
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের বণ্টনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট থেকে একটি আসন পেতে যাচ্ছে মাওলানা মামুনুল হকের দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। জোটগত সমঝোতার অংশ হিসেবে এই আসনটি দলটিকে দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
২০০৪ সালের জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত নারী আসন) নির্বাচন আইন অনুযায়ী, সংসদের মোট আসনের অনুপাতে দল ও জোটের প্রাপ্ত সাধারণ আসনের ভিত্তিতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। বর্তমানে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল স্থগিত থাকা এবং শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ায় সংসদের কার্যকর আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯৭।
আইন অনুযায়ী, ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনকে সংসদের মোট আসনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে প্রাপ্ত ভাগফল সংশ্লিষ্ট দল বা জোটের সাধারণ আসনের সঙ্গে গুণ করা হয়।
সেই হিসাবে, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন পাওয়ার পাশাপাশি জোটসঙ্গী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দুই এবং খেলাফত মজলিসের একটি আসন যোগ করলে জোটটির মোট আসনসংখ্যা দাঁড়ায় ৭১। এতে জোটটির প্রাপ্য সংরক্ষিত নারী আসন দাঁড়ায় ১১ দশমিক ৯৫, যা আইনের বিধান অনুযায়ী ১২টি আসন হিসেবে গণ্য হবে।
জামায়াতের নির্বাচনী জোটে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থাকলেও সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে তারা জামায়াতের সঙ্গে থাকছে না। দলটি এ ক্ষেত্রে আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিসকে সঙ্গে নিয়েই জামায়াত সংরক্ষিত নারী আসনের হিসাব করছে।
জোটের অভ্যন্তরীণ সমঝোতা অনুযায়ী, জামায়াত জোটের এই ১২টি আসনের মধ্যে একটি আসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে সমর্থন দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মিডিয়া সমন্বয়ক হাসান জুনাইদ বলেন, ‘সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচনেও আমরা জামায়াতের সঙ্গেই জোটবদ্ধ থাকছি। এ ক্ষেত্রে আমাদেরকে একটি আসনে সমর্থন দেওয়ার আগ্রহ জানিয়েছে তারা।’
মজলিস মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘সংরক্ষিত নারী আসনের বিষয়ে জামায়াত আমাদেরকে তাদের সমর্থন অফার করেছে। আমরা একটি আসন নিতে চাইলে তারা সমর্থন করবে। বিষয়টি এখন প্রক্রিয়াধীন।’
অন্যদিকে আসনটির বিষয়ে খেলাফত মজলিসের অবস্থান নিয়ে দলটির নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমি বলেন, ‘সংরক্ষিত নারী আসনে (একটিতে মামুনুল হকের দলকে) সমর্থনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে প্রস্তাব আসেনি। প্রস্তাব এলে সমঝোতার ভিত্তিতে বিষয়টি সমাধান করা হবে।’
তবে বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বার্তা পাওয়া যায়নি।
এদিকে, আসনটিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনয়ন কে পেতে পারেন, এ নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে বেশ আলোচনা চলছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশে খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, ‘প্রার্থী নির্বাচনের দায়িত্ব আমিরে মজলিসকে দেওয়া হয়েছে। তিনি বিষয়টি চূড়ান্ত করবেন।’
কে হতে পারেন সেই নারী— এমন প্রশ্নের জবাবে সূত্রটি বলে, ‘প্রার্থী হিসেবে আমিরে মজলিস মামুনুল হকের পরিবারের কেউ থাকবেন না। সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের কারও ঘনিষ্ঠজনকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। ইতোমধ্যে দুই-তিনজন সম্ভাব্য প্রার্থীর একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা আমিরে মজলিসের কাছে রয়েছে।’
প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের জন্য দল ও জোটভিত্তিক তালিকা প্রস্তুত করা হবে। দল বা স্বতন্ত্র এমপিরা নির্বাচনের ফল ঘোষণার ২১ কার্যদিবসের মধ্যে নিজেদের জোটগত অবস্থান নির্বাচন কমিশনকে জানাতে পারবেন।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। সে হিসেবে রোববার ১৫ মার্চের মধ্যে দল ও এমপিদের জোটগত অবস্থান নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হবে। এরপরই সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হবে।



