বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন

ইসলাম ও মুসলিম ঐতিহ্যের প্রাচীনতম মসজিদ সমূহ

রবিউল আউয়াল-
ইসলামি স্থাপত্য শব্দটি ইসলামি স্থাপত্যশৈলীকে নির্দেশ করে, যা মুসলিমদের ধর্মীয় রীতি প্রকাশ করে। এই স্থাপত্যশৈলী বাইজেন্টাইন[১][২], ইরানীয়, ভারতীয় স্থাপত্যে ও চৈনিক স্থাপত্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। পরবর্তীতে এটি পৃথক বৈশিষ্ট্যের বিল্ডিং এবং ইসলামিক ক্যালিগ্রাফি এবং জ্যামিতিক এবং আন্তঃকরণের নকশাকৃত অলঙ্কার দিয়ে স্থাপত্যসমূহের দেয়াল ও মেঝেকে সজ্জিত করেছে। ইসলাম নতুন কোনো ধর্ম নয়, নবী মুহাম্মাদ হলেন এ ধর্মের শেষ নবী বা উত্তরসূরী যার পূর্বসূরীদের মাঝে আছেন ইব্রাহীম (আঃ‌) সহ অনেক নবী ও রাসুল । ইব্রাহীম আঃ মক্কায় কাবাঘর (আরবি: كَـعْـبَـة‎‎) নির্মাণ করেন যা প্রথম মসজিদ হিসাবে বিবেচিত হয়। ইসলাম ধর্মের আগমন সপ্তদশ শতাব্দীতে মুহাম্মাদ এর মাধ্যমে[৪] তখন থেকে ইসলামি স্থাপত্যর যাত্রা শুরু হয়,যেমন ইরিত্রিয়ায় সাহাবিদের মসজিদ। বা মদিনার কুবা মসজিদ, যা মুসলিমদের প্রথম মসজিদ । মসজিদের স্থাপত্যশৈলী ৮ম থেকে ১১শ শতাব্দী পর্যন্ত ইসলামি স্থাপত্যশৈলী প্রধানত ২ ধরনের স্থাপত্যশৈলী দ্বারা প্রভাবিত: 1. গ্রেকো-রোমান স্থাপত্যশৈলী: বাজেন্টাইন সাম্রাজ্যের আশেপাশে (দক্ষিণ আনাতোলিয়া, সিরিয়া,মিশর এবং মাগরেব)মুসলিম শাসকদের কাছে স্থাপত্যবিদ,রাজমিস্ত্রী মোজাইক সরবরাহ করে। যাতে বাজেন্টাইন স্থাপত্য মধ্যে গ্রিকের হেলেনিক যুগের এবং প্রাচীন রোমের স্থাপত্যের প্রভাব বিদ্যমান। 2. প্রাচ্য স্থাপত্যশৈলী : মেসোপ্টেমিয়া এবং পারস্য স্থাপত্যশৈলী যা মূলত সানাসিন স্থাপত্যশৈলী থেকে উদ্ভব হয়।[১৭] আজ তেমনি কিছু মসজিদের সাথে পরিচয় হওযা যাক – মসজিদুল হারাম ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থান যা কাবাকে ঘিরে অবস্থিত।[২] সৌদি আরবের মক্কা শহরে এর অবস্থান। মুসলিমরা নামাজের সময় কাবার দিকে মুখ করে দাঁড়ায়। হজ্জ ও উমরার জন্যও মসজিদুল হারামে যেতে হয়। ভেতরের ও বাইরের নামাজের স্থান মিলে মসজিদের বর্তমান কাঠামো প্রায় ৩,৫৬,৮০০ বর্গমিটার (৮৮.২ একর) জুড়ে অবস্থিত। মসজিদ সার্বক্ষণিক খোলা থাকে। হজ্জের সময় এখানে উপস্থিত হওয়া মানুষের জমায়েত পৃথিবীর বৃহত্তম মানব সমাবেশের অন্যতম। মসজিদে নববী মুহাম্মাদ (সাঃ) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মসজিদ যা বর্তমান সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত। গুরুত্বের দিক থেকে মসজিদুল হারামের পর মসজিদে নববীর স্থান। মুহাম্মদ (সাঃ) হিজরত করে মদিনায় আসার পর এই মসজিদ নির্মিত হয়। মুহাম্মাদ (সাঃ) এর বাসগৃহের পাশে এই মসজিদ নির্মিত হয়েছিল। তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে মসজিদের নির্মাণকাজে অংশ নিয়েছিলেন। সেসময় মসজিদ সম্মিলনস্থল, আদালত ও মাদ্রাসা হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে। পরবর্তীকালের মুসলিম শাসকরা মসজিদ সম্প্রসারণ ও সৌন্দর্যবর্ধন করেছেন। মুহাম্মাদ (সাঃ) এর রওজা মসজিদের সাথে অবস্থিত। এখানে মুহাম্মদের এবং প্রথম দুই খলিফা আবু বকর ও উমরের সমাধি রয়েছে। এর পাশে একটি সমাধির জন্য খালি রয়েছে। ইসলাম অনুযায়ী ঈসা আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবেন এবং এরপর তিনি মারা যাওয়ার পরে তাকে এখানে দাফন করা হবে। মসজিদে কুবা সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত। এটি ইসলামের প্রথম মসজিদ। হিজরতের পর মুহাম্মদ এই মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন। এখানে তিনি বেশ কিছুদিন অবস্থান করেছিলেন। মসজিদে শাজারাহ (গাছের মসজিদ) হল মক্কায় উমরাহ বা হজ্জ করার জন্য মুসলমানদের একাধিক মিকাতের (যেখানে ইহরাম স্থাপন করা হয়) একটি। আবের আলী হচ্ছে একটি স্থানের নাম যেখানে মসজিদে শাজারাহ রয়েছে, ধূল হুলাইফা মদিনা থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কুব্বাত আস-সাখরা কুব্বাত আস সাখরা – হল জেরুজালেমের পুরনো শহরের টেম্পল মাউন্টের উপর অবস্থিত একটি গম্বুজ। উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ানের আদেশে ৬৯১ সালে এর নির্মাণ সমাপ্ত হয়। বর্তমানে এটি ইসলামী স্থাপত্যের সর্বপ্রাচীন নমুনা।