
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মোল্লা খালেদ সাইফুল্লাহ বলেছেন, তারা কখনও “ফাঁকা বুলি” দেন না এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেকের অবস্থান বদলে যায়। তিনি ইঙ্গিত করে বলেন, শিগগিরই আবারও কিছু মহল ভিন্ন সুরে কথা বলতে শুরু করবে।
সম্প্রতি আল্লামা মামুনুল হক-এর আলোচিত ‘হরমুজ’ সংক্রান্ত বক্তব্য ঘিরে সৃষ্টি হওয়া আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য করেন তিনি। ইরানি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন।
একই পোস্টে তিনি বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়েও বিস্তারিত মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আমিরে মজলিস আজ সত্যিই একটি ঐতিহাসিক কাজ করেছেন।” এ প্রসঙ্গে সম্ভাব্য প্রশ্নের জবাবে তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিরোধী দলও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
তার মতে, বিরোধী দলের বক্তব্য সরাসরি অর্থনৈতিক বা কূটনৈতিক ফল বয়ে না আনলেও, রাষ্ট্র যদি আন্তরিকতা ও কূটনৈতিক প্রজ্ঞা নিয়ে এগোয়, তবে বিরোধী দলের সঙ্গে গড়ে ওঠা ইতিবাচক সম্পর্ক এক ধরনের শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে। এটি কেবল সরকারের অবস্থান নয়, বরং পুরো জাতির সম্মিলিত বার্তা হিসেবে প্রতিফলিত হয়।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, সরকার যদি কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেয়—যেমন ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বা জাহাজ আনার বিষয়—তখন সেই দেশ যদি দেখে সরকার ও বিরোধী দল উভয় পক্ষের মধ্যে ইতিবাচক সমন্বয় রয়েছে, তাহলে বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। এতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হয়।
অন্যদিকে, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে অবস্থানগত বিরোধ থাকলে তা কূটনৈতিক সম্পর্কে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে এবং সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সবশেষে তিনি বলেন, বিরোধী দলের কাজ রাষ্ট্রকে দুর্বল করা নয়, বরং পরোক্ষভাবে শক্তিশালী করা। তিনি দাবি করেন, তারা দেশের স্বার্থে সরকারকে সহযোগিতা করতে এবং একটি ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তুলতে চেষ্টা করছেন। তবে দুঃখজনকভাবে সরকার সেই সহযোগিতাকে স্বাগত না জানিয়ে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছে।




