শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৪০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম:
ভোলায় রাসূল সা.-কে অবমাননাকারী গৌরাঙ্গকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে: হেফাজত বঙ্গবন্ধু ছিলেন সব দিকেই দক্ষ একজন রাষ্ট্রনায়ক: আ ক ম মোজাম্মেল ইভ্যালিতে প্রতারিতরা কি টাকা ফেরত পাবেন? ভারতে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ৭৭টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে ‘তালেবান ক্ষমতায় আসার পর এখন আর ঘুষ দিতে হয় না’ ভোলায় মহানবীকে অবমাননার প্রতিবাদে বিক্ষোভ-সমাবেশ আমি প্রেসিডেন্ট হলে ফ্রান্সে মুহাম্মদ নাম নিষিদ্ধ করা হবে এহসান গ্রুপে ৩০ লাখ টাকা খুইয়ে স্ট্রোক করে বৃদ্ধের মৃত্যু দেশকে রক্ষা করতে একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী গঠন করব: আফগান সেনাপ্রধান ৯৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১০ লাখ মানুষকে ঘর তৈরি করে দিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী

যে বিজয় বদলে দিবে মধ্য এশিয়ার সব রাজনীতি

সৈয়দ শামসুল হুদা :
মধ্য এশিয়ার রাজনীতি দ্রুতই পাল্টে যাচ্ছে। উত্থান ঘটছে এক নবশক্তির। আর তাদের কাজকর্ম দেখে প্রতিনিয়তই অবাক হচ্ছি। সময়ের চাওয়া-পাওয়াকে উপলব্দি করার এত নিখুঁত জ্ঞান সেই শক্তিটাকে আরো বেশি রহস্যময় করে তুলেছে। বিশাল একটি দেশের পুরো কর্তৃত্ব হাতে নেওয়ার পর তারা যেভাবে অনেকগুলো বিষয়ে তাৎক্ষণিক পরিস্কার সিদ্ধান্ত দিয়েছে এটা দেখে অবাক না হয়ে পারিনি। আদর্শিক বিষয়ে ছাড় দেওয়া যায় না। আবার সময়ের চরম বাস্তবতাকেও গ্রহন করতে হবে। কিছু মৌলিক বিষয়ে অভিজ্ঞতার ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে নিজেদের মতো করে চলতেও হবে। এটাই নিয়ম। মধ্য এশিয়ার দেশ আ ফ গা ন এর নতুন নেতৃত্ব তড়িৎ এমন কিছু সিদ্ধান্ত দিয়েছে যা দেখে গোটা বিশ্ব হতবাক। বিপুল শক্তি নিয়ে ক্ষমতায় এসেও তারা কতটা নমনীয়, কতটা সহনশীল, কতটা সুক্ষ্ণদর্শী, তা দেখে বারবার হতবাক হচ্ছি। তাদের এবং আমাদের মাঝে সংক্ষিপ্ত কিছু তুলনা করার পাশাপাশি নতুন সরকারের কিছু বৈশিষ্ট্য তুলে ধরবো।

২০০১সালে বিপুল সংসদীয় আসন নিয়ে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসে। সেই সময়ের সবচেয়ে বড় শক্তি বিএনপিকে দেখেছি প্রতিটি পদে পদে কীভাবে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগতে। সংসদে উপনেতা নিয়োগ থেকে সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহনে তাদের ঢিলেমি ইতিহাস হয়ে থাকবে। কওমী মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি নিয়ে নানা তালবাহানা করেছে। সংসদীয় বিপুল ক্ষমতা দিয়ে মাত্র দুটি বিশেষ আইন সাংবিধানিকভাবে পাশ তারা করিয়েছিল, যার কোন প্রয়োজনই ছিল না। তারমধ্যে একটি ছিল বিচারপতিদের অবসর গ্রহনের বয়স ৬৫থেকে ৬৭করা, আর দ্বিতীয়টি ছিল প্রধানমন্ত্রীর ছবি ঝুলানো বাধ্যতামূলক করা। এর সরল উদ্দেশ্য ছিল দুটি। পরবর্তীতে যেন আওয়ামীলীগের দাবি মোতাবেক জাতির জনকের ছবি টানানো ঠেকানো যায়। আর বিচারপতি হাসানকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান করা যায়। এভাবে রাষ্ট্র চালানো যায় না। বিএনপির পরিণতি এজন্যই ভালো হয়নি। আজ তারা সে দিনের অযোগ্যতার খেসারত দিচ্ছে।

অপরদিকে লীগ সরকার তার টার্গেট মিশনে সামান্যতম দ্বিধা করছে না। সর্বশেষ জিয়ার মাজারকে টার্গেট করা হয়েছে। এটাও তারা চূড়ান্ত করেই ছাড়বে। একে একে তাদের সব স্বপ্ন বিনা বাধায় পূরণ করে ছেড়েছে। সকল প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করে ছেড়েছে। লীগ সরকারের বৈশিষ্ট্য হলো, তারা কোন বিষয়ে দ্বিধায় ভোগে না। যা করার তা করে ফেলে। তাতে কে কি মনে করলো, তারা থোরাই কেয়ার করে। এটা খারাপ হোক ভালো হোক রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একটি ভালো দিক।এজন্য দেশে অনেক কিছু ভালো কাজও হয়েছে। যদিও অসংখ্য খারাপ নজির তৈরি করেছে।

অপরদিকে ইসলামী দলগুলোর দিকে তাকালে সেখানেও হতাশা ভর করে। হেফাজতের মতো বিশাল একটি জনসমর্থিত সামাজিক শক্তি তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে পড়লো শুধুমাত্র সিদ্ধান্তহীনতার কারণে। যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে। ষড়যন্ত্রের জাল ভেদ করে তারা বের হয়ে আসতে পারেনি। আজো হাবুডুবু খাচ্ছে নানা খাদে-খন্দকে। নেই বিপুল সংখ্যক আনুগত্যশীল কর্মী, নেই যোগ্য নেতৃত্ব। নেই কোন পর্যালোচনাও। দিন দিন শুধূ গ্রুপিং বাড়ছে।

যেটা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছিলাম, সেটা হলো আমাদের নিকট প্রতিবেশি দেশ আ ফ গা নে এসেছে অকল্পনীয় রাষ্ট্রীয় পরিবর্তন। ২০০১সালে যে ভয়ে সেই দেশের তৎকালীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল, তারা শুধূ ক্ষমতায় ফিরেই আসেনি, গত ২০বছরের বিপুল বিনিয়োগ, উন্নয়ন, সমরাস্ত্রসহ ক্ষমতায় ফিরে এসেছে। আর অনেক পরাশক্তি আজ তাদের সাথে কাজ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। তারাও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। সারা বিশ্বের সকল মিডিয়া যখন এটা প্রচার করছিল যে, এই বুঝি আ ফ গা নে শুরু হতে যাচ্ছে গোত্রভিত্তিক মারামারি, খুনোখুনি। কিন্তু এর কিছুই হয়নি। এক পাঞ্জশীর এখনো তারা দখল করতে পারেনি। এটা নিয়ে নানা টিটাকারী বাহির দেশ থেকে মারা হচ্ছে। কিন্তু ওরা অস্ত্রের ভাষায় কথা বলছে না। তারা অভিজ্ঞতার ভাষায় কথা বলছে। তারা প্রজ্ঞার ভাষায় মোকাবেলা করছে। তারা যৌক্তিক ও সুন্দর সমাধানের পথে হাঁটছে।

নতুন সরকার ও শক্তির কিছু বৈশিষ্ট্য যা আমার চোখে ধরা পড়েছে, সেগুলো নিম্নরূপ:
* এত বড় একটি দেশ তারা নিয়ন্ত্রনে নিলো, অথচ দলে কোন ধরণের অরাজকতা তৈরি হলো না। বিশৃঙ্খলা দেখা গেলো না।
* গোটা দেশের কোথাও কোন লুটপাটের ছবি প্রকাশিত হলো না।
* কারো সম্পদে হাত বাড়িয়েছে এমন ছবি কেউ দেখাতে পারলো না। অথচ তাদের চোখের সামনেই সেই পলাতক লোকদের সহায় সম্পদ পড়ে রয়েছে।
* তারা আনুগত্যের চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করলো।
* রাজধানী দখলের সাথে সাথে সকল অপরাধীদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বাস্তবায়ন করেও দেখিয়েছে।
* গোটা বিশ্বের ঝানু কূটনীতিবিদদের সাথে যোগ্যতার সাথে সব বিষয় আলোচনা করে সমাধা করছে।
* তুরস্কের সাথে কাবুল বিমান বন্দর নিয়ে অসাধারণ যোগ্যতার সাথে ডিল করেছে।
* নারী অধিকার নিয়ে অহেতুক আতঙ্ক তারা দূর করতে সক্ষম হয়েছে।
* রাজধানী দখলের কয়েক দিনের মধ্যে মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে সক্ষম হয়েছে।
* গত ২০টি বছরের সকল জুলুম, অত্যাচার, নির্যাতন সব ভুলে গিয়ে শুধু তারা সামনের দিকেই তাকিয়েছে।
* বিগত সরকার সমূহকেও তারা কাছে টানতে পেরেছে। হামিদ কারজাই, আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ প্রমুখ তা লে ব দের সাথেই আছে।
* বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ভান্ডার পেয়েও কোথাও তারা দুটি অস্ত্র গায়েব করেছে এমন সংবাদ কেউ করতে পারেনি।
* রাষ্ট্রের কোন সম্পদকে তারা নিজের গণিমতের মাল মনে করেনি।
* দেশ কীভাবে চলবে সে ব্যাপারে পরিস্কার ধারণা দিয়ে দিয়েছে। রাখডাক করেনি।
* গণতন্ত্র নিয়ে মিউ মিউ করেনি।
* সুযোগ থাকা সত্ত্বেও এককভাবে রাষ্ট্র গঠনের কোন চিন্তা করেনি।
* শত্রু-মিত্র সকলকেই তারা কাছে টানার উদ্যোগ নিয়েছে।
* প্রতিবেশি সবগুলো দেশের সাথে সুসম্পর্ক তৈরির যৌক্তিক উদ্যোগ গ্রহন করেছে।
* কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহনে ঢিলেমি করছে না।
* প্রতিটি সেক্টরে যোগ্য লোক নিয়োগ দিতে বিলম্ব করছে না।

এমনিভাবে অসংখ্য কথা বলা যায়, লিখা যায়, যেগুলো থেকে আমাদের অনেক কিছু শিখার আছে। এদেশের তরুন আলেমদের একটি শ্রেণি থাকা দরকার যারা এসব বিষয়ে গবেষণা করবে। তাদের প্রতিটি কর্ম, সিদ্ধান্ত সম্পর্কে খোঁজ-খবর রাখবে। তাদের কৌশলসমূহ বুঝতে চেষ্টা করবে।

আল্লাহ তায়ালা একটি বৃহৎ ইসলামী শক্তির এই সুন্দর উত্থানকে দীর্ঘায়ু করুন। তাদের স্থায়িত্ব দিন। ইসলামের সর্বোচ্চ সৌন্দর্য তাদের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার তৌফিক দান করুন। আমীন।

জেনারেল সেক্রেটারী
বাংলাদেশ ইন্টেলেকচুয়াল মুভমেন্ট বিআইএম
30.08.2021

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Website maintained by Masum Billah