রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১২:১৫ অপরাহ্ন

চারিদিকে শত্রু : সমবেদনা জানানোরও নেই কেউ

  • সৈয়দ শামসুল হুদা
আ ফ গা ন পরিস্থিতি জটিল সমিকরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি যত সহজ মনে করা হয়েছিল আসলে ততটা সহজ নয় মনে হচ্ছে। তারা ২০টি বছর একটি দখলদার শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে, লাখ লাখ মানুষের জীবন উৎসর্গ করে যখনই একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার চেষ্টা করছে তখন চতুর্দিকে শত্রুরা উৎ পেতে আছে কীভাবে তাদেরকে প্রতিটি পদে পদে বাধাগ্রস্থ করা যায়। ইসলামের শত্রুরা যেমন-তেমন তার চেয়ে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে কিছু কিছু মুসলিম দেশের মারাত্মক অসহযোগিতা। বিশেষ করে আরব রাষ্ট্রগুলো তাদের এতদিনকার অবৈধ শাসন নিয়ে পড়ে গেছে নানা হিসাবের গ্যাড়াকলে। মধ্যপ্রাচ্য থেকেও যদি আমেরিকা আ ফ গা নের মতো লেজ গুটিয়ে পালিয়ে যায়, তাহলে কী হবে তাদের ভবিষ্যত তার কিছুটা নমুনা কাবুল বিমানবন্দরে দেখেছে। মুসলিম দেশগুলোর সব স্বৈরশাসকরাই চোখে শর্ষেফুল দেখা শুরু করেছে। ছাত্র আন্দোলন যদি মেধা পাচার করে তাহলে উপায় কী হবে? সেই ভাবনাতেই অস্থির হয়ে উঠেছে বিভিন্ন দেশের রাজনীতি।
জাতিসংঘের ৫টি স্থায়ী সদস্য দেশ ছাড়া মূলত: আর কোন দেশই প্রকৃতপক্ষে বর্তমানে স্বাধীন নয়। সবাই জাতিসংঘ নামক একটি সংঘের বিভিন্ন মারপাচের গ্যাড়াকলে বন্দি। এহেন অবস্থায় অনেকেই চাচ্ছে তা লি ব দেরকে নানা আইনী জটিলতা দিয়ে আটকে রাখতে। তাদের হাত পা বেধে ফেলতে। ইতিমধ্যেই তাদের ৯শ কোটি ডলারের রিজার্ভ ফান্ড আটকে দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। আমেরিকা চাচ্ছে তাদেরকে কীভাবে নানা শর্তের বেড়াজালে ফেলে কাবু করা যায়। তাদের সৈনিকরা কাবুল বিমানবন্দর ত্যাগ করার সময় চুক্তির খেলাফ করে গোটা বিমানবন্দরকে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করে যায়। কয়েকটি মুসলিম দেশ যেভাবে আতঙ্কিত হয়ে উঠেছে তার সাথে যদি তাদের পেয়ারা বন্ধু ভারতের বিজেপি সরকার একটু সুযোগ পায় তাহলে তারা ক্ষমতার সর্বোচ্চ ক্ষতিটুকু করে ছাড়বে।
কাবুল বিমানবন্দর এর দায়িত্ব কাতার ও তুরস্ককে দেওয়ায় আবারও নড়েচড়ে বসেছে সৌদী আরব ও আরব আমিরাত। পূরণো খেলার ছককে কাবুলে টেনে আনলে তালিবদের জাতীয় দায়িত্ব পালন কষ্টকরই হবে। আ ফ গা নে গত ২০টি বছরে ভারত ও আমেরিকা বহু গাদ্দার তৈরি করেছে। তারা ভেতর থেকে ছুঁড়ি মারবে না এর কোন গ্যারান্টি নেই। পাঞ্জশীর এবং নারী স্বাধীনতা দুটি ইস্যু ইতিমধ্যেই মাথাচাড়া উঠেছে। তা লি ব রা যখনই নারীদের ব্যাপারে নরম হওয়ার চিন্তা করছে তখন তাসলিমাদর্শের নারীরা রাস্তায় প্লে কার্ড নিয়ে নেমে যাওয়ার সাহস করছে। বিশ্বব্যাপী প্রকৃত ইসলামের শত্রুর অভাব নেই। যখনই তালিব রা একটু স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলার সামান্য চিন্তা করছে তখনই কুচক্রী মহল তাদের পূরণো অস্ত্র শাণিত করছে। এসব সমস্যা মোকাবেলা করার জন্যই তালিবদের সরকার গঠনও বিলম্ব হচ্ছে।
কুরআন ও সুন্নাহর শাসনকে ভয় পায় শুধু অমুসলিমরা নয়, কোটি কোটি মুসলমানও। তারা অজানা আতঙ্কে থাকে। ইসলামকে জন্মের মতো ভয় পায়। এরা ইসলামের নানা ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে সত্যিকার ইসলামকেই প্রশ্নবিদ্ধ করতে ভুল করে না। সত্যিকার অর্থে যারা ঈমানদার তাদের উচিত, তালেবদের জন্য প্রাণখুলে দুআ করা। তাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া। সুপরামর্শ দেওয়া। তারা যেন এবার সফল হয় তার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা। আল্লাহ তায়ালা শত্রুর সকল শত্রুতা থেকে দেশটিকে হেফাজত করুন। আমীন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Website maintained by Masum Billah