ন্যায়সঙ্গত প্রতিবাদে অংশগ্রহণ, শাস্তি বহিষ্কার—বেফাকে ৪৫তম হয়ে জবাব দিলো মেধার

নিজস্ব ডেস্ক;

রাজধানী ঢাকার হেমায়েতপুরে অবস্থিত জামিয়া ইসলামিয়া আরাবিয়া বলিয়ারপুর কওমি মাদ্রাসার এক মেধাবী শিক্ষার্থীকে ন্যায়সঙ্গত প্রতিবাদে অংশগ্রহণের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে সেই শিক্ষার্থীই বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় ৪৫তম স্থান অর্জন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।

জানা যায়, শরহে বেকায়া জামাতের শিক্ষার্থী আল আমিন বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস ঢাকা জেলা উত্তরের একটি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর বাদ আসর “দেশব্যাপী চলমান ধর্ষণকাণ্ডে প্রশাসনের উদাসীনতার প্রতিবাদ ও ধর্ষকদের বিচার” দাবিতে আয়োজিত একটি বিক্ষোভ মিছিলে তার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের জেরে তাকে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বহিষ্কারের সময় তাকে সবার সামনে অপমান ও হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে।

উল্লেখ্য, মিছিলটি মাদ্রাসার ক্লাস টাইম ও ক্যাম্পাসের বাইরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

বহিষ্কারের পর শিক্ষার্থী আল আমিন আল্লামা মামুনুল হক প্রতিষ্ঠিত জামিয়াতুত তারবিয়া আল ইসলামিয়া-এ ভর্তি হয়ে বাকি পড়াশোনা সম্পন্ন করেন এবং সেখানে সুনামের সঙ্গে অধ্যয়ন চালিয়ে যান। তবে বেফাক পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন পূর্বের প্রতিষ্ঠান থেকেই হওয়ায় তাকে বলিয়ারপুর মাদ্রাসা কেন্দ্রেই পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়।

পরবর্তীতে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, তিনি নিজ জামাতের মধ্যে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করেন এবং দেশব্যাপী মেধাতালিকায় ৪৫তম স্থান অধিকার করেন- যা তার মেধা ও অধ্যবসায়ের সুস্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষাঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকেই মনে করছেন, একটি যৌক্তিক দাবিতে ক্লাস সময় ও ক্যাম্পাসের বাইরে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কারণে একজন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা কতটা যৌক্তিক- তা পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত শুধু একটি মেধাবী শিক্ষার্থীর প্রতি অবিচার নয়, বরং এটি শিক্ষার্থীদের মাঝে মতপ্রকাশ ও সামাজিক সচেতনতা বিষয়ে অংশগ্রহণে নিরুৎসাহিত করতে পারে বলেও অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

Jubokantho24 Ad
এ জাতীয় আরো সংবাদ
এ জাতীয় আরো সংবাদ