বুধবার, ২৯ Jun ২০২২, ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

গণকমিশনের ব্যক্তিরা মুসলিম বাঙালি সংস্কৃতির বিরোধী শক্তি:জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ

যুবকণ্ঠ ডেস্ক:

এ দেশে ইসলাম এসেছে সুফি দরবেশ ও পীর-মাশায়েখদের মাধ্যমে। আলেম উলামাদের ওয়াজের মাধ্যমে সমাজে পরকীয়া, ধর্ষণ, নারীবিদ্বেষ, নারী নির্যাতন, দুর্নীতি ইত্যাদি অপরাধের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে উঠছে। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উদ্যোগে কথিত গণকমিশনের মাধ্যমে ওয়াজের বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট শ্বেতপত্র নাটক করা হয়েছে। গণকমিশনের বিতর্কিত ব্যক্তিরা মুসলিম বাঙালি সংস্কৃতির বিরোধী শক্তি। এই চক্রটি আমদানিকৃত অপসংস্কৃতি দেশ ও জাতির মধ্যে চাপিয়ে দেয়ার ঘৃণ্য চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে।

গতকাল সোমবার সেগুনবাগিচাস্থ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে কথিত গণকমিশনের বিতর্কিত শ্বেতপত্রের প্রতিবাদে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল্লামা নূরুল হুদা ফয়েজী লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। এতে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতী কেফায়েতুল্লাহ কাশফী, মুফতী রেজাউল করীম আবরার, মুফতী শামসুদ্দোহা আশরাফী, মাওলানা কামাল উদ্দিন সিরাজ, মুফতী আব্দুল আজিজ কাসেমী, মাওলানা আশরাফ আলী নূরী, মুফতী রফিকুন্নবী হাক্কানী, মুফতী ওমর ফারুক যুক্তিবাদী, মালানা আবুল কালাম আজাদ ও মুফতী আকতারুজ্জামান।

‘গণকমিশন’ কর্তৃক দেশের ১১৬ জন আলেম ও ১ হাজার মাদরাসার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ এবং ইসলাম ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ৮ দফা দাবি এবং ২টি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। দাবিগুলো হচ্ছে, যারা কথিত শ্বেতপত্র প্রকাশের মাধ্যমে দেশের সম্মানিত আলেমদের সম্মানহানি করেছে, আলেমদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে, দেশবাসীর সামনে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেছে; তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যারা বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সংঘাতের দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উপস্থাপন করে দেশের ভাব মর্যাদা বিনষ্ট করতে চায়, তাদের কার্যক্রমকে তদন্তের আওতায় আনতে হবে এবং তাদের গতিবিধিকে গোয়েন্দা নজরদারীর আওতায় আনতে হবে, যারা মাঠ প্রশাসনের এবং পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের নামে উদ্দেশ্যমূলক অবৈধ তৎপরতা চালিয়েছে, তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে, দেশের সম্মানিত আলেমদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে, কারাবন্দি সকল মজলুম আলেমদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে, ওয়াজ মাহফিল নিছক একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান। তাই সারা দেশে ওয়াজ মাহফিল সকল প্রশাসনিক বিধি নিষেধের আওতামুক্ত রাখতে হবে, সারা দেশের আলেম ওলামা ও মাদরাসার বিরুদ্ধে সব ধরনের হয়রানি বন্ধ করতে হবে, আল্লাহ, রাসূল (সা.), ধর্মীয় রাজনৈতিক ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে মানহানিকর শব্দের ব্যবহার নিষিদ্ধে আইন করতে হবে এবং তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, আগামী ২৮ মে ঢাকায় নাগরিক মতবিনিময় সভা ও ২ জুন বৃহস্পতিবার ওলামা সম্মেলন। আল্লামা নূরুল হুদা ফয়েজী লিখিত বক্তব্যে বলেছেন, একটি অপশক্তি সাম্প্রদায়িকতাকে কৃত্রিমভাবে উপস্থাপন করে বৈশ্বিক হানাদার শক্তির দৃষ্টি আকর্ষণের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি ঘাদানিকের শ্বেতপত্রকে ‘গণনাগরিক অবমাননা’ অবহিত করে বলেন, কথিত শ্বেতপত্র নিয়ে তাদের একধরনের রাখঢাক-লুকোচুরি ও মিডিয়াবাজী প্রমাণ করে যে, তারা সারবত্তাহীন অভিযোগপত্র নিয়ে নাগরিকদের মাঝে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ ধারা মতে দেশের সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান। ৩২ ধারা মতে কোনো নাগরিককে জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। ৪৩ ধারা মতে প্রত্যেক নাগরিক তল্লাশি থেকে ও যোগাযোগ মাধ্যমের গোপনীয়তা রক্ষার অধিকারী। এই ধারাসমূহ ও সংবিধানের দ্বিতীয়ভাগে ধারা ২৬ থেকে ধারা ৪৭ এ বর্ণিত মৌলিক অধিকার অংশের মূল বক্তব্য হলো নাগরিকের স্বাধীনতা সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার নিশ্চয়তা প্রদান করতে রাষ্ট্র বাধ্য। সংবিধান এর ধারামতে দেশের কোনো নাগরিক বা অন্য কোনো নাগরিকের ওপর অনুসন্ধান গোয়েন্দাগিরি ও তদন্ত করতে পারে না।

