

উত্তর: এটা ভবিষ্যতের জন্য ছেড়ে রাখা ভালো। এখনই এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাই না আমি। আফগানিস্তানে আগে শান্তি প্রতিষ্ঠা হোক। এখন আফগানিস্তানের মানুষের নিরাপত্তা ও জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন রয়েছে। এটাই এখন নতুন আফগানিস্তানের মানুষের অগ্রাধিকার। তাই আপনার প্রশ্নের উত্তর ভবিষ্যতের জন্য রাখা রইল। সূত্র: ফার্স্টপোস্ট।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Website maintained by Masum Billah