নরসিংদীর তরুণ আলেমদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচয়, ভ্রাতৃত্ব ও সহযোগিতার বন্ধন সুদৃঢ় করার প্রত্যয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ‘আহবাব কাফেলা নরসিংদী’। মুফতি গোলাম রাজ্জাক কাসেমীর আহ্বানে তরুণ আলেমদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সূচনা সভায় এ সম্মিলিত পথচলা শুরু হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন মাওলানা হাফিজুল্লাহ, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মুফতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, মুফতি গোলাম রাব্বী, মুফতি রাকিবুল হাসান, মুফতি গোলাম রাজ্জাক কাসেমী, মুফতি আহমদ কবির রিফায়ী, মুফতি নেয়ামাতুল্লাহ সালেহ, মুফতি ইউসুফ আহমেদ, মাওলানা হাবিবুল্লাহ মজুমদার, মাওলানা বায়জিদ হোসেন ও মুফতি মানছুরুল হক আদনানসহ আরও অনেক তরুণ আলেম।
নরসিংদীর তরুণ আলেমগণ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষকতা, দাওয়াত, লেখালেখি ও গবেষণাসহ নানা ক্ষেত্রে ইলমি ও দ্বীনি খেদমতে নিয়োজিত। একই জনপদের সন্তান ও একই প্রজন্মের মানুষ হয়েও কর্মব্যস্ততায় পারস্পরিক পরিচয় ও হৃদ্যতার সুযোগ তৈরি হয় না। জেলার বিভিন্ন এলাকা ও প্রতিষ্ঠানের আলেমরা নিজ নিজ পরিমণ্ডলে প্রশংসনীয় কাজ করছেন। তবে বৃহত্তর পরিসরে পারস্পরিক পরিচয়, ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের একটি অভিন্ন ক্ষেত্র গড়ে তোলা সময়ের দাবি। সেই ভাবনা থেকেই একবিংশ শতাব্দীর তরুণ আলেম সমাজকে নিয়ে এই কাফেলার পথচলা।
আয়োজকরা জানান, শুধু একত্র হওয়া নয়, আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং পরস্পরের নির্ভরতার মানুষ হওয়াই এর লক্ষ্য। এজন্য মতপার্থক্য ও বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান রেখে ঐক্য ও পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ তৈরি, সম্মিলিত উদ্যোগে ইলমি, দ্বীনি ও সামাজিক খেদমত, আরবি-বাংলা-ইংরেজি ভাষা ও তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ এবং সদস্যদের জ্ঞান ও দক্ষতা মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। ছোট ছোট উদ্যোগ দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানো হবে।
প্রথম পরিকল্পনা হিসেবে আসন্ন বার্ষিক পরীক্ষাকে সামনে রেখে মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্য দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী কর্মশালা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষকদের মাধ্যমে ইমাম ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং সদস্যদের যোগাযোগ সহজ করতে ওয়েবসাইট ও সফটওয়্যার চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
আয়োজকরা স্পষ্ট করেন, ‘আহবাব কাফেলা’ কোনো প্রতিষ্ঠিত পরিমণ্ডলের বিকল্প নয়; বরং সবার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির একটি আন্তরিক প্রয়াস। এখানে কাউকে নিজের পরিচয় বিসর্জন দিতে হবে না। দলাদলি, পদমর্যাদার প্রতিযোগিতা বা প্রভাব বিস্তারের কোনো স্থান নেই। এটি কোনো ব্যক্তি, এলাকা বা প্রতিষ্ঠানের নয়; সবার।
আহ্বায়ক মুফতি গোলাম রাজ্জাক কাসেমী বলেন, “আমাদের পরিচয় ভিন্ন হতে পারে, কর্মক্ষেত্র ভিন্ন হতে পারে; কিন্তু আমাদের বন্ধন নরসিংদীকে ঘিরে, আমাদের সম্পর্ক ভ্রাতৃত্বের, আর আমাদের প্রত্যাশা একটি হৃদ্যতাপূর্ণ, ঐক্যবদ্ধ ও কল্যাণমুখী কাফেলা।”
আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ‘আহবাব কাফেলা নরসিংদী’ একবিংশ শতাব্দীর তরুণ আলেমদের মধ্যে সৌহার্দ্য, সহযোগিতা ও সম্মিলিত কল্যাণের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠবে, ইনশাআল্লাহ। সভা শেষে এই উদ্যোগে বরকত ও দ্বীন-মানুষের কল্যাণে একে অপরের সহযোগী হওয়ার তাওফিক কামনা করে দোয়া করা হয়।