কওমি মাদরাসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসা নিয়ে একশ্রেণির এলার্জি নতুন কিছু নয়। কিন্তু মাদ্রাসাগুলোর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ অতীতে কখনো প্রমাণ করতে পারেনি। আলোচিত শ্বেতপত্রে তারা নাকি ১০০০ মাদরাসার ওপরে তদন্ত করেছে। আমরা চাই এই তদন্ত প্রতিবেদন জনসাধারণে উপস্থাপন করা হোক। তাহলে দেখা যাবে, মাদরাসাগুলো কত অল্প খরচে সততার সাথে হাজারো শিক্ষার্থীর দায়িত্বভার বহন করে চলছে। দেখা যাবে কতটা স্বচ্ছতার সাথে মাদরাসাগুলো সোশ্যাল সেফটিনেটের কাজ করে যাচ্ছে। দেখা যাবে কতটা অল্প বাজেটে কত বেশি মানুষকে কার্যকরভাবে সেবা দেয়া যায় তার একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। কওমি মাদরাসা নিয়ে এলার্জিগ্রস্ত গোষ্ঠীকে নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। তাদের অসততা, মিথ্যাচার, হিংস্রতা, বুদ্ধিবৃত্তিক অসততা ও একচোখা দাজ্জালীয় দৃষ্টিভঙ্গি বারংবার প্রমাণিত।

শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ও তুরিন আফরোজ গং যা করেছেন তা আমাদের সংবিধানের মৌলিক ধারণার স্পষ্ট লঙ্ঘন। একই সাথে তারা কোনো অথরাইজড পারসন বা সংস্থা না হয়েও ‘তদন্ত প্রতিবেদন’ শিরোনামে কিছু প্রকাশ করার মাধ্যমে আইনগত অনধিকার চর্চা করেছেন; যা নৈতিক ও সামাজিক অপরাধ এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন। আদতে তাদের এ শ্বেতপত্র প্রকাশ সংবিধানবিরোধী। নাগরিকের মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে উল্লেখিত মানবিক মর্যাদা নীতির প্রতি অশ্রদ্ধা। এই কথিত কমিশনের তদন্ত ও শ্বেতপত্রের নৈতিক ও আইনত কোনো ভিত্তি নেই। বরং এটা সংবিধান, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তথা মানবিক মর্যাদার বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত অপরাধ। তিনি বলেন, কথিত শ্বেতপত্রের সাথে জড়িত প্রধান দুইজনের একজন হলেন সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। তিনি বিচার বিভাগের সবচেয়ে বিতর্কিত ব্যক্তি ছিলেন। জাতীয় সংসদে তাকে নিয়ে তুমুল সমালোচনা করেছে এ সরকারের এমপিরাই। তাকে একজন সিনিয়র পার্লামেন্টারিয়ান স্যাডিস্ট বলেও আখ্যা দিয়েছিলেন।

অপরজন তুরিন আফরোজ এ সরকারের আমলেই অসদাচরণ এবং শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে অপসারিত হয়েছেন। কতটা দুর্নীতিপরায়ণ ও অসৎ মানসিকতার লোক হলে নিজের সহকারীকে স্বামীর পরিচয় দিয়ে বোরখা পড়ে হোটেলের নির্জন কক্ষে আসামির সাথে গোপন বৈঠক করা যায়! তুরিন আফরোজ সেটা করেছেন। এমন দু’জন অনৈতিক ও অপরাধপ্রবণ ব্যক্তির নেতৃত্বে দেশের কোটি মানুষের সম্মানীয় ব্যক্তিবর্গের মানহানিকর শ্বেতপত্র প্রকাশ করার ঘটনায় আমরা বিস্মিত এবং মানুষ কত নির্লজ্জ হতে পারে তা বিবেচনায় আমরাই লজ্জা বোধ করছি।

