মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩, ০১:৩৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
আওয়ামী লীগকে রাজপথে দেখে ভীত বিএনপি: তথ্যমন্ত্রী বাংলাদেশে প্রভাব বিস্তারে ৩ পরাশক্তি লড়ছে কুরআন পোড়ানোর প্রতিবাদে সুইডিশ পণ্য বর্জনের আহ্বান হেফাজতের ‘বাবার পরিচয়হীন সন্তানের অভিভাবক মা হবে’ মর্মে রায় দেশের ধর্ম ও সংষ্কৃতির সাথে সাংঘর্ষিক আওয়ামী লীগ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করে: নানক প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ছাত্র জমিয়ত ঢাকা মহানগর উত্তরের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ৪ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি পরিকল্পনামন্ত্রী কাল পাঠ্যবইয়ের ভুল নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন দেশের আকাশে পবিত্র রজব মাসের চাঁদ দেখা গেছে আমরা চাই দেশে সত্যিকার ইসলামের জ্ঞান চর্চা হোক: প্রধানমন্ত্রী

ঢাবিতে হিজাববিদ্বেষের ভয়াল চিত্র

রাকিবুল হাসান নাঈম:

প্রথম বর্ষ ২য় সেমিস্টারের ডিপার্টমেন্ট ভাইভা। ডিপার্টমেন্টের নামের শুরুতে ইসলামও আছে। ভাইভা বোর্ডে ৩-৪ জন স্যার ছিলেন। ভাইভায় এক ছাত্রী হিজাব ও নিকার পরে গেলে তারা তাকে নিকাব খুলতে বললেন। ছাত্রীটি রাজি না হওয়াতে একজন স্যার বললেন, তুমি চলে যাও। তোমাকে ভাইভা দিতে হবেনা। এমনকি একজন স্যার ভাইভার হাজিরা খাতাতে স্বাক্ষর করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দিলেন। আরেকজন বললেন, স্যাররা বাবার মতো। কেন তাদের সামনে মুখ খুলতে পারবা না? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময় কি মুখ খুলে ছবি তুলোনি? তাহলে এখন কী সমস্যা? তৃতীয় এক স্যার বললেন, ভাইভার ফর্মাল লুক থাকে। আর সেখানে কেনো মুখ ঢাকা থাকবে? মুখ ঢাকা থাকলে চিনবে কী করে যে, ডিপার্টমেন্ট এর ছাত্রী কিনা। ছাত্রীর অনড় অবস্থান দেখে দুয়েকটা দায়সারা গোছের প্রশ্ন করে তাকে উঠিয়ে দেন ভাইবা বোর্ডের সদস্যরা।

দৃশ্যটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। একটি প্রতিষ্ঠানের জরিপমতে, শুধু একটি ঘটনা নয়, এমন শত শত ঘটনা ঘটছে এই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। হিজাবি-নিকাবি ছাত্রীদের জন্য ভাইভা বোর্ড যেন এক আতঙ্কের নাম। পরীক্ষার হল যেন জাহান্নামের অগ্নিকুন্ড। ভুক্তোভোগীরা বলছেন, হিজাব-নিকাবের বিরোধিতা স্যাররা যেমন করেন, তেমনি বিরোধিতা করেন ম্যমরাও। স্যার-ম্যামদের সঙ্গে লড়াই করে কেউ হিজাব ধরে রাখেন, কেউ পারেন না। যারা হিজাব ধরে রাখেন, তাদের অনেককে চুকাতে হয় মাশুল। কাউকে কাউকে ছেড়ে দিতে হয় পড়াশোনা। সম্প্রতি হিজাব ইস্যুতে ভাইবায় বসতে না পেরে হল ছেড়েছেন এক শিক্ষার্থী।

সমাজবিজ্ঞানে সবচেয়ে বেশি হেনস্থা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গত এক বছর ধরে হিজাব সংক্রান্ত ঘটনাবলী নিয়ে কাজ করছেন জামালুদ্দিন মুহাম্মদ খালিদ। প্রায় অর্ধ শতাধিক কেস স্টাডি করে তার মতামত হলো, হিজাব-নিকাব নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয় সমাজবিজ্ঞান অনুষদে। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন সাদেকা হালিমা হিজাব-নিকাবের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সোচ্চার। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সবচেয়ে বেশি।

অনুষদের বাংলা বিভাগ, সংস্কৃত বিভাগে ছাত্রীরা হেনস্থা হয় সবচেয়ে বেশি। এছাড়াও লোক প্রশাসন বিভাগ, শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগ, টুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগও রয়েছে এই তালিকায়। এমনকি ইসলামিক এবং আরবি বিভাগেও এমন ঘটনা ঘটে।‘

