যেই ক্ষমতায় যায়, সেই শেখ হাসিনা হতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।
তিনি বলেছেন, ‘যিনিই ক্ষমতায় যাবেন, পাঁচ-দশ বছর পর তিনিই হাসিনায় পরিণত হবেন। তাই শুধু সরকার পরিবর্তন করলেই হবে না, রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামোগত পরিবর্তন করতে হবে।’
গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় শরীয়তপুর পৌরসভা মাঠে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শরীয়তপুর জেলা শাখা আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এ নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করে দলটি।
মামুনুল হক বলেন, “বর্তমানে যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান, তার মধ্য দিয়ে লঙ্কায় গেলেই হনুমান হবে। যেই ক্ষমতায় যায়, সেই হাসিনা হতে চায়। যিনিই ক্ষমতায় যাবেন, পাঁচ-দশ বছর পর তিনিই হাসিনায় পরিণত হবেন। তাই শুধু সরকার পরিবর্তন করলেই হবে না, রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামোগত পরিবর্তন করতে হবে।”
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, “বর্তমানে রাষ্ট্রপতির পদ অনেকটাই আলংকারিক হয়ে আছে। জুলাই বিপ্লবের স্পিরিট অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির হাতে বাস্তবসম্মত কিছু প্রশাসনিক ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন।”
বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর একক কর্তৃত্ব থেকে বিচার বিভাগকে বের করে আনতে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে দলীয় প্রভাবমুক্ত বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।”
তিনি আরও বলেন, “কোনো দলীয় পরিচয়ের বিচারপতি যেন জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারেন, সে ব্যবস্থা করতে হবে। বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা ছাড়া দেশে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।”
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি তুলে মামুনুল হক বলেন, “সব রাজনৈতিক দল যদি এ দাবি থেকে সরে যায়, তাহলে প্রয়োজনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস একাই জনগণের কাছে গিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানাবে।”
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে ফ্যাসিবাদ আবারও ফিরে আসার সুযোগ পাবে। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।”
দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় কোনো ধরনের আধিপত্যবাদ মেনে নেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা শাব্বির আহমেদ ওসমানী। বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ, মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ উদ্দিন আহমদ হানজালা, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুর রহমান হেলাল ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য নূর হোসাইন নূরানীসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