বাংলাদেশে নির্বাচন ঘনিয়ে আসলেই একটি গোষ্ঠী জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাকে কৃত্রিমভাবে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে উপস্থাপন করে এবং বৈশ্বিক হানাদার শক্তির দৃষ্টি আকর্ষণ করার অপচেষ্টা চালায়। আমরা ঘাদানিকের এই প্রচেষ্টাকে তারই একটি বর্ধিত অংশ আকারে বিবেচনা করছি। আমরা বিস্মিতবোধ করছি যে, এ রকম একটা অনৈতিক ও আইনি ভিত্তিহীন প্রতিবেদন যেখানে দেশের সন্মানীয় নাগরিক ও রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের মানহানি করা হয়েছে, তা দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোড়ক উন্মোচন করছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এমন একটা অসাংবিধানিক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থি একটা প্রতিবেদন গ্রহণ করেছেন। কেউ এর আইনগত ও নৈতিক ভিত্তি, ইখতেয়ার নিয়ে প্রশ্ন করছেন না। এটা আমাদের হতবাক করেছে।

এদিকে, কথিত গণকমিশনের বিতর্কিত শ্বেতপত্রে আলেম ওলামাদের হেয়প্রতিপন্ন এবং ১ হাজার মাদরাসার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন বানোয়াট অভিযোগের বিরুদ্ধে গতকালও বিভিন্ন ইসলামী নেতৃবৃন্দ তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন। তারা গণকমিশনের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
খেলাফত মজলিস ইউরোপ
খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ইউরোপের পরিচালক অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল কাদির সালেহ ও সহকারী পরিচালক এম সদরুজ্জামান খান গতকাল এক যুক্ত বিবৃতিতে আলেম উলামা ও মাদরাসার বিরুদ্ধ তথাকথিত গণকমিশনের অভিযোগকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত, আলেম উলামা ও মাদরাসা সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি ও বিদ্বেষ তৈরি করা এবং দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্ঠির গভীর ষড়ন্ত্র বলে আখ্যায়িত করেছেন ।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, কোন নাগরিক বা সংস্থা সংগঠন সম্পর্কে তদন্ত করার এখতিয়ার সরকার নিয়োজিত
কোন আইনগত সংস্থা ছাড়া আর কারো নেই । অবসর প্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক এবং ব্যারিষ্টার তুরিন আফরোজের নেতৃত্বে তাদের স্বগঠিত গণ তদন্ত কমিশনের নামে দেশের কোন নাগরিকের বিরুদ্ধে এ ধরনের কোন তদন্ত চালানোর আইনগত এখতিয়ার নেই। এদের এহেন কাজ সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং একাধারে সরকার ও রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করার শামিল। এসব চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়ামের অন্যতম সদস্য ও চরমোনাই আলিয়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মাদ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বলেছেন, দেশের শীর্ষ ইসলামী ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে তথাকথিত গণকমিশনের এই তালিকা তৈরী মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

কথিত গণকমিশনের এই অপতৎপরতাকে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করে মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বলেছেন, তারা দেশ-জাতি, সমাজ এবং ইসলামের বিরুদ্ধে নেমেছে। ইসলামের প্রচার-প্রসার স্তব্ধ করে দেয়া এবং ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাদরাসাকে হেয়প্রতিপন্ন করে ইসলামের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করা তাদের অপপ্রয়াসের লক্ষ্য। এর মাধ্যমে তথাকথিত ঘাদানিক তার ইসলামবিদ্বেষী চেহারা উন্মোচিত করেছে।

মালয়েশিয়ায় সফররত মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মাদ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী গতকাল কুয়ালালামপুরের বুকিট আংকাট এ প্রবাসীদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন। ইসলামী আন্দোলনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানায়ো হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারকে কথিত গণকমিশন ও ঘাদানিকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তা নাহলে, ইসলামপ্রিয় তৌহিদী জনতা কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।

গণকমিশনের এ অভিযোগকে চ্যালেঞ্জ করে মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বলেছেন, আলেম ওলামার বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ কিংবা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের কোনো প্রমাণ কেউ দিতে পারবে না। আলেম সমাজ ওয়াজ নছিহতের মাধ্যমে মানুষকে সুদ, ঘুষ, দুর্নীতিসহ সব ধরনের অপরাধ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে থাকেন। প্রকৃত আলেম ওলামা দুর্নীতি বা দেশবিরোধী কোনো কাজে জড়িত থাকতে পারে না।

ফ্রান্স খেলাফত মজলিস
খেলাফত মজলিস ফ্রান্স শাখার সভাপতি মাওলানা সেলিম উদ্দীন ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নজরুল ইসলাম এক বিবৃতিতে গণকমিশনের কথিত অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং দেশ থেকে ইসলামের শিকড়কে মূলোৎপাটনের গভীর ষড়ন্ত্র বলে আখ্যায়িত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেন, তথাকথিত গণতদন্ত কমিশন হঠাৎ গজিয়ে উঠা একটি ভূঁইফোড় সংস্থা ।

