
সংরক্ষিত নারী আসনে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিএনপির আন্না মিনজের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করার অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিন। তিনি বলেন নির্বাচন কমিশন, তুমি সবার জন্য নিরপেক্ষ হও ।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। মনিরা শারমিন দাবি করেন, ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র নির্বাহী পদে থাকলে কোনো সমস্যা হয় না, কারণ সেটি বিএনপির মনোনয়ন। “সবাই তালি দিচ্ছে, বাহবা দিচ্ছে যোগ্য নারী যাচ্ছেন সংসদে! অথচ তিনি এখনও চাকরি ছাড়েন নাই,” বলেন তিনি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১২(১)(i) অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আইনগতভাবে সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য অযোগ্য।
মনিরা শারমিন বলেন, ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনাল হলো ব্র্যাকের বৈশ্বিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস্থা, যা নেদারল্যান্ডসে নিবন্ধিত এবং ঢাকা ও নাইরোবিতে এর অফিস রয়েছে। সংস্থাটি বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা, যেমন গেটস ফাউন্ডেশন থেকে অনুদান গ্রহণ করে। ২০০২ সালে যাত্রা শুরু করা ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনাল বর্তমানে বাংলাদেশসহ এশিয়া ও আফ্রিকার ১৫টি দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আন্না মিনজ ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর অব প্রোগ্রামস পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন এমন কোনো প্রকাশ্য তথ্য পাওয়া যায় না। ব্র্যাকের ওয়েবসাইটেও তাকে এখনও ওই পদে দেখানো হচ্ছে। “সেক্ষেত্রে তার পদত্যাগ থেকে তিন বছর অতিবাহিত হয়নি এবং তিনি আইনগতভাবে সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য,” দাবি করেন তিনি।ঢাকা হোটেল
তিনি অভিযোগ করেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে আইন ভঙ্গ করেছেন এবং বিএনপিকে বেআইনি সুবিধা দিয়েছেন। সমালোচনার মুখে ব্র্যাকের ওয়েবসাইট থেকে তার প্রোফাইল সরানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নিজের প্রসঙ্গ টেনে মনিরা শারমিন বলেন, ছাত্র নেতৃত্ব থেকে উঠে এসে আন্দোলন-সংগ্রাম করে নিজের যোগ্যতায় চাকরি পেয়েও তিনি রাজনীতির জন্য ক্যারিয়ার ত্যাগ করেছেন। “কিন্তু সেটাই যেন অপরাধ, কারণ আমি বিএনপি না, এনসিপি,” বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “আইন, তুমি সবার জন্য সমান হও। নির্বাচন কমিশন, তুমি সবার জন্য নিরপেক্ষ হও। আমি এত সহজে ছাড়ব না। এটি শুধু এমপি হওয়ার লড়াই নয়, এটি নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলকভাবে আইনের ব্যাখ্যার বিরুদ্ধে এবং নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতমূলক আচরণের বিরুদ্ধে লড়াই।”




