গাজ্জা সিটিতে নতুন শিক্ষাবর্ষে স্কুলে ফেরার প্রথম দিনেই দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের হামলায় নিহত হয়েছে ৮ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু ওয়াফা ইউসুফ নাবিল আকিলা। বাবার সঙ্গে স্কুলের সামগ্রী কিনে বাড়ি ফেরার সময় পশ্চিম গাজ্জা সিটিতে তাদের গাড়িতে ইসরাইলি হামলা চালানো হয়। এতে ওয়াফা ও তার বাবা ইউসুফ নাবিল রাবাহ আকিলা নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর ওয়াফার স্কুলের বই ও অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রী গাড়ির ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর দিনেই শিশুটির এমন মৃত্যু গাজ্জায় যুদ্ধের মধ্যে শিশুদের শিক্ষাজীবনের ভয়াবহ বাস্তবতা সামনে এনেছে।
হামলাটি পশ্চিম গাজ্জা সিটিতে একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে চালানো হয়। আল-শিফা হাসপাতালের প্রধান মোহাম্মাদ আবু সেলমিয়া জানিয়েছেন, হামলায় ইউসুফ আকিলা ও তার মেয়ে ওয়াফা নিহত হন এবং আরও ছয়জন আহত হন।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা হামাসের একজন সদস্যকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল। পরে ইসরাইলি বাহিনী ওয়াফার বাবা ইউসুফ আকিলাকে হামাসের সামরিক শাখার নুখবা বাহিনীর একটি কোম্পানির কমান্ডার হিসেবে চিহ্নিত করে। তাদের দাবি, তিনি ইসরাইলি সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা এবং হামাসের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে প্রকাশ্যে এসব দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি।
ওয়াফার মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে তার স্কুলের পোশাক পরা হাস্যোজ্জ্বল ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। স্কুলে ফেরার আনন্দে নতুন বই ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে বাবার সঙ্গে বের হয়েছিল শিশুটি। কিন্তু বাড়ি ফেরার আগেই ইসরাইলি হামলায় তার জীবন থেমে যায়।
গাজ্জায় দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে শিক্ষা অবকাঠামোর বড় অংশ ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত শিশুদের অনেকেই তাঁবু, অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ ও আশ্রয়কেন্দ্রে পড়াশোনা করছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হলেও গাজ্জার শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম এখনো যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যেই চলছে।
এদিকে একই সময়ে মধ্য গাজ্জার দেইর আল-বালাহ এলাকায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়স্থল সাকিনা স্কুলে ইসরাইলি গোলাবর্ষণে এক শিশুও নিহত হয়েছে। আল-জাজিরা জানিয়েছে, প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদি ঘালিয়া ওই হামলায় নিহত হয়।
গাজ্জায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও ইসরাইলি হামলা ও প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে। আল-জাজিরার হিসাবে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজ্জায় ইসরাইলি হামলায় ১ হাজার ৩৫২ জন নিহত এবং ৪ হাজার ৫১১ জন আহত হয়েছেন।
সূত্র আল-জাজিরা