[১] এটিকে “জেরুজালেমের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য স্থান” ও “সমগ্র ইসরায়েলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য স্থান” বলে উল্লেখ করা হয়। গম্বুজের কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা কাঠামো চার্চ অব দ্য হলি সেপালকারের মত। উমাইয়া স্থাপত্যে বাইজেন্টাইন প্রভাবের উদাহরণ এ থেকে পাওয়া যায়। এখানে অবস্থিত সাখরা নামক পাথরের কারণে স্থানটি ধর্মীয় দিক দিয়ে গুরুত্ববহ। আয়া সোফিয়া বা ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেলিমিয়ে মসজিদ তুরস্ক (১৫৬৮ খ্রি.) মুসলিম বিশ্বে অটোমান সাম্রাজ্যের অন্যতম প্রাচীন স্থাপনা সেলিমিয়ে মসজিদ। অসম্ভব দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদটি আকারে বিশাল। এই মসজিদটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে একে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ঘোষণা করেছে ২০১১ সালে। দেশ-বিদেশ থেকে বহু মুসলিম পর্যটক আসেন এই মসজিদে নামাজ পড়তে। এই মসজিদটির নির্মাণ শুরু হয় ১৫৬৮ সালে এবং শেষ হয় ১৫৭৫ সালে। মধ্যযুগের রোম সাম্রাজ্যের সাবেক রাজধানী কনস্টান্টিনোপলের (বর্তমান ইস্তাম্বুল) প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি ধর্মীয় স্থাপনা যা বর্তমানে মসজিদ হিসেবে পরিচিত । এই মসজিদটি মুসলিম বিশ্বের প্রাচীনতম মসজিদ হিসাবে পরিচিত। পরবর্তীকালে এটি মাগরিবে স্থাপিত অন্যান্য মসজিদের মডেল হিসেবে গণ্য হয় ভারতবর্ষের প্রথম মসজিদ চেরামান ভারত (৬২৯ খ্রি.) ইসলাম প্রচারের জন্য ও ব্যবসায়িক কর্মকান্ডের কারণে রসুলে কারিম (সা.)-এর জীবদ্দশাতেই এখানে ছুটে আসেন সাহাবায়ে কিরাম। সেই সুবাদে ভারতবর্ষে প্রতিষ্ঠিত প্রথম মসজিদ। দেশটির কেরালা রাজ্যের ত্রিসুর অঞ্চলের চেরামান জামে মসজিদ। মসজিদটির সম্মুখভাগে স্থাপিত শিলালিপি অনুযায়ী পঞ্চম হিজরি মোতাবেক ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে সাহাবি মালিক বিন দিনার (রা.) মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। স্থানীয়দের কাছে মসজিদটি ‘চেরামান জুমা মসজিদ’ নামে পরিচিত। মালিক ইবনে দিনার ছিলেন এই মসজিদের প্রথম ইমাম। বাদশাহী মসজিদ পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাজধানী লাহোরে একটি মুঘল যুগের মসজিদ। এটি পাকিস্তান ও দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম মসজিদ এবং পৃথিবীর পঞ্চম বৃহত্তম মসজিদ।ষষ্ঠ মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব ১৬৭১ সালে এই মসজিদটি নির্মাণ করেন এবং ১৬৭৩ সালে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়।
এই মসজিদ সৌন্দর্যের দিক থেকে মুঘল সাম্রাজ্যের স্মৃতি বহন করে। পাকিস্তানের লাহোরের ইকবাল পার্কে অবস্থিত মসজিদটি একটি অন্যতম প্রধান পর্যটক আকর্ষণকারী স্থান। বাংলাদেশে প্রাচীন মসজিদগুলোর মধ্যে বিনত বিবির মসজিদ (স্থাপিত : ১৪৩৫ খ্রিস্টাব্দ), চকবাজার শাহি মসজিদ (স্থাপিত : ১৬৭৬ খ্রিস্টাব্দ), বেগমবাজার মসজিদ (স্থাপিত : ১৭০৪ খ্রিস্টাব্দ), তারা মসজিদ (স্থাপিত : ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ), মুসা খাঁর মসজিদ (স্থাপিত : ১৮০০ খ্রিস্টাব্দের শুরুর দিকে) ষাটগম্বুজ মসজিদ, বাঘা মসজিদ এবং লালবাগের কেল্লা অন্যতম।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Website maintained by Masum Billah