মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ১১:২৭ অপরাহ্ন

হাটহাজারী মাদরাসাকে বাঁচাতে প্রয়োজন দুই শ্রেণির মানুষের সক্রিয় ভূমিকা

এক. দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরামের সক্রিয় ভূমিকা ও হস্তক্ষেপ। যা হতে হবে একনিষ্ঠতা, দায়িত্বশীলতা ও সচেতনতার সাথে। দীন-ইসলামের স্বার্থে বাংলাদেশের উম্মুল মাদারিস হাটহাজারী মাদরাসাকে অভিশপ্ত শয়তানের সকল ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের হাত থেকে হেফাজত করার জন্য। আল্লাহর জন্য, তার নবির জন্য, তার মনোনীত ধর্মের জন্য।
দুই. যে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে হাটহাজারী মাদরাসার সচেতন শিক্ষার্থীদের সাহসী ভূমিকা। অতীতে তারা যেমন সাহস ও দৃঢ়তা দেখিয়ে দালালদের প্রতিহত করেছে, ভবিষ্যতেও আরো বেশি সাহসিকতা ও দৃঢ়তার সাথে দালালদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে হবে।
এই দুই শ্রেণির মানুষ ছাড়া আর কেউই হাটহাজারী মাদরাসাকে তার স্বকীয়তা, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাথে বাঁচিয়ে রাখতে পারবে না। চ্যালেঞ্জ!
আমি, আপনি দূর থেকে হয়তো ক্ষণিকের জন্য আন্দোলন, আফসোস, প্রতিবাদ ও প্রতিহত করতে পারবো কিন্তু হাটহাজারীকে দালাল মুক্ত করতে পারবো না। এর জন্য দরকার এই দুই শ্রেণির মানুষের সফল ভূমিকা ও হস্তক্ষেপ।
কিন্তু প্রথম শ্রেণির মানুষ অর্থাৎ শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম সব শেষ হওয়ার পর নিজেদের গা বাঁচাতে সাময়িক বিবৃতি দেওয়া ছাড়া আর কিছুই করবে না। কারণ, এটা বাংলাদেশ, এটা পাকিস্তান নয়! এটা বাংলাদেশ, এটা ইন্ডিয়া নয়!
এরপর বলবে_ ‘এটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়, এটা তারা নিজেরাই ঠিকঠাক করে নিবে, এখানে আমাদের হস্তক্ষেপ করা অনুচিত ও দেওবন্দি আদর্শের খেলাফ!’
এরপর নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের একদিন বসিয়ে বলবে_ ‘এই ইস্যুতে তোমাদের চিন্তা-ভাবনা করার কোনো দরকার নেই, আন্দোলন, প্রতিবাদ_ এমনকি ফেসবুকে লেখালেখিও করতে পারবে না, এখানে পড়ালেখা করতে এসেছো, আগে পড়ালেখা শেষ করো, তারপর আন্দোলন, প্রতিবাদ করো!’
কথা হলো! আপনারা তো পড়ালেখা শেষ করেই আমাদের আকাবির হয়েছেন, দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম হয়েছেন_ তাহলে আপনারা এখন কেন নিজেদের সবকিছু থেকে গুটিয়ে রাখেন?
‘হাইয়া’র কথা আর নাই বলি! বলতে লজ্জা লাগে! হাইয়া সেদিন বললো_ সে মাদারিসে কওমিয়্যায় একচ্ছত্র আধিপত্য ও ক্ষমতা দেখাবে। সেটা যে শুধু পরীক্ষার হলেই সীমাবদ্ধ সেটা তো আমরা জানি। এই তো এই বছরেও হাইয়ার নির্দেশনা আসার আগেই অধিকাংশ মাদরাসা কর্তৃপক্ষ খুলে দিয়েছে। রাহমানিয়া ইস্যুতেও হাইয়ার ব্যর্থতা আমরা দেখেছি।
এই এক যুগের অভিজ্ঞতা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়া বলতে পারি_ হাটহাজারী মাদরাসাকে দালালদের হাত থেকে বাঁচাতে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম কস্মিনকালেও এগিয়ে আসবে না! কারণ তো স্পষ্ট, তারা বাংলাদেশি আকাবির!
