অধিকৃত পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহের সময় ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে আবু দিস এলাকায় ৪০ বছরের বেশি পুরোনো প্রায় ৫৫টি জলপাইগাছ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) এসব হামলার ঘটনা ঘটে। খবর মিডল ইস্ট মনিটরের।
ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, নাবলুসের উত্তরে সেবাস্তিয়ায় জলপাই সংগ্রহের সময় পাঁচ ফিলিস্তিনিকে মারধর করা হয়। নাবলুসের দক্ষিণে আসিরা আল-কিবলিয়ায় আরও তিনজন হামলায় আহত হন। কাছের বেইত ইমরিনে মরিচ স্প্রে ছোড়ার ঘটনায় আহত হন আরও দুজন।
জেনিনের পূর্বে আররাবুনায় জলপাই সংগ্রহের সময় হামলার শিকার হয়ে এক কৃষকও আঘাত পান। রামাল্লার উত্তর-পশ্চিমে রান্তিসে এক ব্যক্তি, তার স্ত্রী ও সন্তানদের ওপর লাঠি, আগ্নেয়াস্ত্র ও মরিচ স্প্রে নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে পরিবারের পাঁচ সদস্য আহত হন। ওয়াফা জানিয়েছে, হামলার সময় ওই নারীকে গাড়ি চাপাও দেওয়া হয়।
এদিকে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের দক্ষিণ-পূর্বে আবু দিসের ওয়াদি এলাকায় ফিলিস্তিনি কৃষক ইব্রাহিম আবু হেলালের জমিতে থাকা প্রায় ৫৫টি জলপাইগাছ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি গাছের বয়স ৪০ বছরের বেশি। হামলার সময় আবু হেলাল স্ত্রী, সন্তান ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে জলপাই সংগ্রহ করছিলেন। পরে বসতিস্থাপনকারীরা ফিরে এসে গাছের পাশাপাশি কৃষিকাজের সরঞ্জাম ও সংগ্রহ করা জলপাইও পুড়িয়ে দেয়।
কাফর কাসেমের পূর্বে ও ক্যালকিলিয়ার কাছাকাছি এলাকাতেও জলপাই সংগ্রহ করা ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, কৃষকদের জমিতে যেতে বাধা দিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
ফিলিস্তিনে জলপাই সংগ্রহের মৌসুম সাধারণত অক্টোবরের শুরু থেকে নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত চলে। কৃষকদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষি ও অর্থনৈতিক মৌসুম হলেও এ সময়ে জমিতে প্রবেশে বাধা, মারধর, ফসল লুট এবং গাছ কেটে ফেলা বা পুড়িয়ে দেওয়ার মতো হামলা বেড়ে যায়।
ফিলিস্তিনের উপনিবেশায়ন ও দেয়াল প্রতিরোধ কমিশনের হিসাবে, সেপ্টেম্বর মাসে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতিস্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনি, তাদের জমি ও সম্পত্তিকে লক্ষ্য করে ২ হাজার ৫১টি হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ৬৪৭টি হামলা চালিয়েছে বসতিস্থাপনকারীরা। ওই মাসে এসব হামলায় তিন ফিলিস্তিনি নিহত হন।
