বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:২৭ অপরাহ্ন

ক্ষমতার লোভটাই বিএনপির বড়: প্রধানমন্ত্রী

যুবকণ্ঠ ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিএনপি ক্ষমতা দখলকারীদের হাতে প্রতিষ্ঠিত পার্টি।  জনগণের দিকে তাদের দৃষ্টি থাকে না। ক্ষমতার লোভটাই তাদের বড়। মানি লন্ডারিং, দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি, বাংলা ভাই সৃষ্টি এগুলো তো তাদের কাজ ছিল। তারা তো দেশের মানুষের কল্যাণে কিছু করেনি।’

বুধবার গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ১টি ব্রডগেজ ও ১টি মিটারগেজ কোচ সংবলিত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘর’ এবং ৩০টি মিটারগেজ ও ১৬টি ব্রডগেজ লোকমোটিভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারপ্রধান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। তবে মাঝে মাঝে বিপত্তি আসে, এটাও দুঃখজনক। যখন আমরা নতুন কোচ-লোকমোটিভ কিনলাম, তখন বিএনপি শুরু করল অগ্নিসন্ত্রাস। সব থেকে দুঃখজনক, নতুন রেলগুলো যাত্রী নিয়ে যাচ্ছে সেই রেলে আগুন দেওয়া হলো।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বহু রেললাইন, রেল কোচ, রেল ইঞ্জিন বিএনপি পুড়িয়ে দিয়েছিল। এটা নাকি তাদের আন্দোলন। আমি জানি না, মানুষকে পুড়িয়ে বা চলন্ত বাস-গাড়ি অথবা রেলে-লঞ্চে আগুন দিয়ে এটা কোন ধরনের আন্দোলন। এটা তো এক ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।’

তিনি বলেন, ‘রেলে আমাদের লোকবলের অভাব আছে। লোকবল বাড়াতে হবে। সেজন্য ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি, এটা দ্রুত কার্যকর করা উচিত।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার যোগাযোগ ও পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও সচল ও গতিশীল করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।আমরা দেশের জনগণের সর্বত্র চলাচলের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সহজ করার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও ত্বরান্বিত করার পদক্ষেপ নিচ্ছি।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘প্রত্যেকটি ইউনিয়ন পর্যন্ত ব্রডব্যান্ড চালু হয়ে গেছে, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে আমরা উৎক্ষেপন করেছি, যার ফলে অনলাইনে কেনা-বেচা ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি- সবকিছুই আমরা করতে পারছি। অর্থাৎ প্রযুক্তির মাধ্যমেও আমাদের যোগাযোগ আজ উন্নত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের সেবা করাই আমাদের কাজ। বিআরটিসিকে অলাভজনক আখ্যা দিয়ে বিএনপি সরকার একবার বন্ধ করে দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছিল। কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠান কতটুকু লাভ করল এবং কতটুকু লাভ করল না, সেটার থেকে বড় কথা মানুষের সেবা কতটুকু দিতে পারল। মানুষ কতটুকু সেবা পেল। তাদের জীবন মান কতটুকু সহজ হলো, সেটাই সবচেয়ে বড় কথা।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকারের সবকিছুই যে লাভজনক হবে- তা কিন্তু নয়। তবে লাভজনক করা যায়। আমরা বিআরটিসিকেও যেমন লাভজনক করেছি তেমনি বিএনপির বন্ধ করে দেওয়া রেলকে চালু করে এখানেও প্রমাণ করেছি এটাকেও লাভজনক করা যেতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন এই রেল এবং বিআরটিসি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। যেখানে পরামর্শদাতা ছিল ওয়ার্ল্ড ব্যাংক। গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে রেলের ১০ হাজার কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়। অনেক রেললাইন বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং রেল আসলে মুখ থুবড়ে পড়ে।’

’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর থেকেই নতুনভাবে এই রেলকে গড়ে তুলে স্বল্প ব্যয়ের এই বৃহৎ গণযোগাযোগ ব্যবস্থাকে সচল করার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, দ্বিতীয়বার সরকারে এসেই রেলের জন্য পৃথক বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি হাতে নিতে তার সরকার পৃথক মন্ত্রণালয় ও করে দেয়।

শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার বিআরটিসি ও বাংলাদেশ রেলওয়েকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে।

বঙ্গবন্ধু সেতুর মূল প্ল্যানিংয়ে রেললাইন না থাকলেও বিশ্ব ব্যাংকের পরামর্শ ‘এটা লাভ জনক হবে না’- এটি উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধু সেতুতে রেললাইন স্থাপনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেখা গেল তাদের ধারণাটাই ঠিক নয়। কারণ এই রেল সংযোগের ফলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রাজধানীর ঢাকার যোগাযোগের ব্যবস্থা আরও সুগম হয় এবং রেলই সেখানে সবচেয়ে বেশি লাভজনক হয়েছে।

তার সরকারের বিভিন্ন লোকোমেটিভ সংগ্রহ এবং রেললাইন সম্প্রসারণের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী রেলের আরও জনবল বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন- রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনও রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী।স্বাগত বক্তব্য দেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. হুমায়ুন কবীর।

‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘর’ ও বাংলাদেশ রেলওয়ের রোলিং স্টকের ওপর অনুষ্ঠানে পৃথক দুটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।

Please Share This Post in Your Social Media