আকাবিরদের হামেশা শ্রদ্ধা করি, সম্মান করি, ভালোবাসি। যে কোনো কালো সময়ে তাদের নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করি। আকাবিরদের শূন্যতা আমাদের হররোজ কাঁদায়।
তাহলে বাকি রইলো হাটহাজারী মাদরাসার শিক্ষার্থী শ্রেণি। একমাত্র তারাই পারে হাটহাজারীকে বাঁচিয়ে রাখতে, দালাল মুক্ত করতে। ইতিহাস সাক্ষী শিক্ষার্থীদের আনদোলন, রক্ত, সাহস ও অগ্নিপরীক্ষা কখনোই বৃথা যায়নি। শিক্ষকরা বিক্রি হতে পারে, শিক্ষার্থীদের বিক্রি হওয়ার কোনো ইতিহাস আমার চোখে পড়েনি।
কিন্তু হাটহাজারী মাদরাসার শিক্ষার্থীরা আল্লামা আহমাদ শফি ও আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরি রহ. জীবিত অবস্থায় নির্ভয়ে যে সাহস ও দৃঢ়তা দেখিয়ে দালালদের মুখে লাত্থি মারতে পেরেছে, সেটা হয়তো ভবিষ্যতে করতে কিছুটা হলেও ভয় পাবে। হতে পারে হাটহাজারী মাদরাসাকে হেফাজত করতে অতীতের মতো আন্দোলনও করতে দিবে না হাটহাজারী মাদরাসার ভেতরের দালালরা!
হাটহাজারী মাদরাসার শিক্ষার্থীদের নিকট পুরো বাংলাদেশের তরুণ কওমিয়ানদের পক্ষ থেকে আমার আবেদন ও দরখাস্ত হলো_ আপনারা অতীতে যেমন হাটহাজারী মাদরাসাকে হেফাজত করেছেন, ভবিষ্যতেও করবেন, এবং আপনারা হাটহাজারী থেকে ফারেগ হওয়ার পূর্বে নিজেদের মতো এমব কিছু সাহসী শিক্ষার্থী তৈরি করে যাবেন, যারা আপনাদের অবর্তমানে হাটহাজারীকে হেফাজত করবে।
হাটহাজারী মাদরাসাকে নিছক গতানুগতিক অন্য মাদরাসাগুলোর মতো একটি মাদরাসা মনে করলে আমাদের মস্ত বড়ো ভুল হবে। হাটহাজারী দালালদের হাতে পড়লে কিংবা ধ্বংস হলে যে ক্ষতিটা হবে_ তা হয়তো দেশের আর আট দশটা বড়ো বড়ো মাদরাসা মিলিয়েও পুষিয়ে দিতে পারবে না কোনো কালেই।
আল্লামা আহমাদ শফি, আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরি ও আল্লামা আবদুস সালাম চাটগামি চলে গেছেন। এই তিনজন মহারথীই ছিলেন পুরো বাংলাদেশের সমাদৃত ও আদরনীয় ব্যক্তিত্ব। তাদের মতো হকের ওপর অবিচল থাকা ব্যক্তি হাটহাজারীতে আর কেউ আছেন কি-না, আমার জানা নেই। আল্লাহ তায়ালা তাদের জান্নাতুল ফেরদৌসে আলা মাকাম নসিব করুন।
বি. দ্র. আল্লামা আহমাদ শফি রহ. একবছর হলো আমাদের এতিম করে চলে গেছেন। গতকাল তরুণ কিছু আলেম ও সচেতন প্রজন্মের সাথে আহমাদ শফি রহ. এর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এই কথাগুলো আমি তাদের বলেছি। হাটহাজারী মাদরাসার শিক্ষার্থীরা ভাবতে পারেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Website maintained by Masum Billah