ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব না দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। তাঁর নিয়োগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বানও জানিয়েছিল সংগঠনটি। তবে হেফাজতসহ কয়েকটি ইসলামী সংগঠনের আপত্তিকে চাপ হিসেবে দেখছেন না ধর্ম প্রতিমন্ত্রী। বরং এসব আপত্তি ও পরামর্শকে ‘গঠনমূলক’ হিসেবে দেখছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল-জামেয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় গিয়ে মাদরাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন শামীম কায়সার লিংকন। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে তাঁর দূরত্বের বিষয়ে জানতে চাইলে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এটিকে দূরত্ব মনে করি না। আমাদের মধ্যে যত যোগাযোগ বাড়বে, ততই এই ব্যবধান কমে আসবে।’
তিনি বলেন, ‘ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মতো দায়িত্বে এর আগে আমি ছিলাম না। তাই দেশের ওলামা, পীর-মাশায়েখদের সঙ্গে কথা বলা, তাঁদের পরামর্শ নেওয়া এবং তাঁদের চিন্তাভাবনার প্রতিফলন ঘটানোর বিষয়কে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।’
হেফাজতসহ কয়েকটি ইসলামী সংগঠনের আপত্তির বিষয়ে শামীম কায়সার লিংকন বলেন, ‘এগুলোকে আমরা চাপ হিসেবে দেখি না; বরং গঠনমূলক পরামর্শ হিসেবে দেখি। এ ধরনের পরামর্শ ও চাপ আমাদের ওপর থাকা উচিত। কারণ, এগুলো আমাদের আরও দায়িত্বশীল ও সচেতনভাবে কাজ করতে উৎসাহিত করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন বিষয়ে যে পরামর্শ, চাপ বা জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন সরকারের কাছে আসে, সেগুলোকে চাপ হিসেবে না দেখে গঠনমূলক পরামর্শ হিসেবে দেখা উচিত। এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যাওয়া জরুরি, যাতে সরকারের মাধ্যমে কোনো ভুলত্রুটি না হয়।’
এদিকে হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির ও আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর ছেলে মুফতি আইয়ুব বাবুনগরী বলেন, ‘শনিবার দুপুরে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মাদরাসায় এসে হেফাজতে ইসলামের আমিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর দোয়া নেন।’
তিনি বলেন, সাক্ষাৎকালে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, ওলামা-মাশায়েখদের সঙ্গে নিয়ে তিনি ধর্ম মন্ত্রণালয় পরিচালনা করতে চান। তিনি কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর ধর্ম প্রতিমন্ত্রী নন, বরং সবার ধর্ম প্রতিমন্ত্রী। সবার সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ২১ আগস্ট গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব না দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক মুফতি কিফায়াতুল্লাহ আজহারী ওই বিবৃতিতে এ দাবি জানান। পাশাপাশি তাঁকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বানও জানানো হয়েছিল।
