দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের রাজনীতিবিদ মোশে ফেইগলিন গাজ্জার পুরো জনগোষ্ঠীকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলেছেন। এমনকি গাজ্জায় জন্ম নেওয়া শিশুরাও ভবিষ্যতে ইসরাইলের জন্য হুমকি হয়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সোমবার (৫ অক্টোবর) প্রকাশিত দ্য জেরুজালেম পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফেইগলিন বলেন, “শত্রু হলো গাজ্জা, হামাস নয়।”
তিনি বলেন, গাজ্জার শিশুদের বড় হয়ে ওঠার মধ্য দিয়ে ইসরাইলের জন্য হুমকি তৈরি হবে। তার ভাষ্য, গাজ্জায় জন্ম নেওয়া একটি শিশুও ভবিষ্যতে ইসরাইলি শিশুর জন্য একই ধরনের হুমকি হয়ে উঠবে। গাজার বাসিন্দাদের মানসিকতা পরিবর্তন বা তাদের অন্যভাবে শিক্ষিত করার কোনো সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফেইগলিন গাজ্জা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, গাজ্জার সীমান্ত খুলে দিয়ে সেখানকার বাসিন্দাদের চলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। তবে কেউ গাজ্জায় থেকে যেতে পারবে না এবং পুরো ভূখণ্ডকে ইহুদি রাষ্ট্রের অংশ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ৭ অক্টোবরের হামলার পর গাজ্জাকে দখল করে নেওয়া এবং সেখানে ইসরাইলি বসতি স্থাপন করা উচিত ছিল। তার মতে, গাজ্জা খালি করে সেখানে নতুন ইসরাইলি বসতি ও অবকাঠামো গড়ে তোলা হলে ইসরাইলের শত্রুদের কাছে শক্ত বার্তা যেত।
গাজ্জার শিশুদের নিয়েও ফেইগলিন বলেন, তারা তাদের মায়েদের কাছ থেকে যে শিক্ষা পায় তা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তিনি দাবি করেন, গাজ্জার শিশুরাও ভবিষ্যতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে একই ধরনের হামলা চালাবে।
ফেইগলিন বলেন, গাজ্জার বাসিন্দাদের সরিয়ে দেওয়ার পর ভূখণ্ডটিকে ইসরাইলের সঙ্গে যুক্ত করা হলে গোটা অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। তবে তিনি একই সঙ্গে বলেন, গাজ্জার সবাইকে হত্যা করার কথা তিনি বলছেন না। তার প্রস্তাব হলো সীমান্ত খুলে দিয়ে বাসিন্দাদের চলে যেতে বাধ্য করা এবং গাজ্জাকে ইসরাইলের অংশ করে নেওয়া।
মোশে ফেইগলিন ইসরাইলের জেহুত পার্টির চেয়ারম্যান। আসন্ন ইসরাইলি নির্বাচনে তার দল বেজালেল স্মোটরিচের নেতৃত্বাধীন ধর্মীয় জায়নবাদী দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। জোটের তালিকায় ফেইগলিন দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন।
সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট
