চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে ১১-দলীয় ঐক্যের নেতারা জানিয়েছেন, জনগণের অধিকার আদায়ে তাঁরা রাজপথে নেমেছেন। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠান করেই ঘরে ফিরবেন। লংমার্চে সরকার বাধা দিলে ৬ দফা দাবি সরকার পতনের এক দফায় রূপ নেবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধী জোটের নেতারা।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে ১১-দলীয় ঐক্য আয়োজিত চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ উপলক্ষে উদ্বোধনী সমাবেশে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের লংমার্চ ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে । আমাদের দাবি স্পষ্ট। জনগণ গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি সংকটে ভুগছে। তারপরও জনগণকে বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। এদেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নেমেছি। আমরা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেই ঘরে ফিরব, ইনশাআল্লাহ।’
সমাবেশে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এই লংমার্চ সর্বস্তরের জনতার। সরকার যদি লংমার্চে বাধা দেয়, তাহলে সব বাধা উপেক্ষা করে আমরা চট্টগ্রামে পৌঁছাব। ১১ দলের লংমার্চের ৬ দাবি এক দফায় রূপ নেবে।’
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দাম রোধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধসহ ৬ দাবিতে এই লংমার্চ করছে ১১-দলীয় ঐক্য।
সকালে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সমাবেশ শুরু হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ।
সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ক্ষমতার মসনদে বসে যদি জাতিকে ভুলপথে পরিচালিত করার চেষ্টা করে, তাহলে টেনে নামাতে আমাদের হাত একচুলও কাঁপবে না।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে ব্যর্থ হয়েছে। দিনে দিনে দুর্ভোগ বাড়ছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। জনগণকে দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। সরকারকে সংসদে ভুল স্বীকার করে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে।
সমাবেশে বক্তৃতা করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদসহ ১১-দলীয় ঐক্যের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। পরে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু হয়।
লংমার্চের রুটে পূর্বনির্ধারিত বিভিন্ন পয়েন্টে পথসভা হবে। প্রথমটি নারায়ণঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজের কাছে ট্রাকস্টান্ডে, এরপর কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল, মীরের সরাই এবং সর্বশেষ চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে জনসভা হবে।
