
ইউক্রেন পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মস্কোর ওপর সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোররাতে চালানো এই হামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বিভিন্ন স্থানে আগুন লেগেছে এবং অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, রাজধানীমুখী ১৯৪টি ড্রোন রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, দেশজুড়ে মোট ৫৫৫টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে।
হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল মস্কোর কাপোতনিয়া এলাকায় অবস্থিত মস্কো অয়েল রিফাইনারি, যা ক্রেমলিন থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে শোধনাগারে বিস্ফোরণ ও ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
এ ছাড়া মস্কোর সাদোভোদ বাণিজ্য কেন্দ্রের কাছেও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি আবাসিক ভবন ও একটি ফিটনেস সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে রুশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলের একটি তেল ডিপো এবং অধিকৃত ইউক্রেনীয় অঞ্চলের দুটি সেতুতেও হামলা চালানো হয়েছে।
হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একে রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলার ‘ন্যায্য জবাব’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলা ক্রমেই আরও কার্যকর হয়ে উঠছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়াও পাল্টা হামলায় ৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৩৯টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এতে কিয়েভ ও পলতাভা অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনা ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই হামলার ঘটনা ঘটেছে ব্রাসেলসে ন্যাটো প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকের সময়। সেখানে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে ইউক্রেনের প্রতি সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে তাদের সামরিক উপস্থিতি পুনর্মূল্যায়নের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে।
