
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে টানাপোড়েনে থাকা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভোটের মাঠে ভরাডুবির মুখে পড়েছে। ১৪৩টি আসনে সর্বোচ্চ ভোট পাবেন বলে ঘোষণা করলেও ৩০০টির মধ্যে ২৫৭টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় পেয়েছে মাত্র একটিতে।
মোট ভোটের মধ্যে দলটি পেয়েছে মাত্র ২.৭০ শতাংশ ভোট। জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে ৯৬ শতাংশ প্রার্থীর। নির্বাচন কমিশনের আরপিও অনুযায়ী, মোট বৈধ ভোটের কমপক্ষে ১২.৫ শতাংশ না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বেশি আসন পাওয়া গেলেও আদর্শের প্রশ্নে আমরা আপস করিনি।’
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের আসনে দলটি প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত জামায়াতের সঙ্গে জোট না করে ওই আসনেও প্রার্থী দেয় দলটি। ফলাফলে দেখা যায়, শাপলা কলি প্রতীকে নাহিদ ইসলাম ৯৩,৮৭২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রার্থী পান ৯১,৮৩৩ ভোট। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শেখ ফজলে বারী মাসউদ পান ৪,৩৭৫ ভোট, যা মোট ভোটের ২.২৬ শতাংশ। ফলে তিনি জামানত হারান।
২৫৭টি আসনে মধ্যে ২২৭টি আসনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সবকটিতেই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে প্রার্থীদের। অর্থাৎ প্রায় ৯৬ শতাংশ আসনে তারা জামানত রক্ষা করতে পারেননি। সিংহভাগ আসনে ১ শতাংশেরও কম ভোট পেয়েছেন প্রার্থীরা।
নির্বাচনে অংশ নিলেও জয়ী হতে পারেননি দলটির আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের তিন ভাই। বরিশাল-৫ (সদর-সিটি করপোরেশন) আসনে ৯৩,৫২৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন দলের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ ফয়জুল করীম। এখানে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার ১,৩১,৪৩১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে ফয়জুল করীম ২৮,৮২৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। এ আসনে বিএনপির আবুল হোসেন খান পান ৮১,০৮৭ ভোট এবং জামায়াতের প্রার্থী মো. মাহমুদুন্নবী পান ৫৪,৫৩৩ ভোট। বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনে সৈয়দ ইছহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের ৩৬,৭৫৩ ভোট পান। একই আসনে বিএনপির রাজীব আহসান পান ১,২৮,৩২২ ভোট এবং জামায়াতের মোহাম্মদ আবদুল জব্বার পান ৭৪,৬৮৪ ভোট।
ইসলামী সংগীতশিল্পী বদরুজ্জামান উজ্জলের মাধ্যমে ঢাকা বিভাগে মাত্র একটি আসনে (নরসিংদী-৫) জামানত রক্ষা হয়। বরিশাল বিভাগের আটটি আসনে জামানত বাঁচাতে সক্ষম হয় দলটি। এর মধ্যে বরগুনা-১ আসনে মাওলানা মাহমুদুল হাসান উলীউল্লাহ ৪৯.৪ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন। পটুয়াখালী-৪ আসনে অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান ৩৩ শতাংশ ভোট পেয়ে জামানত রক্ষা করেন। অন্যদিকে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কোনো আসনেই জামানত রক্ষা করতে পারে নি দলটির প্রার্থীরা।
ঢাকা-৪ আসনে দলটির প্রার্থী মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ মাত্র ৬,৫১৮ ভোট পেয়ে জামানত হারান। এই আসনে জামায়াতের সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ৭৭,৩৬৭ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বিএনপির তানভীর আহমেদ পান ৭৪,৪৪৭ ভোট।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দরবার শরীফের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আসা মানুষেরা দলটির ভোটব্যাংকে রূপ নেয়নি। ফলে এখানে ভোটাররা ধর্ম আর রাজনীতিকে একসাথে মিলিয়ে না ফেলে নিজ পছন্দের দলকেই ভোট দিয়েছে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণায় সক্রিয় থাকলেও ভোটে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। জামায়াতের সঙ্গে জোট না হওয়ায় ভোট বিভক্ত হয়েছে এবং এর সুবিধা পেয়েছে বিএনপি।