কোন অদৃশ্য শক্তির ইন্ধন ও মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে এই সংস্থাটি দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং মানুষের মনে ইসলাম ও উলামায়ে কেরাম সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরি ও তাদের হেয়প্রতিপন্ন করার হীনস্বার্থেই এহেন ধৃষ্ঠতা দেখিয়েছে।

নেতৃবন্দ এদের এহেন দেশ ও ইসলামবিরোধী অপতৎপরতার বিরুদ্ধ ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য দেশের সর্বস্তরের উলামায়ে কেরাম ও ইসলামী সংগঠন সমূহের প্রতি আহ্বান জানান।

নাস্তিক-মুরতাদ নির্মূল কমিটি
নাস্তিক-মুরতাদ নির্মূল কমিটির সভাপতি মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন এক বিবৃতিতে বলেছেন, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সমন্বয়ে গঠিত ‘গণকমিশন’ দেশের ১ হাজার মাদরাসা ও ১১৬ ধর্মীয় বক্তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ ভিত্তিহীন, বানোয়াট, তথ্য বিভ্রাট, এমনকি বানানেও ভুলে ভরা। মিথ্যা, সাজানো ও ভুলে ভরা তালিকা প্রমাণ করে গণকমিশন নেতারা অযোগ্য ও অথর্ব্য। তারা দীর্ঘ নয় মাসে বিভিন্ন মাদরাসার ছাত্র ও শিক্ষকের কাছ থেকে যে তথ্য নেয়ার দাবি করছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। কারণ গণকমিশন প্রকাশিত তালিকায় আলেমদের নামে এবং মাদরাসার নামের মধ্যে অসংখ্য ভুল রয়েছে। যারা মাদরাসাগুলোর নামও সঠিকভাবে লিখতে পারেনি তারা সে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কী তথ্য প্রদান করবে?

গণকমিশনের বানোয়াট এ তালিকায় এমনও মাদরাসার নাম রয়েছে যার অস্তিত্বও বাংলাদেশে নেই। বহু মাদরাসার নাম দুই তিন বার উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতীয় আলেমের নামও রয়েছে। মৃত আলেমগণও তদের মিথ্যা অভিযোগ থেকে রেহাই পাননি। মিথ্যা, সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত শেতপত্রের মাধ্যমে দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেমদের মানহানি করা হয়েছে। দেশবাসীর সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। এ জঘন্য অপরাধের কারণে ঘাদানিক ও গণকমিশন নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, অবিলম্বে ইসলাম ও আলেম-ওলামাবিদ্বেষী এ অপশক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় ওলামায়ে কেরাম তৌহিদী জনতাকে সাথে নিয়ে কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।

স্পেনের খেলাফত মজলিস
খেলাফত মজলিস স্পেনের সভাপতি মাওলানা মাওলানা শিব্বির আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা বদরুল হক এক বিবৃতিতে তথাকথিত গণতদন্ত কমিশনের অভিযোগকে বিদেশি শক্তির মদদে দেশকে পরাভূত করে রাখার হীন উদ্দেশ্যে পরিচালিত বলে আখ্যায়িত করে এর তীব্র নিন্দা জানান। তারা বলেন, তথাকথিত এই কমিশনের সাথে যারা জড়িত তাদের ব্যক্তিগত তৎপরতা, আয়ের উৎস এবং কমিশনের অর্থের যোগানের সোর্স খতিয়ে দেখার জন্যে সরকারের প্রতি আহবান জানান। নেতৃবন্দ বলেন, বাংলাদেশে ইসলামের বিরুদ্ধে যারাই ষড়যন্ত্র করেছে ইতিহাসে তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। গনকমিশনও অচিরেই গণধিকৃত হয়ে আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।

ইতালী খেলাফত মজলিস
ইতালী খেলাফত মজলিসের সভাপতি মনিরুজ্জামান জমাদ্দার ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল আমীন এক বিবৃতিতে গণকমিশনের নামে দেশের উলামায়ে কেরাম ও মাদরাসাগুলোর বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ দায়েরকে উদ্দেশ্যমূলক এবং ইসলামের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র বলে আখ্যায়িত করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তাঁরা বলেন, গণকমিশনের প্রত্যেকেই চিহ্নিত ইসলামবিরোধী। তাদের ব্যক্তিগত জীবনে নানান অপকর্ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত। নেতৃবন্দ দেশ এবং দেশের মানুষের বিশ্বাস ও মূল্যবোধের শত্রুদের (গণকমিশনের সাথে জড়িতদের) বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্যে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2019 LatestNews
Design & Developed BY ithostseba.com