শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:২২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম:
ভোলায় রাসূল সা.-কে অবমাননাকারী গৌরাঙ্গকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে: হেফাজত বঙ্গবন্ধু ছিলেন সব দিকেই দক্ষ একজন রাষ্ট্রনায়ক: আ ক ম মোজাম্মেল ইভ্যালিতে প্রতারিতরা কি টাকা ফেরত পাবেন? ভারতে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ৭৭টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে ‘তালেবান ক্ষমতায় আসার পর এখন আর ঘুষ দিতে হয় না’ ভোলায় মহানবীকে অবমাননার প্রতিবাদে বিক্ষোভ-সমাবেশ আমি প্রেসিডেন্ট হলে ফ্রান্সে মুহাম্মদ নাম নিষিদ্ধ করা হবে এহসান গ্রুপে ৩০ লাখ টাকা খুইয়ে স্ট্রোক করে বৃদ্ধের মৃত্যু দেশকে রক্ষা করতে একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী গঠন করব: আফগান সেনাপ্রধান ৯৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১০ লাখ মানুষকে ঘর তৈরি করে দিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী

“তা-লে-বা-নে-র উত্থান: আ-ফ-গা-ন ঘিরে এ অঞ্চলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ”

আ-ফ-গা-নি-স্তানে অনেক হিসেব এখনো গড়মিল থাকলেও একটি হিসেব খুবই স্পষ্ট তা হচ্ছে তা-লে-বা-নে-র উত্থানে এ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নরেন্দ্র মোদির ভারত। কে বেশি উপকৃত হয়েছে বা হবে তা নির্ধারণ করা সময়ের ব্যাপার। এ হিসাবে কেউ চায়নাকে আবার কেউ পাকিস্তানকে এগিয়ে রাখলেও নিকট ভবিষ্যতে চায়না ও পাকিস্তানকে পিছনে ফেলে অন্য কোনো দেশ প্রথম স্থান দখল করতেও পারে।

ভারত তাঁর প্রতিবেশীদের গুরুত্ব না দিয়ে আ-ফ-গা-নি-স্তা-নে উচ্চাভিলাসী টার্গেট নিয়ে এগিয়ে গিয়েছিল। আ-ফ-গা-ন-কে কেন্দ্র করে ইরানেও অগ্রসর হয়েছিল ভারত। ভারত মনে করতো আশরাফ ঘানি সরকারের হাতে আফগানিস্তানকে রেখে যাবে আমেরিকা। এর মাধ্যমে প্রো-আমেরিকান ও প্রো-ইন্ডিয়ান সরকারের উপর ভর করে আ-ফ-গা-নি-স্তা-ন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পূরো এ অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করবে ভারত। কিন্তু যখনি তা-লে-বা-ন-কে মুখপাত্র করে আ-ফ-গা-ন ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে আমেরিকা তখন থেকেই ভারতের আ-ফ-গা-ন স্বপ্ন বিলীন হতে শুরু করে।

যে কথাটি কেউ বলেনি সেটা হচ্ছে আ-ফ-গা-নি-স্তা-ন ছাড়াও উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে মধ্য প্রাচ্যের অন্যান্য মুসলিম দেশের প্রতিও হাত বাড়িয়েছিল ভারত। ক্ষমতার পাশাপাশি পেট্রো ডলারের ঘ্রান নিতে মরিয়া মহাগুরু নরেন্দ্র মোদী। মধ্য প্রাচ্যেও আমেরিকা কেন যেন ভারতকে ভাল যায়গা করে দেয়নি। সময়ের পরিক্রমায় আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে থেকে ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে। আমেরিকার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ফ্রান্স হয়ে উঠছে মধ্য প্রাচ্যের নতুন খেলোয়াড়।

ভারত আ-ফ-গা-নে তার তিন বিলিয়ন খুইয়ে দিশেহারা। তাঁদের মিডিয়া ও নেতাদের কথাবার্তায় ফুটে উঠছে তা-লে-বা-ন বিরোধী বিভিন্ন সংলাপ। সাথে বাদ যাচ্ছে না পাকিস্তান ও চায়নার প্রতি বিষোদগার। কখনো ইরানকে একধাপ উঁচুতে আবার কখনো নিচুতে নিয়ে চলছে আলোচনা পর্যালোচনা। সর্বশেষ পাঞ্জশির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানকে হিরো হিসেবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে উপস্থাপন করছে ভারতীয় গণমাধ্যম। এর মাধ্যমে ভারত হয়তো ইরানের মাধ্যমে তাঁদের আ-ফ-গা-নি-স্তা-নে-র শেষ স্বপ্নটুকু জিইয়ে রাখতে চাইছে।

ভারত চাচ্ছে আ-ফ-গা-ন তা-লে-বা-নে-র বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বলয় তৈরি করতে। যার অন্যতম স্টেকহোল্ডার হবে ওয়েস্টের ভাবধারাপুষ্ট কিছু মানুষ ও দেশ। তাঁদের মূল হাতিয়ার তা-লে-বা-ন-কে নারী বিদ্বেষী হিসেবে উপস্থাপন করা। তাদের মতে তা-লে-বা-ন থাকলে নারী অধিকার নিশ্ছন্ন হয়ে যাবে আ-ফ-গা-নি-স্তা-ন থেকে। কিন্তু তাদের এটাও মাথায় রাখা উচিত দূর্নীতি ও নারী অধিকার কেন্দ্র করেই তা-লে-বা-নে-র উত্থান হয়েছিল ১৯৯৬ সালে।

শরিয়া আইন মান্য করে নারী অধিকারে চ্যাম্পিয়ন হওয়া সম্ভব আ-ফ-গা-ন তা-লে-বা-নে-র পক্ষে। ধীরে ধীরে হয়তো সেদিকেই হাঁটবেন তারা। হয়তোবা একদিন অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখতে হবে আ-ফ-গা-নি-স্তা-নে-র নারী অধিকারের শরয়ী দৃষ্টান্ত। ততদিনে ভারতীয় গনমাধ্যম ও তাদের সহযোদ্ধারা হয়তো নতুন কোন প্রেমিস নিয়ে হাজির হবে আমাদের মাঝে।

শফিউল আলম শাহীন
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Website maintained by Masum Billah