তার দাবি হলো, সাইন্স বিভাগ ছাত্রীদের জন্য অনেকটাই নিরাপদ। সেখানে হিজাব-নিকাব নিয়ে সবচে কম সমস্যা হয়।

সংস্কৃত বিভাগের এক ছাত্রীর বক্তব্য হলো, আমাদের সেকেন্ড সেমিস্টার ফাইনাল চলছিল। সেদিন ১০৫ নং কোর্সের পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে একজন ম্যাম আমাকে নিকাব খুলতে বাধ্য করেন। এই ম্যাম ছাড়াও আমাদের ডিপার্টমেন্টে যেসব ম্যাম আছেন, সবাই ইসলাম বিদ্বেষী। ভাইবাতে গেলেও পুরুষ টিচারের সামনে নেকাব খুলতে বলেন। ডিপার্ট্মেন্টের চেয়ারম্যান তো বেশি হেজিটেড বোরকা নিকাব নিয়ে।

লোক প্রশাসন বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বক্তব্য হলো, এক ভাইভাতে ম্যাম বলছিলেন, মুখ দেখাতেই হবে। যদি মুখ না দেখাই তাহলে তারা আমার ভাইভা নিবেন না। ভাইবা বোর্ডে স্যারও ছিলেন দুজন। আমি তখন বললাম, ম্যাম মুখ একবার দেখিয়েই আবার ঢেকে ফেললে হবে? তিনি বললেন, ‘ না, তুমি যতক্ষণ ভাইভা দিবে ততক্ষণ মুখ খুলে রাখতে হবে’! আমি তখন ভাবছিলাম কী করবো! এদিকে ম্যাম তাগাদা দিচ্ছেন তাড়াতাড়ি করতে। এটাও বলছিলেন, আমি যদি নিকাব না খুলতে চাই তাহলে ভাইভা না দিতে। ভাবলাম, ৫ নাম্বারের ভাইভা বাদ দিলে কিছু হবে না। তাই ভাইভা না দিয়েই বের হয়ে এসেছিলাম।

এক আতঙ্কের নাম ভাইভা বোর্ড

জামালুদ্দিন মুহাম্মদ খালিদ বলেন, ‘ছাত্রীরা সবচে বেশি হেনস্থা হন এবং বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন ভাইভা বোর্ডে। তারপর পরীক্ষার হলে। এছাড়া ক্লাসরুম এবং প্রেজেন্টেশনেও এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। তবে সবচে বেশি সমস্যায় পড়তে হয় ভাইবা বোর্ডে। এই ভাইভা প্রথম বর্ষের যেমন হতে পারে, তেমনি ফাইনাল ভাইভাও হতে পারে। এমনকি মাস্টার্স শেষ ভাইভাতেও এমন ঘটনা ঘটেছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লোক প্রশাসন বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ষষ্ঠ সেমিস্টারের ভাইভা বোর্ডে এক্সটার্নালসহ ৪ জন শিক্ষকই আমার চেহারা আবৃত থাকায় বিরক্তি প্রকাশ করলেন এবং প্রত্যেকেই তাদের জ্ঞানের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে লাগলেন। এমনও বললেন, পড়ালেখা শেষ হলে আমি যেন তাদের ছাত্রী হিসেবে নিজেকে পরিচয় না দেই। এমনকি সূরা নূর এবং সূরা আহযাব থেকে পর্দার বিধান সংক্রান্ত আয়াতগুলো নিজেদের সুবিধামাফিক ব্যাখ্যা করতেও ছাড়লেন না। এসব করেই সময় যাচ্ছিল। শেষে একটি একাডেমিক প্রশ্ন করে ভাইভার ইতি টানলেন। পরবর্তী ভাইভাসমূহেও একাডেমিক প্রশ্ন করার ব্যাপারে শিক্ষকদের আগ্রহের ঘাটতি দেখেছি।

এই শিক্ষার্থী আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ ভাইভায় অর্থাৎ মাস্টার্স দ্বিতীয় সেমিস্টারের ভাইভা বোর্ডে চেয়ারম্যান (ফিমেল) সাফ জানিয়ে দিলেন, চেহারা খোলা না রাখলে উনি ২৫ মার্কের ভাইভা নিবেন না। সেখানে একজন ছিলেন পুরুষ শিক্ষক। যিনি আগেও আমাকে হেনস্থা করেছিলেন। তাই আমি চেহারা খুলতে পারছিলাম না। শেষ পর্যন্ত তিনি তার চেয়ার থেকে উঠে গিয়ে অন্যত্র বসলে আমার ভাইভা নেওয়া হয়।

শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বক্তব্য হলো, ভাইভা বোর্ডে তাকে ১৫ মিনিটি তাকে তার হিজাব নিয়ে কটাক্ষ করা হয়। বিভিন্ন বিব্রতকর প্রশ্ন করে বিব্রত করা হয়। হেনস্থার পর তারা কোর্স রিলেটেড প্রশ্ন করেছিলেন মাত্র ৫ মিনিট। অথচ যারা শাড়ি, সালোয়ার কামিজ পরে ভাইভা দিতে এসেছিল, তাদের সবাইকে কোর্স রিলেটেড প্রশ্নই করা হয়েছিল কেবল।

ক্লাসেও হিজাব নিকাব নিয়ে হেনস্থার মুখোমুখি হতে হয়। খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমি ফার্স্ট ইয়ারে যখন ক্লাস করতাম, তখন ডিপার্টমেন্টের একজন টিচার আমাকে নিকাব পরিহিত অবস্থায় ক্লাস করতে দেখলেই বলতেন, এভাবে মুখ ঢেকে ক্লাস করলে উনি আমাকে এটেনডেন্স দিবেন না। এবং আমি উনার ক্লাসে সশরীরে উপস্থিত থেকে রোল কলের সময় এটেনডেন্স দেওয়া সত্ত্বেও স্যার আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘তুমি মুখ না খুললে আমি তোমাকে এটেনডেন্স দিবো না।’ এভাবে দু-একটি ক্লাস করার পরও উনি আমাকে এটেনডেন্স দিলেন না। এরপর একদিন ক্লাসে এসে বললেন, ‘হয় ক্লাসে তুমি থাকবা নাহয় আমি।’ এটা শুনে আমি হতভম্ব ও বিমর্ষ হয়ে চুপচাপ বসে ছিলাম। বের হচ্ছিলাম না দেখে তখন তিনি বলে উঠলেন, ‘আমি কি বের হয়ে যাব? হয় তুমি থাকবা নাহয় আমি থাকবো।’ স্যারের এমন কর্কশ ও রুক্ষ মেজাজ দেখে আমি ক্লাস থেকে বের হয়ে গেলাম।

কী বলে হেনস্থা করা হয়

প্রায় অর্ধ শতাধিক কেস স্টাডি করে জামালুদ্দিন মুহাম্মদ খালিদের মতামত হলো, ছাত্রীদেরকে প্রায়ই বিভিন্ন যুক্তি দেখিয়ে বিব্রত করা হয়। যেমন, ‘শিক্ষকগণ পিতার মত, তাদের সামনে চেহারা কেন ঢাকতে হবে?’, ‘হজেও তো চেহারা খোলা রাখতে হয়’, ‘না খুললে তোমাকে চিনব কিভাবে?’ ইত্যাদি বলা হয়। শিক্ষকরা পর্দার বিধান সংক্রান্ত আয়াতগুলো নিজেদের সুবিধামাফিক ব্যাখ্যাও প্রদান করেন।

আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বলেন, ডি-ইউনিটের ভাইভা হচ্ছিলো। ভাইভায় মুখোমুখি আমি ও তৎকালীন সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন সাদেকা হালিম। তিনি প্রশ্ন শুরু করলেন, তুমি যে বোরকা হিজাব পরেছো, তার মানে কি তুমি একা বেহেশতে যাবা, আমি তো টিপ পরেছি আমি তাহলে বেহেশতে যেতে পারবো না? আমরা কি যুদ্ধ করেছি, বোরকা পরার জন্য নাকি শাড়ি পরার জন্য? তুমি কেন এসব (হিজাব, নিকাব, বোরকা) পরো? আমি তো একদম নতুন। মাত্র ডি ইউনিটের ভাইভা আমার। তাই খুব অপ্রস্তুত অবস্থায় ছিলাম। নার্ভাস ছিলাম। যার ফলে গুছিয়ে উত্তর দিতে পারিনি। তৃতীয় বা শেষ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলাম, ‘ফ্যামিলির সবাই বোরকা, হিজাব পরে তো, এজন্য আমিও পরি।’ এ উত্তর শুনে উনি (সাদেকা হালিম) বললেন, ‘তোমার ফ্যামিলির সবাই জঙ্গি হলে তুমিও কি জঙ্গি হবে?’

