চার কারণে বদলাতে পারে ঢাকা-১৩ ফল

ঢাকা-১৩ আসনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল এখনও ঘোষণা হয়নি। তবে বিভিন্ন কেন্দ্রের পৃথক ফলাফল শিটের ভিত্তিতে পাওয়া হিসাবে রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হক প্রায় আড়াই হাজার ভোটে পিছিয়ে আছেন বলে জানিয়েছেন দৈনিক সময়ের আলো-এর সাংবাদিক আমিন ইকবাল। তবে তিনি দাবি করেন, অন্তত চারটি কারণে এই ব্যবধান পরিবর্তিত হতে পারে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমত—ব্যালট পেপারে রিকশা প্রতীকটি ছিল বাম পাশে সবার নিচে এবং তার ডান পাশ খালি ছিল। অনেক ভোটার সেই খালি জায়গায় সিল দেওয়ায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার ব্যালট বাতিল করা হয়েছে। অথচ ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাসের ক্ষেত্রে অনুরূপ ভোট বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

দ্বিতীয়ত—ডাকযোগে আসা কিছু পোস্টাল ব্যালটে রিকশা ও ধানের শীষের পাশাপাশি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সিল দেওয়া প্রায় ৬০০-এর বেশি ভোট গণনায় আনা হয়নি বলে দাবি করা হয়। সংশ্লিষ্ট আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী না থাকলেও এসব ভোট বাতিল করা হয়েছে কেন—তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

ববি হাজ্জাজের ভোট গণনায় কাটাকটি। ছবি: সংগৃহীত
তৃতীয়ত—কয়েকটি কেন্দ্রের ফলাফল শিটে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ববি হাজ্জাজের ভোটের সংখ্যায় টেম্পারিংয়ের অভিযোগ ওঠে। এসব কেন্দ্রে পুনরায় ভোট গণনার দাবি জানানো হয়েছে।

চতুর্থত—অনেক কেন্দ্রের ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব হয়েছে। রাত বারটার পরও একাধিক কেন্দ্রের ফলাফল আসে। অভিযোগ রয়েছে, এ সময়ের মধ্যে ভোট গণনায় ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হয়েছে এবং কয়েকটি কেন্দ্রে পুলিশি পাহারায় বাইরে থেকে ব্যালট যুক্ত করা হয়েছে।

একই সমস্যায় ঢাকা-৮ মির্জা আব্বাসের ভোট গণনায় ধরা হয়েছে । ছবি: সংগৃহীত
এদিকে ‘জাল ভোট’ ও ফলাফল বিলম্বের অভিযোগ নিয়ে মাঝরাতে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে হাজির হন মামুনুল হক। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এ প্রার্থী দাবি করেন, তার আসনের অন্তত ৫০টি কেন্দ্রে প্রায় ১২০০ ভোট বাতিল হয়েছে। সব কেন্দ্র মিলিয়ে বাতিল ভোটের সংখ্যা সাড়ে তিন হাজার ছাড়াতে পারে বলে তার ধারণা।

তিনি বলেন, “আমার ভোটের ব্যবধান যেহেতু প্রায় ২২০০। জাল ভোট ও অযৌক্তিকভাবে ভোট বাতিলের কারণে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কিছু ব্যবধানে এগিয়ে গেছে। এটা অত্যন্ত কষ্টের।”

খালি ঘরে সিল, সাড়ে তিন হাজার ভোট বাতিল। ছবি: সংগৃহীত
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় মোহাম্মদপুরের শারীরিক শিক্ষা কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর তিনি বলেছিলেন, স্বাভাবিক ভোটগ্রহণ হলে ফলাফল যা-ই হোক, তা মেনে নেবেন। তবে মাঝরাতে অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একাধিক কেন্দ্রে ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব হয়েছে। আমাদের আশঙ্কা, এই সময়টাতে কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি কেন্দ্র ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির অজুহাতে ফলাফল বিলম্বিত করে পরে তা ঘোষণা করা হয়েছে এবং সেখানে ভোট টেম্পারিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে রাত সোয়া ২টার পর থেকে নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়তে দেখা যায়। প্রধান ফটকের সামনে সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা ব্যারিকেড স্থাপন করেন। পাশাপাশি পুলিশ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) সদস্যদেরও মোতায়েন থাকতে দেখা যায়।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ঢাকা-১৩ আসনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা এবং অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তির দিকে এখন সবার নজর।

Jubokantho24 Ad
এ জাতীয় আরো সংবাদ
এ জাতীয় আরো সংবাদ