গাজ্জা সিটির পশ্চিমাঞ্চলের শিল্প এলাকায় দখলদার ইসরাইলের হামলায় আগে ক্ষতিগ্রস্ত একটি আবাসিক ভবন ধসে অন্তত ২০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয় শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ১০০ জন আটকা বা নিখোঁজ রয়েছেন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে ভবনটি ধসে পড়ে। ভবনটিতে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা আশ্রয় নিয়েছিলেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছেন বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মীরা। তবে প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের তীব্র সংকটে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
গাজ্জার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা নিখোঁজদের সন্ধান এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধারে কাজ চলছে। উদ্ধারকর্মীরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় হাতে করে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। উদ্ধারকাজের সময় ধ্বংসস্তূপ থেকে শিশুদের জীবিত উদ্ধারের দৃশ্যও দেখা গেছে।
ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ১০০ জন নিখোঁজ বা আটকা রয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতির সংকটের কারণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভবনটি এর আগে ইসরাইলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। গাজ্জায় এমন প্রায় ২ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে মানুষ বসবাস করছেন। যুদ্ধের কারণে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি নিরাপদ আবাসনের সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও অস্থায়ী আশ্রয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
জাতিসংঘের কর্মকর্তারাও গাজ্জায় উদ্ধারকাজে প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতির সংকট নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে বসবাসকারী মানুষের জন্য ভবিষ্যতে এ ধরনের ধসের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, আল-জাজিরা, ওয়াফা