জামালুদ্দিন মুহাম্মদ খালিদ বলেন, ‘শিক্ষকরা মাঝেমধ্যে এক্সট্রিম লেবেলে গিয়ে হিজাব-নিকাবকে ‘জঙ্গিবাদী’ ‘আফগানিস্তানি’ ট্যাগ দিয়ে দেন। ভাইভায় কোর্স সংক্রান্ত প্রশ্নের চেয়ে হিজাব সংক্রান্ত প্রশ্নই বেশি করেন।’

চেহারা শনাক্তকরণের ভুয়া দাবি

জামালুদ্দিন মুহাম্মদ খালিদ বলেন, শিক্ষকরা হিজাবের বিরোধিতা করার পেছনে চেহারা শনাক্তকরণ এবং নকল প্রতিরোধে ডিভাইস রোধকরণকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। কিন্তু এ দুটো সমস্যা নিরসনের আধুনিক নিয়ম আছে। তা পালন না করে একজন ছাত্রীর ধর্মীয় অধিকার খর্ব করে তারা কেবল হিজাবকেই দোষী করেন।’

তিনি বলেন, অধুনিক ডিভাইস ব্যবহার না করে যদি শিক্ষকরা সমাধান করতে চান, তাহলে শনাক্তকরণের জন্য মহিলা ম্যাম দিয়ে শিক্ষার্থীর পরিচয় শনাক্ত করানো যেতে পারে। সবসময় কেন মুখ খোলা রাখতে হবে। আর ব্লুটুথ হেডফোনে নকলের যে অভিযোগ তুলেন, সেটা একদমই অসম্ভব। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা হয় রচনামূলক। সেখানে ব্লুটুথে কিভাবে নকল করবে। এমসিকিউ হলে কথা ছিল।’

জামালুদ্দিন মুহাম্মদ খালিদ বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ চাইলেই আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। চেহারা শনাক্তকরণের জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা বায়োমেট্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। আর নকলের জন্য কোনো ডিভাইস কেউ ব্যবহার করছে কিনা তা জানতে ব্যবহার করা যায় আরেকটি ডিভাইস। তার নাম: এন্টি স্পাই আরএস ডিটেক্টর ওয়ারলেস। এটি ব্যবহার করলেই সব ডিভাইস শনাক্ত করা যায়।’

তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, সবাই নেগেটিভ এমন নয়। পজেটিভ অনেক দৃশ্যও আছে। যারা পজেটিভ, তাদের কারণেই শিক্ষার্থীরা হিজাব-নিকাব পরতে পারছে। যারা নেগেটিভ, তাদের কারণে শিক্ষার্থীরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছে।

‘হিজাব নিয়ে কটাক্ষ ইসলামবিদ্বেষীদের কর্মকাণ্ড’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা হিজাবের বিরোধিতা করে, হিজাব নিয়ে কটাক্ষ করে, তারা ইসলামাবিদ্বেষী বলে মন্তব্য করেছেন ঢাবির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শামসুল আলম। ফাতেহকে তিনি বলেন, ‘হিজাব-নিকাব ইসলামী বিধান। এই বিধান পালন করতে হবে। পালনের সুযোগও দিতে হবে। আমরা যদি হিজাব-নিকাব না করতে দেই, আখেরাতে সেটার দায় কে নেবে? তাই ব্যক্তিগতভাবে আমি হিজাব-নিকাব সমর্থন করি। আমার ডিপার্টমেন্টে এগুলো নিয়ে কোনো সমস্যা হয় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাবিতে যারা হিজাব নিয়ে সমস্যা করছে, ভাইবাতে নম্বর দিচ্ছে না, তারা আসলে ইসলামবিদ্বেষী। আমরা যদি পর্দাসহ ভাইভা নিতে পারি, তারা কেন নিতে পারবে না। ভাইভাতে যে মেয়েটি হিজাব পড়ে ঢুকছে, তার আগের বান্ধবিও তাকে চেনে। তার পরের বান্ধবিও তাকে চেনে। শিক্ষকরা কেন তাকে চিনবে না। তার পরিচয় নিতে কেন হিজাব খুলতে হবে। এটা বাংলাদেশ। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। এটা ইন্ডিয়া না। এখানে হিজাব-নিকাবসহই পড়াশোনার অধিকার দিতে হবে। আমি সেটা মনে করি।’

পরিচয় শনাক্তকরণে আধুনিক ডিভাইস ব্যবহার প্রসঙ্গে ড. শামসুল আলম বলেন, ‘আমরা তাদেরকে পরিচয় শনাক্তকরণে আধুনিক ডিভাইস ব্যবহার করার পরামর্শ দিতে পারি। কিন্তু এই ডিভাইস ছাড়াও, পুরুষের সামনে মুখ খোলা ছাড়াও পরিচয় শনাক্ত করা যায়। সেটার চর্চা করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্দা মানা শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়ছে। তাদের পড়ালেখার উপযুক্ত পরিবেশ করে দিতে বিশ্ববিদ্যালয় বাধ্য।’

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

All rights reserved © Jubokantho24.com