
শাইখুল হাদিস আল্লামা নূর উদ্দীন গহরপুরী (রহ.)-এর সম্পর্কে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিকের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
এক বিবৃতিতে দলটির মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, সিলেট তথা সমগ্র বাংলাদেশের গর্ব, বরেণ্য বুজুর্গ, শাইখুল হাদিস আল্লামা হাফিজ নূর উদ্দীন গহরপুরী রহ. এবং তাঁর স্মৃতিবিজড়িত গহরপুর অঞ্চল সম্পর্কে এম এ মালিক ঔদ্ধত্যপূর্ণ, অশালীন ও কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য দিয়েছেন।
তিনি বলেন, একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধির মুখে এ ধরনের আপত্তিকর বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আল্লামা নূর উদ্দীন গহরপুরী (রহ.) সমগ্র দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের শ্রদ্ধার পাত্র। তাঁর সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য এবং গহরপুর অঞ্চলের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত হানে, এমন বক্তব্য লাখো মানুষের হৃদয়কে আহত করেছে।
খেলাফত মজলিসের মহসিচিব বলেন, সাম্প্রতিক এ বক্তব্যের পেছনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও সংকীর্ণ মানসিকতা কাজ করছে বলে জনমনে ধারণা সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিগত নির্বাচনে আল্লামা গহরপুরী (রহ.)-এর ছেলে এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু এম এ মালিকের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জের ধরে একজন মরহুম আলেম এবং তাঁর স্মৃতিবিজড়িত জনপদকে নিয়ে কটাক্ষ করা কোনো সভ্য রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হতে পারে না।
তিনি বলেন, যিনি একসময় নিজেকে নির্যাতনের শিকার বলে দাবি করেছেন, আজ তিনিই ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও ধর্মপ্রাণ জনগণের অনুভূতিকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছেন। একজন সংসদ সদস্যের কাছ থেকে এমন উসকানিমূলক বক্তব্য জাতি প্রত্যাশা করে না।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, দলের জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্যের বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা গ্রহণ করা প্রয়োজন। ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও জনগণের আবেগ-অনুভূতিতে আঘাত হানে, এমন বক্তব্য থেকে দলীয় সংসদ সদস্যদের বিরত রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
তিনি অবিলম্বে এম এ মালিককে তাঁর আপত্তিকর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য প্রত্যাহার করে জনসমক্ষে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানান।
