হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন চালকবিহীন নজরদারি নৌযানে আঘাত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনী। তবে ইরানের এই দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। আমেরিকার সামরিক বাহিনীও তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, তারা হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন চালকবিহীন নজরদারি নৌযানকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। নৌযানটির নাম ‘সেইলড্রোন’ এবং এর গায়ের নম্বর ৫৮৩৮ বলে জানানো হয়েছে।
ইরানি বাহিনী নৌযানটিতে কোন অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে, এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিংবা ঘটনাটি ঠিক কখন ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি। তবে তারা বলেছে, নৌযানটিকে লক্ষ্যবস্তু করার মাধ্যমে এর কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে ইরানি বাহিনী আরও বলেছে, হরমুজ প্রণালি তাদের গোয়েন্দা নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের আওতায় রয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো বৈরী তৎপরতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
ইরানের এই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি আমেরিকার সামরিক বাহিনী। ফলে নৌযানটিতে আঘাতের দাবি এবং এর ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে, একই সময়ে হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগর ঘিরে সামুদ্রিক উত্তেজনার মধ্যেই একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা কেন্দ্র জানিয়েছে, উত্তর আরব সাগর ও ওমান উপসাগরে কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ অচল করে দেওয়ার মতো গোলাগুলির শিকার হয়েছে। তবে এতে হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা তারা নিশ্চিত করতে পারেনি।
আলাদাভাবে সংস্থাটি জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দর রাশিদের উত্তর-পশ্চিমে একটি জাহাজ নোঙর করা অবস্থায় কাত হয়ে থাকতে দেখা গেছে। অজ্ঞাত কোনো বস্তুর আঘাতে জাহাজটির ভেতরে পানি ঢুকে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরকে ঘিরে ইরান ও আমেরিকার সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই এসব সামুদ্রিক ঘটনার খবর সামনে এলো। সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
সূত্র: আনাদোলু
