
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার রাত ও শুক্রবার ভোরে বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হয়েছে।
ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা বাহরাইনের একটি সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন বিমান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। কুয়েতের সেনাবাহিনী বলছে, তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাব দিচ্ছে। কাতারের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক শিশু আহত হয়েছে।
শুক্রবার ভোরে কাতারের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। হামলার পর দেশটিতে নিরাপত্তা ঝুঁকির মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জারি করা হয় সতর্কবার্তা। বার্তায় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানানো হয়।
তবে পরে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, কাতারকে লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী। এর কিছু সময় পর কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে এবং দেশের ওপর থাকা হুমকি কেটে গেছে। কাতার নিউজ এজেন্সির (কিউএনএ) বরাতে মন্ত্রণালয় জনগণকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার ভোর থেকে দেশটির আকাশসীমায় ৩২টি ‘শত্রু ড্রোন’ শনাক্ত করে সেগুলোকে সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কর্নেল সৌদ আবদুলআজিজ আল-আতওয়ান জানান, ড্রোনগুলো প্রতিহত করার সময় সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ কয়েকটি আবাসিক এলাকায় পড়ে। এতে কিছু বসতবাড়ি ও স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের হামলায় কুয়েতের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বাহরাইনও। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিমান হামলার সতর্কসংকেত জারি করে জনগণকে শান্ত থাকার পাশাপাশি নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
