জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীদের টানে রিকশা থেকে পড়ে স্কুলশিক্ষক রনজিলা পারভীন নিহত হওয়ার ঘটনাটি নিয়ে থানা পুলিশের তদন্তের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও ছায়া তদন্ত করছে। তবে তদন্ত একটি চলমান প্রক্রিয়া হওয়ায় এখনই নির্দিষ্ট করে কাউকে মূল অপরাধী বলা সম্ভব নয়।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় র্যাব যে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে তাদের একজনের বিরুদ্ধে ১২টি ছিনতাই মামলা রয়েছে। ফলে তাকে একেবারে নির্দোষ বলার সুযোগ নেই। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
মূল আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে কিনা প্রশ্নে ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, থানার তদন্তের পাশাপাশি ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশও এ ধরনের স্পর্শকাতর ঘটনায় ছায়া তদন্ত করে থাকে। এ ঘটনাতেও তাদের নজরদারি রয়েছে।
সংসদ ভবনের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় একজন শিক্ষক ছিনতাইকারীর টানে পড়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা ও পুলিশের দায়িত্বে কোনও অবহেলা ছিল কিনা প্রশ্নও ওঠে। এ বিষয়ে পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি বলা যাবে না। তবে তেমনটি হলে তা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, আগে থেকেই বাস টার্মিনাল, হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোশাকধারী পুলিশ ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যদের টহল ছিল। তবে ঘটনার পর ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশনায় চাহিদা অনুযায়ী কোনও কোনও স্থানে একটি টহল দলের পরিবর্তে তিনটি টহল দল করা হয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশের টিমও বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি মোটরসাইকেল টিম মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা গেছে, চোখের চিকিৎসার জন্য ঢাকার ফার্মগেট এলাকার ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসক দেখাতে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে বাসে করে বগুড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন রনজিনা পারভীন। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকায় পৌঁছে তিনি রিকশাযোগে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। পথে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে একটি মোটরসাইকেলে থাকা ছিনতাইকারীরা রিকশা পাশ থেকে তার ব্যাগ ধরে টান দেয়। এতে ভারসাম্য হারিয়ে রনজিনা পারভীন রিকশা থেকে সড়কে পড়ে যান। মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি। পরে তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন
এ ঘটনায় তার স্বামী আবদুল মতিন বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন।
রনজিলা পারভিন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তাদের গ্রামের বাড়ি গাবতলী উপজেলার তরফসরতাজ গ্রামে। তার স্বামী আবদুল মতিন বগুড়া শহরের নিউমার্কেট এলাকায় পোশাকের ব্যবসা করেন। ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে তাকিয়া আকতার রাইসা।
