শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:২৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম:
বিশ্ব মানবতার কণ্ঠস্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা: আইসিটি প্রতিমন্ত্রী মুসলিম শিক্ষক নেই, ভোলার স্কুলে ইসলাম শিক্ষার ক্লাস হয়নি ৩২ বছর! জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যা বলেছেন ইমরান খান এক বছরের মধ্যে ইসরাইলকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ছাড়তে হবে: মাহমুদ আব্বাসের আলটিমেটাম আত্মহত্যা নয় নিহত শাহাদাত হত্যাকাণ্ডের স্বীকার মহামারি বড় আকার ধারণ করলে আবারও বন্ধ হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নামের আগে আলহাজ না লেখায় ৫ জনকে কুপিয়ে জখম ডিসেম্বরে চালু হবে ৫জি সেবা: মোস্তাফা জব্বার ছেলে-মেয়ের বিয়ের আগেই পাত্রের মাকে নিয়ে পালিয়ে গেলেন পাত্রীর বাবা! ইরান-রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করতে চায় তালেবান

কুরআন তিলাওয়াতে যেমন দেখেছি আল্লামা বাবুনগরী রহিমাহুল্লাহুকে

যুবকণ্ঠ ডেস্ক:

ইন্তেকালের আগ পর্যন্ত প্রতিদিন বাদ ফজর আল্লামা বাবুনগরী রহিমাহুল্লাহুকে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করতে দেখেছি। শুক্রবার নিয়মিত সূরাতুল কাহাফ তিলাওয়াত করতেন। সফরে থাকলেও গাড়িতে বসে মুখস্থ তিলাওয়াত করে নিতেন। মাত্র দশ বছর বয়সে হিফজ শেষ করেছিলেন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী রহিমাহুল্লাহু। হিফজ শেষ করে স্বীয় উস্তাদ মরহুম হাফেজ এজহার ধর্মপুরী (রহ.) কে এক বৈঠকে পুরো কুরআন শরীফ শুনিয়ে কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। এক বৈঠকে পুরো কুরআন শরীফ শোনাতে পারায় হাফেজ এজহার সাহেব (রহ.) আল্লামা বাবুনগরী রহিমাহুল্লাহুর জন্য প্রাণখুলে দুআ করেছিলেন। উস্তাদের দুআর বরকতেই হিফজ শেষ করা সেদিনের ছোট্ট জুনায়েদ পরবর্তীতে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হিসেবে সর্বত্র সুপরিচিত হয়েছিলেন। নিজের হিফজখানার স্মৃতিচারণ করে আল্লামা বাবুনগরী রহিমাহুল্লাহু একদিন বলেছিলেন – হাফেজ এজহার ধর্মপুরী হুজুরের নিকট আমি পবিত্র কুরআন শরীফ হিফজ করেছি। এবং হিফজ শেষ করার পর এক বৈঠকে আমি পুরো কুরআন শরীফ হুজুরকে শুনিয়েছি। এক বৈঠকে পুরো কুরআন শরীফ শুনানোর কারণে হুজুর আমার উপর যারপরনাই খুশী হয়েছিলেন এবং প্রাণখুলে সবসময় আমার জন্য দুআ করতেন। তিনি আমাকে খুব বেশি মুহাব্বত করতেন।বিভিন্ন মজলিসে আমাকে নিয়ে তিনি গর্ব করতেন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী রহিমাহুল্লাহুর তিলাওয়াত ছিলো খুবি চমৎকার ও হৃদয়গ্রাহী। কোন কৃত্তিমতা ছিলো না হযরতের তিলাওয়াতে। হযরতের তিলাওয়াত অন্তরে বিশাল প্রভাব বিস্তার করতো। অর্থের দিক খেয়াল করে, দরদমাখা ভাঙ্গা কণ্ঠে তিলাওয়াত করতেন তিনি। তিলাওয়াতের সময় আয়াতের শেষ দিকে এসে এমনভাবে আওয়াজ ছাড়তেন যা শুনতে ভিন্নরকম একটা মজা লাগতো। মাঝেমধ্যে শুক্রবারে সূরাতুল কাহাফ তিলাওয়াতের সময় আমাকে বলতেন- ও মিয়া জুনাইদ! আমি সূরা কাহাফ পড়ছি, তুমি খেয়াল করিও তো কোন আয়াত ছুটে যায় কিনা। কোন আয়াত বাদ পড়লে আমাকে ধরিয়ে দিও….।

আমি তখন খুব মনযোগ সহকারে হযরতের তিলাওয়াত শুনতাম। আলহামদুলিল্লাহ, বয়োবৃদ্ধ বয়সেও হযরতের স্মৃতিশক্তি ছিলো আশ্চর্যজনক। পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা তিলাওয়াত করতেন কিন্তু কোন ভুল হতো না। মাঝেমধ্যে কোন আয়াত ভুল পড়েছেন মনে হলে হযরত নিজে নিজেই সেই আয়াতের কয়েক আয়াত আগ থেকে পড়া শুরু করতেন৷ ভুল হলে আমি বলার আগে হযরত নিজেই ঠিক করে নিতেন। আমাকে বলতেন- ও মিয়া! ঠিক আছে তো, কোন আয়াত ছুটে যায়নি তো ? অন্যদের থেকেও কুরআনের তিলাওয়াত শুনতে পছন্দ করতেন আল্লামা বাবুনগরী রহিমাহুল্লাহু। খ্যাতিমান কোন হাফেজ ক্বারী হযরতের কাছে আসলে হজরত তাঁদের থেকে কুরআনের তিলাওয়াত শুনতেন। তাদেরকে খুব সম্মান খাতির দেখাতেন। অসুস্থতার দরুন হযরত বাবুনগরী রহিমাহুল্লাহু নিয়মিত মসজিদে যেতে পারতেন না। কিন্তু প্রায়ই ফজরের ওয়াক্তে হুইলচেয়ারে করে মসজিদে যেতেন। বলতেন- ফজরের নামাযে কুরআন তিলাওয়াত শুনলে কলিজাটা শীতল লাগে। মনটা ভালো লাগে। রুমে ফজরের নামায পড়লে হযরত প্রায়ই আমাকে বলতেন- মাসনূন কেরাত পড়িও। লম্বা কেরাত পড়িও। মাঝেমধ্যে বলে দিতেন এই সূরা পড়ো,ঐ সূরা পড়ো। গেল রমজানেও হযরত নিজের রুমে খাদেমদেরকে নিয়ে খতমে তারাবী পড়েছেন। হযরতের খাদেম হাফেজ ইমরান ভুজপুরী ভাই খতমে তারাবী পড়িয়েছেন। হযরত নিজেও এই রমজানে এক খতম পড়েছেন। ঈদের চাঁদ উঠার দুইদিন আগেই হযরত তিলাওয়াত শেষ করেছিলেন। তিলাওয়াত শেষ করে হযরত আমাকে বলেছিলেন- ও মিয়া! তিলাওয়াত শেষ করে ফেললাম। সতর্কতা স্বরূপ একটু আগে শেষ করলাম। যেন খতমটা রমজানের মধ্যেই হয়। ইন্তেকালের আগ সময়টাতে হযরত কুরআনের তিলাওয়াত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। প্রতিদিন বাদ ফজর কুরআন তিলাওয়াত করতেন। শারীরিক দূর্বলতার কারণে হাতে ভারী কিছু ধরার শক্তি পেতেন না। কুরআন শরীফটা নিজ হাতে ধরে পড়তে কষ্ট হতো। চোখের জ্যোতিও তখন অনেকটা কমে গেছিলো। হাতে ধরার শক্তি নেই, চোখের জ্যোতি কম এরপরও হযরত কুরআন তিলাওয়াত ছাড়েননি। কখনো আমি কুরআন শরীফ খোলে ধরে রাখতাম আর হযরত এক আয়াত, এক আয়াত করে পড়তেন। মাঝেমধ্যে অন্য খাদেমদের সহযোগীতায় পড়তেন। এরপরও নিয়মিত তিলাওয়াত করতেন। কুরআন শরীফ তিলাওয়াত, কিতাব মোতালায়া ইত্যাদির সুবিধার জন্যই ইন্তেকালের মাত্র নয়দিন আগে গত ১০ ই আগস্ট ডান চোখের অপারেশন করিয়েছিলেন। ইচ্ছে ছিলো অপারেশনের ফলে চোখে ভালো দেখবেন। বুখারী শরীফের পাঠদান করবেন। হাদীসের কিতাব মেশকাত শরীফ পড়াবেন। কিন্তু শায়েখের সেই ইচ্ছে আর পূরণ হলো না। দুনিয়া থেকে চিরবিদায় নিলেন….. ইন্তেকালের আগে ফজরের পর যখন তিলাওয়াত করতেন,তিলাওয়াত শেষে কুরআন শরীফটা হাতে নিয়ে চুমু খেতেন,নাকেমুখে লাগাতেন, বুকের সাথে জড়িয়ে ধরতেন আর এই কবিতাটি পড়তেন- وَفينا رَسولُ اللَهِ يَتلو كِتابَهُ إِذا اِنشَقَّ مَعروفٌ مِنَ الصُبحِ ساطِعُ আল্লাহ তায়া’লা হযরত বাবুনগরী রহিমাহুল্লাহুকে জান্নাতুল ফিরদউস নসিব করুন আমিন।

স্মৃতিচারণে- জুনাইদ আহমদ খাদেম: আল্লামা বাবুনগরী (রহ.)

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Website maintained by Masum Billah