
আফগানিস্তানে আইএসআইএসকে পুরোপুরি দমন করা হয়েছে এবং দেশটিতে গোষ্ঠীটির কোনো বাস্তব উপস্থিতি নেই বলে জানিয়েছে ইমারাতে ইসলামিয়া। মধ্য এশিয়ার নিরাপত্তার জন্য আইএসআইএস-কে প্রধান হুমকি, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেছে আফগানিস্তান।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, লাভরভ আইএসআইএস-কে গোষ্ঠীকে মধ্য এশিয়ার নিরাপত্তার জন্য প্রধান হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তার মতে, গোষ্ঠীটি নিজেদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং পরবর্তী সময়ে একটি খিলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য আফগানিস্তানকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।
লাভরভ বলেন, “আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সন্ত্রাসবাদ এখনো সবচেয়ে ভয়াবহ চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। মধ্য এশিয়া অঞ্চলের জন্য প্রধান হুমকি নিঃসন্দেহে ইসলামিক স্টেটের শাখা উইলায়াত খোরাসানের পক্ষ থেকে আসছে। তারা নিজেদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং পরবর্তী সময়ে একটি খিলাফত প্রতিষ্ঠার সূচনাস্থল হিসেবে আফগানিস্তানকে ব্যবহার করতে চায়।”
সামরিকবিষয়ক বিশ্লেষক সারওয়ার নিয়াজি বলেন, “বর্তমানে আমরা দেখতে পাচ্ছি, আইএসআইএস আফগানিস্তানের কোনো অংশের নিয়ন্ত্রণ দাবি করেনি। তাই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের লড়াই প্রশংসনীয় এবং এ লড়াইকে সমর্থন করা উচিত।”
লাভরভের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইমারাতে ইসলামিয়ার মুখপাত্র মাওলানা জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, আফগানিস্তানে আইএসআইএসকে সম্পূর্ণভাবে দমন করা হয়েছে এবং দেশটিতে গোষ্ঠীটির আর কোনো বাস্তব উপস্থিতি নেই।
তিনি বলেন, ইমারাতে ইসলামিয়ার বাহিনী আফগানিস্তানের পুরো ভূখণ্ডের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। এ বিষয়ে প্রতিবেশী দেশগুলো ও বৃহত্তর অঞ্চলের কোনো উদ্বেগ থাকা উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, “আফগানিস্তানে আইএসআইএস সদস্যদের সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এখানে তাদের কোনো বাস্তব উপস্থিতি নেই। নিরাপত্তা বাহিনী আফগানিস্তানের পুরো ভূখণ্ডের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।”
আফগান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল মতিন কানি বলেন, “আঞ্চলিক পর্যায়ে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি। এমন কোনো সশস্ত্র বা নাশকতামূলক গোষ্ঠী নেই, যারা আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কিংবা সীমান্তের ওপারের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।”
এর আগে ইমারাতে ইসলামিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, আইএসআইএস এর বিরুদ্ধে চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত মাসে বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন এলাকায় গোষ্ঠীটির ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় গোষ্ঠীটির হতাহত ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সূত্র: তোলো নিউজ
