বিদ্যুৎ-জ্বালানী সংকট ও চাঁদাবাজি নিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে ফেসবুকে কটুক্তি ও গালিগালাজের অভিযোগে সিফাত আব্দুল্লাহ নামের এক কলেজছাত্রকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টম্বর) রাত ৯টার দিকে গাজীপুরের নিজ বাসা গাছা থানা পুলিশ তাকে আটক করে।
আটক সিফাত আব্দুল্লাহ রাজধানী ঢাকার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ছাত্র এবং গাজীপুর মহানগরীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের টিনের মসজিদ এলাকার সিকান্দরের ছেলে। তিনি এনসিপি ও ইনকিলাব মঞ্চের সমর্থক বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মুখ্য সংগঠক অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান। আটকের পর এনসিপি নেতাকর্মীরা সিফাতের মুক্তির দাবিতে কয়েক ঘন্টা থানায় অবস্থান নিলেও পুলিশ তাকে ছাড়েনি বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েয়ের প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
সম্প্রতি ফেসবুক ভিডিওতে বিএনপি সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে গালিগালাজ করে সমালোচনা করেন সিফাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন,“আমার দুই মাসের বিদ্যুৎ বিলের জন্য এই মাসে ৪ হাজার টাকা ও গত মাসে ৫ হাজার টাকা দিয়েছি। সব মিলিয়ে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আমার বিদ্যুৎ বিল কি বিএনপির সরকার দিবে? নির্বাচন দে, নির্বাচন দেওয়ার পরে কি অবস্থা দেশের। তেল নাই, গ্যাস নাই, বিদ্যুৎ নাই, লোডশেডিং, চাঁদাবাজি করে আবার বলেন আমরা আসলে দেশের পরিবর্তন হবে। কি পরিবর্তন হয়েছে? আট মাসের মধ্যে কি করেছিস তোরা? ঘুমাইতে পারি ঠিকমত. চলতে পারি না ঠিকমতো।”
এনসিপি কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান গণমাধ্যমকে বলেন,“সিফাত এনসিপির সমর্থক এবং ইনকিলাব মঞ্চের ভক্ত। সে আমাদের কর্মকাণ্ডেরও সমালোচনা করে, বিএনপিরও সমালোচনা করে। অহেতুক তাকে আটক করা হয়েছে। তাকে আটকের পর থেকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার থেকে শুরু করে ওসি এবং পুলিশ কর্মকর্তারা চেষ্টা করতেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সরকারকে নিয়ে কটূক্তিকারী হিসেবে মামলা দিয়ে জেলে পাঠাতে। আওয়ামী বা অন্য কোনও ট্যাগ দিয়ে মামলা দেওয়ার পাঁয়তারা করতেছে পুলিশ। আমরা সিফাতকে শুরু থেকে চিনি। জুলাই আন্দোলনেও ছিল।”
তিনি বলেন,“সবসময় সরকারের বিভিন্ন অসংগতি, অন্যায় সিদ্ধান্ত, তেল গ্যাস, বিদ্যুৎ ইত্যাদিসহ এমনকি সে বিভিন্ন সময় এনসিপির এবং অন্যান্য দলেরও সমালোচনা করছে। ন্যায় সঙ্গত সমালোচনা করে। অথচ পুলিশ রাতে তাকে বাসা থেকে লুঙ্গি পরা অবস্থায় তুলে নিয়ে এসে এখন বলছে, প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি ও সরকার সংশ্লিষ্টদের গালিগালাজ করেছে। এটা মানবাধিকার লঙ্ঘন, বাক স্বাধীনতার লঙ্ঘন, সংবিধানের মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন এবং পুলিশের বাড়াবাড়ি। এটা দলীয় পেটুয়া পুলিশের কাজ।”
আলী নাসের খান বলেন, আটকের পর এনসিপি নেতাকর্মীরা গাছা থানায় গিয়েছিল। গিয়ে দেখি থানা থেকে ওসি উধাও হয়ে গেছেন। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের গোপন ইশারায় ওসি উধাও। পদোন্নতির পর আরও পদোন্নতি পাইতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন জিএমপি কমিশনার ও ওসি। থানা প্রাঙ্গণে স্থানীয় লোকজন, সুশীল সমাজের লোকজন এবং এনসিপির নেতৃবৃন্দ যাওয়ার পরই পুলিশ সিসিটিভি বন্ধ করে দিয়েছে। পরে বিএনপির লোকজন আমাদের নেতাকর্মী ও সুশীল সমাজের লোকজনের ওপর চড়াও হন। এরপর পুলিশ এসে জানায় সকালে সিফাতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন ওসি। আমরা বলেছি, সিফাতকে ছাড়া আমরা থানা থেকে যাবো না। আমাদের নেতাকর্মীরা রাত ২টা পর্যন্ত থানায় অবস্থান করছেন। আমরা ন্যায়বিচার চাই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিফাত তার ফেসবুক আইডিতে ১ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও আপলোড করেন। ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা গাছা থানা পুলিশকে বিষয়টি জানায়। পরবর্তীতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রাত ৯টার দিকে তাকে থানায় নিয়ে আসে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির দায়ে তাকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
