বুধবার, ২৯ Jun ২০২২, ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

ফরিদপুরে ইউপি চেয়ারম্যানের শিশুপুত্র হত্যা, ১৩ দিন পর মামলা

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতির শিশুপুত্র রাফসানকে (৯) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ১৩ দিন পর থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে সদরপুর থানায় এ মামলা করা হয়েছে।

নিহত রাফসানের বাবা মিজানুর রহমান নিজেই বাদী হয়ে মঙ্গলবার (৩১ মে) রাতে সদরপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। বুধবার (১ জুন) সদরপুর থানা সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

মামলার আসামিরা হলেন মোস্তফা মৃধা (৫০), নাজমুল ইসলাম বাবু মোল্লা (৪২), এরশাদ মোল্লা (৩৮) (টাওয়ার থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যাকারী), ইমরান মোল্লা (৩০), রাকিব মোল্লা (২৪), রুহুল আমিন মোল্লা (৫৩), আলমগীর (৪০), রবিউল মোল্লা (২৫) ও সামেলা বেগম (৫৮)।

এদের মধ্যে আলমগীরের বাড়ি নোয়াখালী জেলার চাটখালী থানার ফকিরহাটি গ্রামে। বাকি সবার বাড়ি সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে ঢেউখালী ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতির সঙ্গে বিরোধ চলছিল একই এলাকার মোস্তফা মৃধার। এ বিরোধের জেরে বিভিন্ন সময় চেয়ারম্যানকে হত্যার হুমকি দেওয়া দিত তারা। পারিবারিক কলহের জেরে এরশাদ শেখ ও তার স্ত্রীকে নিয়ে সালিস-বৈঠক করেন চেয়ারম্যান। সেই সালিসে এরশাদ শেখকে জরিমানা করা হয়। এ নিয়ে চেয়ারম্যানের ওপর ক্ষিপ্ত হন এরশাদ শেখ।

এরশাদ শেখের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে মোস্তফা মৃধাসহ আসামিরা গত ১৮ মে চেয়ারম্যানের সদরপুর উপজেলা সদরের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা তার শিশুপুত্র রাফসানকে (৯) কুপিয়ে হত্যা করে। এ সময় গুরুতর আহত হন চেয়ারম্যানের স্ত্রী দিলজাহান রত্না।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, দুই নম্বর আসামি নাজমুল ইসলাম বাবু মোল্লা গত ১৬ মে দুপুরে চেয়ারম্যানকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বলেন, চেয়ারম্যান হলেই সব বিষয়ে নাক গলাতে নেই। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত গোলদার বলেন, মামলা পর আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঢেউখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতি বলেন, রাজনৈতিক কারণে আসামিরা আমাকেসহ পরিবারকে শেষ করে দিতে চেয়েছিল। আমি ঢাকায় থাকায় প্রাণে বেঁচে যাই। তারা নৃসংশভাবে আমার ছেলেকে খুন করেছে। আমার স্ত্রীকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে। সে এখনো মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।

মামলা করতে দেরি হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছেলেকে দাফনের পর আমি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ মে রাত সাড়ে ৭টার দিকে সদরপুর উপজেলা সদরে পোস্ট অফিস সংলগ্ন ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের বাড়িতে ঢুকে এরশাদ মোল্লা চেয়ারম্যানের শিশুপুত্রকে কুপিয়ে হত্যা করে এবং স্ত্রী দিলজাহানকে কুপিয়ে আহত করে। পরে এরশাদ আটরশি এলাকায় টিঅ্যান্ডটি টাওয়ারে উঠে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। বর্তমানে দিলজাহান ঢাকা নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2019 LatestNews
Design & Developed BY ithostseba.com