
ঝিনাইদহে ছাত্রদলের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজাকে গ্রেফতারের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
আজ রবিবার (২৪ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঝিনাইদহ স্টেডিয়াম সংলগ্ন ফ্যামিলি জোন মিলনায়তনের সামনে থেকে ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশের একটি টিম তাকে গ্রেপ্তার করে।
ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি এনামুল কবিরের দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারেক রেজাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়ে যখন সবাই ফেসবুকে সরব হচ্ছে তখন তার সাথে নিউজ ফিডে সমান তালে ভাসছে এক ঐতিহাসিক ছবি। ছবিটি তারেক রেজার। যা তোলা হয়েছে ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের একদম শুরুর সময়ে। সেই ১৭ জুলাই রংপুরে যখন আবু সাইদ মারা গেল তার স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে আয়োজিত হয়েছিল গায়েবানা জানাজা। সে সময় ছাত্রলীগ ও পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে শতাধিক আন্দোলনকারী অংশ নেয় সেই জানাজায়। আর ওই জানাজায় ইমামতি করেন আজকে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া তারেক রেজা।
তারেক রেজাকে গ্রেপ্তারের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ঐতিহাসিক ছবি পোস্ট করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সদস্য আমজাদ হোসেন হৃদয় লেখেন, ‘তারেক রেজা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে ভালো, ভদ্র ও মার্জিত ছেলেদের একজন। আমাদের বন্ধু ও সমসাময়িক যারা ভিন্ন আদর্শের রাজনীতি করে তারাও এটা স্বীকার করবে। তাকেও গ্রেফতার করা লাগলো।’
এ ছাড়াও সেই জানাজা নামাজের ছবি শেয়ার করেছেন জাতীয় সংসদের এমপি ডা. মাহমুদা মিতু, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও এনসিপির মুখ্য সংগঠক আসিফ মাহমুদ।
মাহমুদা মিতু নিজ ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে বলেন, ‘বাংলাদেশে সম্ভবত সবচেয়ে বেশি শহীদের জানাজা পড়াইছেন তারেক রেজা। গতকালের ঝিনাইদহে নাসিরের উপর হামলাকে কেন্দ্র করে তারেকের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। যেই হাতে এইরকম একটা মানুষের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার তথাকথিত মিথ্যা মামলা দেয়া হইসে, সেই হাত ধ্বংস হোক। যেই হাতে এই মিথ্যা মামলায় তাকে ১ নং আসামি করা হইসে, সেই হাত ধ্বংস হোক। যারা এই মিথ্যার খেলার ষড়যন্ত্রে জড়িত, তারা ধ্বংস হোক। তারেক রেজা, প্রাউড অফ ইউ। আল্লাহ তার প্রিয় বান্দাদের পরীক্ষা করেন। পরীক্ষায় সফল হোন, এই কামনা রইল, ফি আমানিল্লাহ।
আসিফ মাহমুদ লেখেন, কিছুক্ষণ আগেই কল দিয়ে নিজের এরেস্ট হবার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে তারেক। মাত্র দেখলাম তারেক রেজাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হামলা করে আবার ভিক্টিমের বিরুদ্ধেই মামলা দিয়ে জেল খাটানোর সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার জন্য ধন্যবাদ তারেক রহমান।
সেই এক ছবি পোস্ট করে ছাত্রশক্তির ঢাবি শাখার সভাপতি তাহমিদ আল মুদাচ্ছির লেখেন, তারেক রেজাকে তারেক রহমান, সালাউদ্দীনের পুলিশ মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করেছে। ঝিনাইদহে নাসির ভাই, তারেক রেজাদের উপর হামলা করে, উলটো তাদের নামে মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে। অন্যদিকে, আদালত হামলাকারীদের সবাইকে একসাথে জামিন দিয়েছে। কনটেক্সট ছাড়া ঘটনাটা পড়লে আপনাদের মনে হবে দেশ এখনো হাসিনার কাছে! মি. তারেক রহমান আপনাকেও সুদে আসলে এসবের মূল্য দিয়ে যেতে হবে।
উল্লেখ্য, ২৪ মে সন্ধ্যায় সাড়ে ৬টায় ঝিনাইদহ স্টেডিয়াম সংলগ্ন ফ্যামিলি জোন মিলনায়তনের সামনে থেকে ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশের একটি টিম তারেক রেজাকে গ্রেপ্তার করে।
জানা গেছে, এনসিপি নেতা তারেক রেজা রোববার সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের ফ্যামিলি জোন মিলনায়তনে জরুরি সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মিলনায়তনের সামনে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে তারেক রেজাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
সদর থানার ওসি মো. আসাদউজ্জামান বলেন, হামলা, ভাঙচুর, হত্যার হুমকির অভিযোগে গতকাল (শনিবার) এনসিপি নেতা তারেক রেজাসহ কয়েকজনের নামে মামলা হয়েছে। ঝিনাইদহ সদর থানায় দায়ের করা মামলার আসামি তারেক রেজাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারেও অভিযান চলমান আছে।
প্রসঙ্গত, গত ২২ মে শুক্রবার ঝিনাইদহ সফরে আসেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ওই দিন জুমার নামাজ শেষে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে এনসিপির নেতাকর্মীদের হাতাহাতি, মারামারি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
ওই ঘটনায় এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা বাদি হয়ে ছাত্রদলের স্থানীয় ৮ নেতাকর্মীকে আসামি করে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা করেন। ওই মামলার জেরে পরদিন দুপুরে তারেক রেজাসহ ২২ জনকে আসামি করে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি এনামুল কবির মামলা করেন।
