
ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায় জানাতে ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে লাখো মানুষের ঢল নেমেছে। বৃহস্পতিবার ইমাম রেজার মাজারে দাফনের আগে শেষ জানাজা ও শোকযাত্রায় অংশ নিতে ভোর থেকেই মাজারমুখী সড়কগুলো শোকার্ত মানুষের ভিড়ে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বৃহস্পতিবার সকালে শহীদ হাশেমিনেজাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আয়াতুল্লাহ খামেনি ও তার পরিবারের নিহত সদস্যদের লাশ বহনকারী বিমান পৌঁছায়। এর আগে ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় কয়েক মিলিয়ন মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত বিদায়ী অনুষ্ঠানের কারণে মাশহাদের কর্মসূচির সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়। প্রথমে সকাল ৮টায় জানাজা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বিপুল জনসমাগমের কারণে তা স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় নির্ধারণ করা হয়।
শোকযাত্রার আগেই ইমাম রেজার মাজারের দিকে যাওয়ার সব সড়ক কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। শোকাহত জনতা মুখরিত করে তোলে পুরো এলাকা। অনেকের হাতে ছিল শহীদদের রক্তের প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে লাল পতাকা। শোকযাত্রা কার্যত লাল পতাকার সমুদ্রে পরিণত হয় এবং অংশগ্রহণকারীরা শহীদ নেতার হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত লাশবাহী যানবাহন এখনও মূল শোকযাত্রায় পৌঁছাতে পারেনি। বিপুল জনসমাগমের কারণে ইমাম রেজার মাজারে পৌঁছাতে উল্লেখযোগ্য সময় লাগবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে আয়াতুল্লাহ খামেনির লাশ ইমাম রেজা সড়ক হয়ে অষ্টম শিয়া ইমামের মাজারে নিয়ে যাওয়া হবে, যেখানে তার শেষ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে দাফন করা হবে।
আসামিদের ফেরত চেয়ে চারবার চিঠি দিলেও সাড়া দেয়নি ভারতআসামিদের ফেরত চেয়ে চারবার চিঠি দিলেও সাড়া দেয়নি ভারত
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় প্রথম দিনে আয়াতুল্লাহ খামেনি তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ নিহত হন।
শেষ বিদায়ের কর্মসূচি শুরু হয় শুক্রবার তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় লাশ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হওয়ার মধ্য দিয়ে। পরবর্তী দুই দিনে জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদন ও জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার তেহরানের রাজপথে লাখো মানুষ শেষ শোকযাত্রায় অংশ নেন। এরপর মঙ্গলবার কোম নগরীতে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
পরে শোকযাত্রা ইরাকে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে নাজাফে হজরত আলীর মাজার এবং কারবালায় ইমাম হুসাইন ও হজরত আব্বাসের মাজারে ঐতিহাসিক বিদায়ী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে কয়েক মিলিয়ন মানুষ অংশ নেন। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে লাশ আবার মাশহাদে ফিরিয়ে আনা হয় দাফনের চূড়ান্ত পর্ব সম্পন্ন করার জন্য।
সূত্র: প্রেসটিভি
