
উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) প্রকাশিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি কিছুটা কমলেও আগামী তিন দিনে তা আবার বাড়তে পারে। ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
বন্যা সতর্কবার্তায় বলা হয়, আগামী পাঁচ দিনে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার কিছু স্থানে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে সিলেট অঞ্চলেও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা জারি রয়েছে। কুশিয়ারা নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে নদীটির পানি বিপৎসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পাউবো জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কুশিয়ারা নদীর পানি বাড়লেও সুরমার পানি কিছুটা কমেছে। তবে আগামী তিন দিনে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আবার বাড়তে পারে। ফলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে চলমান বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে তা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদীর পানিও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় সৃষ্টি হওয়া লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে উত্তর ওডিশা, বিহার ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে টেকনাফে। ভারতের মেঘালয়ের কয়েকটি এলাকাতেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর প্রভাব দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোতে পড়তে পারে।
