৩৬ বছর রাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি করে মানুষ হতে পারিনি, মানুষ হয়েছি জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খানের কথায় মানুষ হয়েছি সদ্ব্য জামায়াতে যোগ দিয়ে এ মন্তব্য করেছেন বহিষ্কৃত বংশাল থানা বিএনপি নেতা ইয়াকুব সরকার।
তিনি বলেছেন, ‘জীবনে বহুবার জেল খেটেছি, বছরের পর বছর। কিন্তু আমার দলের (বিএনপি) নেতাকর্মী, যাদের সঙ্গে জেল খেটেছি, তারা হয় তাস খেলতে বলেছে, নয়তো বিড়ি-সিগারেট হাতে দিয়েছে, নতুবা নেশাদ্রব্য দিয়েছে।’
গতকাল মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটে জামায়াতে যোগদান করে তিনি এসব কথা বলেন।
ইয়াকুব সরকার বলেন, এখন কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে গেলাম। আমার যখন ফাইল হলো, আমাকে বলা হলো যে আমাকে পানিশমেন্ট সেলে রাখা হবে। আমি বললাম, না, আমাকে সেখানে দেওয়া যাবে না। আমি তো ওরকম কোনো বড় সন্ত্রাসী নই। আমার সেলের নামটা এখন মনে নেই, হয়তো তিতাস বা অন্য কোনো সেল ছিল। সেখানে আমাদের সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য, জামায়াতে ইসলামীর নেতা মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ভাই ছিলেন। তিনি যখন আমার কথা শুনলেন, তখন লোক পাঠিয়ে আমাকে তার কাছে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করলেন। সেখানে তিনি আমাকে নিজের আপন ছোট ভাইয়ের মতো রেখেছেন। সেখানে একমাত্র বিএনপির নেতা ছিলাম।
তিনি বলেন, এটা বলার উদ্দেশ্য হলো, যখন কোরআন তেলাওয়াত করতাম, খান ভাই আমাকে বললেন, ‘তুমি এত সুন্দর কোরআন পড়ো, ইয়াকুব, তোমাকে তো এই সরকার বের হতে দেবে না। মিনিমাম এক বছর এবং নির্বাচন শেষ না হওয়ার আগে তুমি বের হতে পারবে না। সুতরাং তুমি এখান থেকে কিছু শিখে যাও।’ বললাম, কী করব ভাই? পরে তিনি বললেন, তুমি কোরআনের কিছু সূরা মুখস্থ করো। পরে অনেকগুলো সুরা মুখস্ত করেছিলাম এবং তাকে শুনিয়েছিলাম।
তিনি আরও বলেন, জীবনে বহুবার জেল খেটেছি, বছরের পর বছর। কিন্তু আমার দলের (বিএনপি) নেতাকর্মী, যাদের সঙ্গে জেল খেটেছি, তারা হয় তাস খেলতে বলেছে, নয়তো বিড়ি-সিগারেট হাতে দিয়েছে, নতুবা নেশাদ্রব্য দিয়েছে। আমার পার্শ্ববর্তী এলাকায় নির্বাচন করেছেন—মান্নান ভাই। তিনি বলে গিয়েছেন, ‘জামায়াতে ইসলামীতে কোনো নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি নেই।’ জামায়াতে কোনো নেশাগ্রস্ত মানুষ নেই—এটা আমি বাস্তবে প্রমাণ পেয়েছি। এখানেই বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর পার্থক্য।
সবশেষে ইয়াকুব সরকার বলেন, এই কারণেই বিষয়টি তুলে ধরলাম। আমি বিএনপির ৩০-৩৬ বছর সার্ভিস দিয়েছি, কিন্তু মানুষ হতে পারিনি। মানুষ হয়েছি জামায়াত নেতার কথায় এবার কারাগারে গিয়ে। সুতরাং তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমি বলতে চাই, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে নিজে কোরআন শিক্ষা করে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়।’ এখানে আমি শিখেছি, তাই উত্তম হওয়ার চেষ্টা করেছি। আর যিনি আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন, তিনিও উত্তম কাজ করেছেন। পাশাপাশি যারা ছিলাম, জামায়াতে ইসলামীর সবাই সারাদিন কোরআন-সুন্নাহ নিয়ে থাকত। এটা বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি এবং এর বাস্তব প্রমাণ আমি নিজে।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছিলেন বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা ইসহাক সরকার। এবার তারই আপন ভাই বহিষ্কৃত বংশাল থানা বিএনপি নেতা ইয়াকুব সরকার ৬০ জন নেতাকর্মী নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন।
